তেলের দাম বাড়তেই ‘জোটশক্তি’ তৈরির পথ খুঁজছেন Donald Trump

তেলের দাম বাড়তেই ‘জোটশক্তি’ তৈরির পথ খুঁজছেন Donald Trump

নয়াদিল্লি : হরমুজ প্রণালীকে স্বাধীন করতে চান ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্ববাজারে অশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তেই শঙ্কার মেঘ দেখছে ওয়াশিংটনও। বৃহস্পতিবার এক ধাক্কায় আকাশ ছুঁয়েছে অশোধিত তেলের দাম। ভেঙে দিয়েছে অতীতের রেকর্ড। তারপর থেকেই চিন্তিত সব পক্ষ। চিন্তিত আমেরিকাও। তবে এই আচমকা মূল্যবৃদ্ধির কারণ কী? শুধুই কি যুদ্ধ?

এদিন বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম জুন মাসের সরবরাহের জন্য বেড়ে ব্যারল প্রতি ১২৫ মার্কিন ডলারে পৌঁছে যায়। অর্থাৎ ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১১ হাজার ৮৬১ টাকা। শেষবার ৪ বছর আগে ২০২২ সালে এমন পরিমাণ দাম বেড়েছিল অশোধিত তেলের। তারপর বাড়ল এই বছর। এক ধাক্কায় সাতসকালে ১২০ ডলারের মার্জিনও পেরিয়ে গেল Brent Crude। একই ভাবে আমেরিকা ভিত্তিক West Texus Intermediate-এর দাম বেড়ে পৌঁছে গিয়েছিল ১০৭ ডলার প্রতি ব্যারল। তবে দিনশেষে দু’টি অশোধিত তেলের প্রতি ব্যারলের দাম খানিকটা থিতু হয়েছে। Brent Crude নেমে এসেছে ১১৪ ডলার প্রতি ব্যারলে। West Texus Intermediate নেমে এসেছে ১০৫ ডলার প্রতি ব্যারলে।

ওয়াকিবহাল মহল বলছে, আচমকা শান্তি-বৈঠকে কাঁটা ফেলেই তেলের দামে আগুন ধরিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। প্রথম দফার ব্যর্থ শান্তি-বৈঠক, তারপর থেকে ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের এই পর্ব নিয়ে কম জলঘোলা হয়নি! বার্তা-পাল্টা বার্তা, এমনকি হুঙ্কারও — সবই হয়েছে। তবে দ্বিতীয়বার শান্তি-বৈঠকে বসার প্রস্তুতি নিয়ে দুই দিকেই দেখা গিয়েছে টালবাহানা। কখনও এই প্রসঙ্গ এড়িয়ে গিয়েছে আমেরিকা, কখনও এড়িয়ে গিয়েছে তেহরান নিজে। এই আবহেই ইরানকে আবার ‘উচ্চাকাঙ্ক্ষী’ বলে কটাক্ষ করলেন ট্রাম্প। সাফ বলেছেন, “ইরান পারমাণবিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নিজেদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে সরে না এলে তাদের সঙ্গে কোনও চুক্তি করা সম্ভব নয়।” এছাড়াও সামরিক অভিযানের ইঙ্গিত তিনি এই পর্বে একাধিকবার দিয়ে ফেলেছেন। আর এই সব মিলিয়ে শিরে সংক্রান্তি অবস্থা হয়েছে বিশ্ব বাজারের।

এই আবহাওয়া যে আমেরিকার জন্য অনুকূল, এমনটাও নয়। সরাসরি স্বীকার না-করলেও হাবেভাবে অস্বস্তির ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। রয়টার্স সূত্রে খবর, হরমুজ প্রণালীর স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করছে আমেরিকা। একটি আন্তর্জাতিক জোটশক্তি তৈরির বার্তা দিতে চায় তারা। এই আবহেই আবার পেন্টাগন জানিয়েছে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে তাদের এখনও পর্যন্ত ২৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার খরচ হয়ে গিয়েছে। ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ২ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা। সুতরাং যুদ্ধের মাশুল যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকেও গুনতে হচ্ছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই। তার মধ্যেই আবার তেলের দামবৃদ্ধি।

আরও পড়ুন : নদীতে ভ্রমণের সময়ই ভয়াবহ নৌকাডুবি! চোখের সামনে জলের স্রোতে তলিয়ে গেলেন পর্যটকরা

বিশ্ববাজারের এই হাওয়া বদল দেশের অন্দরে কি প্রভাব ফেলবে? এই নিয়ে নানা জল্পনাই তৈরি হয়েছিল। কেউ কেউ দাবি করেছিলেন, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে যে ভোট চলছে তা মিটলেই নাকি পেট্রোল-ডিজ়েলের দাম বাড়বে। তবে মঙ্গলবার কেন্দ্রের তরফে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, পেট্রোল-ডিজ়েলের দাম বাড়বে না। পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা জানিয়েছেন, “আপাতত পেট্রোল-ডিজেলের দাম অপরিবর্তীত থাকবে।”  যদিও এই খবর কেন্দ্র জানিয়েছিল আন্তর্জাতিক বাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়ার আগে। নতুন করে দাম বৃদ্ধি ফ্যাক্টর হবে কিনা সেই উত্তর এখনও অধরা।

Previous post

পাকিস্তানের মুখে ভারতের প্রশংসা ! জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় মোদি সরকারের মডেলই ‘সেরা’, মানলেন প

Next post

Iran’s New Weapon : “হার্ট অ্যাটাক না হয়…”, ‘ব্রহ্মাস্ত্র’ হাতে ট্রাম্পকে হুমকি ইরানি নৌ-প্রধানের

Post Comment

You May Have Missed