পেট্রোল নিয়ে টেনশনের দিন শেষ ! এবার রাস্তা দাপাবে ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ কার, সরকার নিচ্ছে বড় উদ্যোগ

পেট্রোল নিয়ে টেনশনের দিন শেষ ! এবার রাস্তা দাপাবে ‘ফ্লেক্স-ফুয়েল’ কার, সরকার নিচ্ছে বড় উদ্যোগ

Flex Fuel News Update : ভারতের পেট্রোল নির্ভরতার দিন শেষ। শীঘ্রই সেই জ্বালানির জায়গা নেবে ফ্লেক্স ফুয়েল (Flex Fuel)। যেখানে ৮৫ শতাংশ ইথানলের (Ethanol)  সঙ্গে থাকবে কেবল ১৫ শতাংশ পেট্রোল (Petrol)। রিপোর্ট বলছে, এই বিষয়ে বড় প্ল্য়ান নিয়েছে সরকার।   

মধ্যবিত্তের গাড়ির জ্বালানি খরচ কমবে
সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে শীঘ্রই দেশের রাস্তায় নামতে চলেছে ফ্লেক্স ফুয়েলের এই বিশেষ ধরনের গাড়ি। যে গাড়িতে ৮৫ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত জ্বালানি (E85) চলবে, এতে থাকবে ১৫ শতাংশ পেট্রোল। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রকের এই পরিকল্পনা সফল হলে মধ্যবিত্তের পকেটে টান পড়া কমবে। পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি করা তেলের ওপর ভারতের নির্ভরতাও কমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কেন এই বিকল্পের প্রয়োজন ?
বর্তমানে আমেরিকা-ইরান যুদ্ধের জেরে হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। যে কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েই চলেছে। এই দাম অনেক সময় ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাচ্ছে।  ভারতের পরিবহন ক্ষেত্র মূলত পেট্রোলের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় বিদেশের সামান্য অস্থিরতাও সরাসরি দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে। এই ধাক্কা সামলাতেই সরকার ‘দেশি’ জ্বালানির ওপর জোর দিচ্ছে।

E85 ফর্মুলা আসলে কী ?
২০২৫ সালে সারা দেশে ২০ শতাংশ ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল (E20) ব্যবহারের নিয়ম চালু হয়েছিল। তবে অনেক ক্ষেত্রে মাইলেজ ও ইঞ্জিনের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই এবার সরকার সরাসরি নজর দিচ্ছে E85 জ্বালানিতে। এতে ৮৫ শতাংশ ইথানল ও মাত্র ১৫ শতাংশ পেট্রোল থাকবে।

ফ্লেক্স-ফুয়েল ভেহিকেল (FFV) তৈরি করতে হবে
এই জ্বালানির জন্য প্রয়োজন হবে বিশেষ ধরনের ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনগুলি এমনভাবে ডিজাইন করা হবে যাতে উচ্চ মাত্রার ইথানল ব্যবহার করলেও গাড়ির পারফরম্যান্স বা মাইলেজে কোনও ঘাটতি না হয়।

কবে আসবে এই গাড়ি ?
সোমবার কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রকে এই বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। যাতে বিশেষজ্ঞ দল ও অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থাগুলি (SIAM) তাদের বিস্তারিত পরিকল্পনার কথা সবাইকে জানিয়েছে। সরকারি তেল কোম্পানিগুলিও এই বিশেষ জ্বালানি সরবরাহের পরিকাঠামো নিয়ে কাজ শুরু করেছে। মূলত, আত্মনির্ভর ভারত গড়ার জন্যই এই উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।

কী থেকে হবে ফ্লেক্স ফুয়েল
আশা করা হচ্ছে, সরকারের এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন কৃষকরা লাভবান হবেন (আখের ছিবড়ে বা শস্য থেকে ইথানল তৈরি হয়), অন্যদিকে দূষণমুক্ত সবুজ জ্বালানির দিকেও আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে দেশ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই পরিকল্পনা সফল হলে আগামী দিনে গাড়ির জ্বালানি খরচ অনেকটাই সাশ্রয় হবে সাধারণ মানুষের।

Previous post

Mamata Banerjee: ‘নিজের হাতে মাছ রান্না করে খাওয়াব..,’ মোদির ঝালমুড়ির পাল্টা মমতার মাছ-ভাত! ভোটের ‘ঝাঁঝ’ বাড়াচ্ছে বাঙালির খাবার

Next post

রাজস্থান রয়্যালসের ক্রিকেটারকে এক বছরের নির্বাসনের শাস্তি দিল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড!

Post Comment

You May Have Missed