West Medinipur News: প্রথম অস্ত্রোপচারে সাতবার হোঁচট, এখন জটিল অপারেশন সামলাচ্ছেন জঙ্গলমহলের মেয়ে

West Medinipur News: প্রথম অস্ত্রোপচারে সাতবার হোঁচট, এখন জটিল অপারেশন সামলাচ্ছেন জঙ্গলমহলের মেয়ে

Last Updated:

West Medinipur News: সমাজে মেয়েদের সার্জারির মত কঠিন ক্ষেত্রে আসতে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হত, সেখানে নিজের কঠোর পরিশ্রম আর মনোবলের জোরে অলি দাস অধিকারী আজ বহু তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। 

+

News18

বেলদা, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেও যাননি পড়তে। পরিবারের সবার ইচ্ছে ছিল বাড়ির মেয়ে ডাক্তার হবে। পারিবারিক ঐতিহ্যের ধারা মেনেই মানুষের সেবায় নিজেকে সঁপে দেওয়ার স্বপ্নও ছিল তাঁর চোখে। তবে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পাশ করে কিছুটা আশার আলো দেখেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার হবে। বাবা, মা কিংবা দাদু— তিন প্রজন্মই যুক্ত চিকিৎসা পেশায়। আর সেই আবহেই বেড়ে ওঠা পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদার মেয়ে অলি দাস অধিকারীর। তবে তাঁর এই পথচলা খুব একটা সহজ ছিল না।

উচ্চ মাধ্যমিকের পর প্রথমবার প্রবেশিকা পরীক্ষায় ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সুযোগ পেলেও পারিবারিক ইচ্ছে ছিল চিকিৎসক হবার। শেষমেশ ইঞ্জিনিয়ার না ডাক্তার, দ্বিধা কাটিয়ে পরিবার ও নিজের লক্ষ্যের টানেই বেছে নেন সাদা কোট আর স্টেথোস্কোপের দুনিয়া। পরিশ্রম আর অধ্যাবসায়ের মেলবন্ধনে অলি আজ অনেকের কাছেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

বাঁকুড়া সম্মিলনী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পূর্ণ করার পর জেনারেল সার্জারি নিয়ে এমএস ডিগ্রি অর্জন করেন অলি। কিন্তু অস্ত্রোপচারের টেবিলে নিজের দক্ষতা প্রমাণ করার লড়াইটা ছিল অন্যরকম। প্রথমবার অ্যাপেন্ডিক্স অপারেশনের সময় এক অদ্ভুত চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছিল তাঁকে। রোগীর ত্বক প্রথম প্রথম কাটতে গিয়ে বারবার হোঁচট খাচ্ছিলেন তিনি। তবে দমে না গিয়ে সাতবারের চেষ্টায় সফলভাবে সেই কাজ সম্পন্ন করেন। সেই ছোট ছোট অভিজ্ঞতাই আজ তাঁকে একজন আত্মবিশ্বাসী সার্জন হিসেবে গড়ে তুলেছে। বর্তমানে কলকাতার পিজি হাসপাতালে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করার পাশাপাশি অত্যন্ত জটিল অস্ত্রোপচারও অত্যন্ত নিপুণভাবে সামলাচ্ছেন তিনি।

প্রাথমিক পর্যায়ে চর্মরোগ নিয়ে উচ্চশিক্ষার ভাবনা থাকলেও পরবর্তীতে অলি প্লাস্টিক সার্জারিকেই নিজের বিশেষ ক্ষেত্র হিসেবে বেছে নেন। তাঁর মতে, চিকিৎসার কাজ শুধু রোগ সারানো নয়, বরং মানুষের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়াও এর একটি বড় অঙ্গ। রক্ত কিংবা কাটাছেঁড়া দেখে যেখানে অনেকেই ঘাবড়ে যান, সেখানে অলি তাঁর সাহসিকতা আর নিপুণ হাতের ছোঁয়ায় রোগীদের সুস্থ করে তুলছেন।

যে সমাজে মেয়েদের সার্জারির মতো কঠিন ক্ষেত্রে আসতে অনেক বাধার সম্মুখীন হতে হতো, সেখানে নিজের কঠোর পরিশ্রম আর মনোবলের জোরে অলি দাস অধিকারী আজ বহু তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার প্রতীক হয়ে উঠেছেন। তাঁর এই সফল পথচলা প্রমাণ করে যে, সঠিক লক্ষ্য আর পরিশ্রম থাকলে যে কোনও কঠিন বাধাই জয় করা সম্ভব।

Post Comment

You May Have Missed