তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য ! গেট বন্ধ থাকায় আটকে পড়ে মৃত্যু ! 

তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য ! গেট বন্ধ থাকায় আটকে পড়ে মৃত্যু ! 

কলকাতা, তিলজলা : তিলজলা অগ্নিকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর তথ্য ! এবারও সেই গেট বন্ধ থাকায় আটকে পড়ে মৃত্যু ! 

একইভাবে নাজিরাবাদ অগ্নিকাণ্ডেও মৃত্যুমিছিল, ২৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। স্টিফেন কোর্টেও চিলেকোঠায় আটকে পড়ে মৃত্যুমিছিল, ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তিলজলার ‘ডেল্টা লেদার কমপ্লেক্স’ কারখানার জোড়া গেট। মেইন গেটের সামনে ফোম রাখা থাকা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে আগুন। এই আগুনের জেরে মেইন গেট দিয়ে বেরোতে পারেননি কর্মীরা। কারখানার দ্বিতীয় গেটেও ঝুলছিল তালা, আটকে পড়েন কর্মীরা। যখন তখন কর্মীদের বেরনো রুখতে বন্ধ থাকে দ্বিতীয় গেট। ধোঁয়ায় দমবন্ধ নিয়ে শৌচালয়ে গিয়ে আশ্রয় নেন কর্মীরা। কিন্তু শেষরক্ষা হয়নি। 

আপাতত বেআইনি নির্মাণ ভাঙতে তিলজলায় ‘বুলডোজার’। ভেঙে ফেলা হচ্ছে কারখানা-সহ ২টি বাড়ি। নিয়ম না মেনে বিপজ্জনকভাবে চলা বাকি কারখানাগুলির কী হবে? বিধি বিপজ্জনকভাবে চলা কারখানাগুলিকে চিহ্নিত করবে প্রশাসন। প্রয়োজনে কেটে দেওয়া হবে জলের লাইন ও বিদ্যুৎ সংযোগ। অগ্নি-সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত না করলে, মিলবে না ছাড়পত্র, এমনটাই খবর প্রশাসন সূত্রে। 

সরকারের বড় পদক্ষেপ, একাধিক কলেজের পরিচালন সমিতির সভাপতিদের সরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ 

পুলিশ, দমকল এবং প্রশাসন সূত্রে জানা যাচ্ছে, তিলজলায় যে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তা ভয়ঙ্কর। নিমেষেই পুরো জায়গাটা মৃত্যুকূপে পরিণত হয়েছিল। যেহেতু ওই কারখানায় ব্যাগ তৈরি হতো, তাই মজুত ছিল প্রচুর ফোম। অনুমান, শর্ট সার্কিটের কারণেই আগুন লেগেছিল কারখানায়। ফোমের মধ্যে দ্রুত আগুন ধরে যায় এবং ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে। বেআইনি বাড়ির নীচে ছিল অবৈধ কারখানা। বাড়ির মেন গেটের সামনে প্রচুর আগুন জ্বলছিল। দাউদাউ করে ওই এলাকা জ্বলতে থাকায় আগুনের কারণে ওই গেট দিয়ে বেরনো যায়নি। ফোমের মধ্যে আগুন লাগে, বদ্ধ জায়গা, আগুনের সঙ্গে সঙ্গে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়তে থাকে। তবে ছোট আরেকটি গেট ছিল তা তালাবন্ধ ছিল। অনেকসময় কর্মীরা এই গেট দিয়ে যাতায়াত করতেন। তবে কেউ যাতে কাজের মাঝে বেরিয়ে যেতে না পারেন, তাই ওই ছোট গেট তালাবন্ধ করে রাখা হয়েছিল। 

একটা এমন জায়গা যেখানে অগ্নি নির্বাপনের কোনও ব্যবস্থা নেই, অগ্নি সুরক্ষা বিধি নেই, বদ্ধ জায়গা, প্রচুর দাহ্য পদার্থে ঠাসা, আগুন লেগে পুরো জায়গায় দাউদাউ করে জ্বলছে, ধোঁয়ায় ভরে গিয়েছে – অথচ সেখান থেকে বেরনোর কোনও রাস্তা নেই। একটা গেটের সামনে আগুন জ্বলছে। আরেকটা গেট তালাবন্ধ, যাতে যখন তখন কর্মীরা কাজ ফেলে বেরিয়ে যেতে না পারেন। কার্যত মৃত্যুকূপ ছিল এই কারখানা। অসহায় কর্মীরা ধোঁয়ায় আটকে পড়ে মারা গিয়েছে। একটি বাথরুমে আশ্রয় নিয়েও শেষরক্ষা হয়নি। ৫ জনকে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে ২ জনকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়। বাকি ৩ জন এখনও সঙ্কটজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। 

Post Comment

You May Have Missed