বিরিয়ানি খেতে গিয়ে নগদে বিল মিটিয়েছিলেন? রেস্তরাঁ ব্যবসায় ৭০০০০ কোটি টাকার দুর্নীতির পর্দাফাঁস
নয়াদিল্লি: করফাঁকির অভিযোগ ছিল তিন জনপ্রিয় বিরিয়ানি সংস্থার বিরুদ্ধে। সেই নিয়ে তল্লাশিতে নেমে চোখ ছানাবড়া হওয়ার জোগাড়। বড় জালিয়াতি চক্রের সন্ধান পেল আয়কর বিভাগ। অভিযোগ, করফাঁকি দিতে বিভিন্ন রেস্তরাঁ ব্যবসা সংক্রান্ত তথ্য গোপন করেছে। সবমিলিয়ে প্রায় ৭০০০০ কোটি টাকার আয় গোপন রাখা হয় বিভিন্ন রেস্তরাঁর তরফে। বিশেষ করে নগদ লেনদেন লুকনো হয় বলে অভিযোগ। রেস্তরাঁ ব্যবসায় এত বড় কর জালিয়াতি আগে ধরা পড়েনি বলে জানা যাচ্ছে। (Restaurant Billing Scam)
হায়দরাবাদের তিন জনপ্রিয় বিরিয়ানি সংস্থাই প্রথমে নজরে ছিল। সেই মতো গত বছর নভেম্বর মাসে তাদের বিভিন্ন রেস্তরাঁয় হানা দেয় আয়কর বিভাগ। আর তাতেই বিভিন্ন রেস্তরাঁর ৭০০০০ কোটি টাকার আয় গোপন করার বিষয়টি সামনে এসেছে বলে খবর। একটি সর্বভারতীয় বিলিং সফ্টওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে, ২০১৯-’২০ সাল থেকে এই কাণ্ড চলছিল বলে জানা গিয়েছে। (Income Tax)
আয়কর আইনের ১৩৩এ ধারায় গোটা তদন্তপ্রক্রিয়া চালানো হয়েছে। ২০১৯-’২০ থেকে ২০২৫-’২৬, এই ছয় অর্থবর্ষের লেনদেন সংক্রান্ত ৬০ টেরাবাইট তথ্য খতিয়ে দেখা হয়। আয়কর বিভাগ সূত্রে খবর, দেশের ১ লক্ষের বেশি রেস্তরাঁ ওই বিলিং সফ্টওয়্যার ব্যবহার করে, যা কি না ভারতের রেস্তরাঁ ব্যবসার প্রায় ১০ শতাংশ।
আয়কর আধিকারিকরা মোট ২.৪৩ লক্ষ কোটি টাকা মূল্যের বিল পরীক্ষা করে দেখেন। তদন্তে উঠে আসে, বিল তৈরির পর ১৩, ৩২৭ কোটি টাকার হিসেব মুছে দেওয়া হয়। ইচ্ছাকৃত ভাবে বিক্রিবাটা গোপন করা হয় বলেই মনে করছেন আয়কর আধিকারিকরা। হায়দরাবাদে আয়কর বিভাগের ডিজিটাল ল্যাবে ফরেনসিক পরীক্ষা হয়। AI ব্যবহার করে ১.৭৭ লক্ষ রেস্তরাঁর ID, GST নম্বর, PAN সংক্রান্ত তথ্য খুঁটিয়ে দেখেন তদন্তকারীরা।
বিপুল পরিমাণ আয় গোপন রাখতে একাধিক পন্থা নেওয়া হয় বলে দাবি আয়কর বিভাগের। তাদের দাবি, ১) কার্ড, UPI, নগদ লেনদেনের সব কিছু প্রথমে সিস্টেমের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। কিন্তু আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার আগে, বেছে বেছে লেনদেনের কিছু অংশ মুছে ফেলা হয়। বিশেষ করে নগদ লেনদেনের তথ্য মুছে ফেলা হয় বলে অভিযোগ। অর্থাৎ রেস্তরাঁয় খাওয়া করে যাঁরা নগদ টাকায় বিল মেটান, সেই সব বিল সরিয়ে ফেলা হয়। সেভাবেই আয় কম দেখায় রেস্তরাঁগুলি। ২) কিছু ক্ষেত্রে রেস্তরাঁগুলি ৩০ দিন পর্যন্ত সময়সীমার আয়ের রেকর্ড মুছে ফেলে। পরবর্তীতে সামান্য আয় দেখিয়ে আয়কর রিটার্ন জমা করে। ৩) কিছু ক্ষেত্রে আবার পুরোপুরি মুছে না ফেলে, আয় কম দেখানো হয়।
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অন্ধ্রপ্রদেশ এবং তেলঙ্গানায় ৩৭৩৪ PAN থেকে ৫১৪১ কোটি টাকা আয় গোপন করা হয়। ওই দুই রাজ্যে ৪০টি রেস্তরাঁ প্রায় ৪০০ কোটি টাকা কম আয় দেখিয়েছে। কিছু ক্ষেত্রে আবার আয়ের ২৭ শতাংশই আড়াল করা হয়। রাজ্যগুলির মধ্যে কর্নাটকেই সবচেয়ে বেশি টাকার ব্যবসার হিসেব মুছে ফেলা হয়, প্রায় ২০০০ কোটি টাকার, তেলঙ্গানায় ১৫০০ কোটি এবং তামিলনাড়ুতে ১২০০ কোটি। মহারাষ্ট্র এবং গুজরাতেও ভূরি ভূরি জালিয়াতি চোখে পড়েছে।
গোড়ায় এই তদন্ত ছিল হায়দরাবাগ নির্ভর, যা পরবর্তীতে বিশাখাপত্তনম এবং অন্যত্র পৌঁছয়। তবে বিলিং সফ্টওয়্যার প্ল্যাটফর্ম অপব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসার পর নড়েচড়ে বসে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ডায়রেক্ট ট্যাক্সেস। দেশব্যাপী রেস্তরাঁ শিল্পে যে বিলিং সফ্টওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহৃত হচ্ছে, সেগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



Post Comment