রাজ্যে ভোটের পরই দাম বাড়বে পেট্রোল-ডিজেলের ? কী বলছে সরকার
Petrol Diesel Crisis : পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ পরিস্থিতির ফল ভুগছে বিশ্ব বাজার। হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনার ফলে আজও স্বাভাবিক হয়নি জাহাজ চলাচলের বিষয়টি। যে কারণে অপরিশোধিত তেলের সরবরাহে প্রভাব পড়েছে। এর জন্য সবথেকে বেশি ধাক্কা খেয়েছে ভারত। ক্রুড অয়েলের দামে অস্থিরতা থাকায় দেশে পেট্রোল, ডিজেলের দামও (Petrol Diesel Price) বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সাধারণ মানুষ। সম্প্রতি এই নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে। বলা হচ্ছে, পশ্চিমবঙ্গের ২৯ এপ্রিল ভোটের পরই বাড়বে পেট্রোল-ডিজেলের দাম। অবশেষে এই নিয়ে মুখ খুলল সরকার।
আতঙ্কে বন্ধ করা হয়েছে ৪২১টি পেট্রোল পাম্প
সম্প্রতি দক্ষিণের রাজ্য় অন্ধ্রপ্রদেশে এই জল্পনার মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। হঠাৎ করে বিপুল পরিমাণে পেট্রোল-ডিজেল কেনা শুরু হয়েছে অন্ধ্রে। ‘প্য়ানিক বায়িং মোডে’ চলে গেছে রাজ্য। যার ফলে রবিবার চারশোরও বেশি পেট্রোল পাম্প বন্ধ করে দিয়েছে চন্দ্রবাবু নাইডুর সরকার। সব মিলিয়ে জ্বালানি আতঙ্কে জেরবার অবস্থা হয়েছে সাধারণ মানুষের। মূলত, পাঁচ রাজ্য়ে ভোট শেষ হলে পেট্রোলের দাম বাড়বে বলে আশঙ্কা করছে দেশবাসী। এটা তারই প্রতিফলন। যা নিয়ে মঙ্গলবার মুখ খুলেছে সরকার।
কী বলেছে পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক
দক্ষিণের ঘটনা ইতিমধ্যেই চোখ খুলে দিয়েছে সরকারের। যা নিয়ে পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুজাতা শর্মা বলেছেন, “আমরা কিছু কিছু জায়গায় আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটার ঘটনা লক্ষ্য করেছি। আমরা রাজ্য সরকারগুলির সঙ্গে এই বিষয়ে প্রতিনিয়ত যোগাযোগ রাখছি। সব খুচরো বিক্রয় কেন্দ্রগুলির ওপর নজরদারি চালাচ্ছে সরকার। এই সময়ে পেট্রোল পাম্পে সরবরাহের বিষয়টি অগ্রাধিকার দিয়ে দেখা হচ্ছে, যাতে পর্যাপ্ত মজুদের বিষয়টি নিশ্চিত করা যায়। কোনও কেন্দ্রেই যাতে জ্বালানি ফুরিয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সেই বিষয়টি দেখা হচ্ছে।”
দাম বৃদ্ধির কোনও প্রস্তাব এখন নেই
এই বিষয়ে বিভিন্ন জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে শর্মা বলেন, “পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়ানোর কোনও প্রস্তাব বর্তমানে নেই। আমাদের কাছে এলপিজি, পেট্রোল ও ডিজেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। জ্বালানির দাম স্থিতিশীল রয়েছে ও দরের ক্ষেত্রে কোনও বৃদ্ধি ঘটেনি।” এই প্রসঙ্গে জনসাধারণকে গুজবে কান না দিতে পরামর্শ দেন পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব। তিনি বলেন, “আমি সকলের কাছে বিনীত অনুরোধ করছি, দয়া করে গুজবে কান দেবেন না। আতঙ্কিত হয়ে কেনাকাটা করা থেকে বিরত থাকুন এবং তথ্যের জন্য কেবল সরকারি সূত্রগুলির ওপরই নির্ভর করুন।”



Post Comment