বাইরে থেকে সিল করা স্ট্রং রুমে কারা? EVM পাল্টানো হচ্ছে? ভিডিও দেখিয়ে অভিযোগ তৃণমূলের

বাইরে থেকে সিল করা স্ট্রং রুমে কারা? EVM পাল্টানো হচ্ছে? ভিডিও দেখিয়ে অভিযোগ তৃণমূলের

কলকাতা: ভোটগ্রহণ পর্ব মিটেছে। গণনা এখনও বাকি। তার আগেই অশান্তি। খাস কলকাতার বুকে, ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রে স্ট্রংরুমে EVM বদলের অভিযোগ উঠল। সেখানে অসুরক্ষিত অবস্থায় EVM পড়ে রয়েছে এবং বহিরাগতরা ভিতরে ঢুকেছে বলে অভিযোগ তোলে তৃণমূল। একটি ভিডিও ফুটেজও প্রকাশ করে তারা। সেই নিয়ে কুণাল ঘোষ, শশী পাঁজারা ধর্নায় বসেন। সেখানে পৌঁছন বিজেপি-র তাপস রায়, সন্তোষ পাঠক। তাপসকে দেখে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান ওঠে। পাল্টা ‘জ শ্রীরাম’ স্লোগান তোলে বিজেপি। উত্তেজনা ছড়ায় সেখানে। (Khudiram Anushilan Kendra Strong Room)

উত্তর কলকাতার সাতটি বিধানসভা কেন্দ্রের EVM  রয়েছে ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্রের ওই স্ট্রং রুমে। তৃণমূল যে সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ করেছে, তাতে বেশ কয়েকজনকে দেখা যায়, যার মধ্য়ে মহিলাও ছিলেন। EVM নিয়ে তাঁরা কিছু করছেন বলে দেখা যায় ভিডিও-তে। তৃণমূল দাবি করে, সব দলের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতিতে সেখানে ব্যালট বক্স খোলার বেআইনি চেষ্টা চালাচ্ছে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের একাংশ। (West Bengal Election 2026)

 

এর পরই সেখানে পৌঁছে যান কুণাল, শশীরা। সেখানে গেটের সামনে ধর্নায় বসে পড়েন। কুণাল বলেন, “ভিতরে লোক ঢুকে হাতে হাতে ব্যালট ঘুরছে। সেটা তো বাইরে টিভি স্ক্রিন, কমিশনের স্ট্রিমিংয়েই দেখা যাচ্ছে! তাহলে আমাদের ঢুকতে দাও! তোমরা যদি বলে থাকো ‘আমাদের মেল করা হয়েছে!’ আমরা মেল দেখাচ্ছি ঢুকতে দাও। তাহলে মেল করার মানে কী? মুখে বলছো ডাকা হয়েছে। অথচ দেখতে এসছি ঢুকতে দেবে না। সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার অভাব। এখন বলা হচ্ছে, ভিতরে নাকি নদিয়ারও পোস্টাল ব্যালট এসেছে। জানি না সত্য়ি কি না।”

 

শশী বলেন, “আজ ভোর রাতে সব EVM নিয়ে, সিলড EVM স্ট্রং রুমে ভরে দেওয়া হয়েছে। তালা মারা হয়েছে, সিল করা হয়েছে। সেটা আজ খোলা হল কেন? যখন সব দল নেই? কারা ঢুকলেন, কী কাজ হচ্ছে, ব্যালট কোথায় যাচ্ছে, কেন যাচ্ছে? আমরা প্রার্থী। পূর্ণ অধিকার আছে জানার।”

 

বেশ কিছু ক্ষণ অবস্থান চলার পর সেখানে পৌঁছন বিজেপি-র তাপস এবং সন্তোষ। আর তাতেই উত্তেজনা ছড়ায়। তাপসকে দেখে তৃণমূলের তরফে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান তোলা হয়। পাল্টা বিজেপি-র তরফে ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগান তোলা হয়। সেখানে পুলিশের সঙ্গে বচসায়ও জড়ান তাপস এবং সন্তোষ। স্ট্রং রুমের সামনে কী করে জমায়েত করছে তৃণমূল, প্রশ্ন তোলেন তাঁরা। তাহলে বিজেপি-ও জমায়েত করবে বলে জানান।

 

পরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে কুণাল বলেন, “নির্বাচন কমিশন, পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী রাজি হয়েছে, আমাদের না জানিয়ে কোনও অবস্থায় স্ট্রং রুম খোলা হবে না। ঢুকতে দেওয়া হবে না কাউকে। এর বাইরে যেখানে আরও সিসি ক্যামেরা লাগানো দরকার, তারা লাগাবে। আর তার ইনপুট বাইরে থেকে দেখা যাবে। অর্থাৎ গোপনে, চুপি চুপি কোনও কাজ হবে না। ফলে আমরা এখন বেরিয়ে যাচ্ছি। আমাদের একটা টিম মনিটরিংয়ে থাকবে। বাকি সবাই জায়গাটা ফাঁকা করে দিন।”

এদিন সেখানে ফের অ্য়াকশন মোডে দেখা যায় পুলিশকে। লাঠি উঁচিয়ে তৃণমূল এবং কংগ্রেসের লোকজনকে বের করে দেন তাঁরা। এর পর গার্ডরেল বসায় কেন্দ্রীয় বাহিনী। গোটা এলাকা এখন পুলিশের নিয়ন্ত্রণে। প্রহরায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা।

Previous post

একটি দলের ধারেকাছে আসতে পারবে না কেউ! আজকের Exit Poll যে তথ্য দিচ্ছে তা চমকে দেওয়ার মতোই!

Next post

LPG Cylinder Update: বিরাট বদল রান্নাঘরে, LPG ছাড়াও বেশ কিছু নিয়মে তৈরি হবে খাবার, জেনে নিন ‘মর্ডান কিচেন থিওরি’

Post Comment

You May Have Missed