Messi in Kolkata: ‘কলঙ্কিত’ কলকাতায় মেসির টাইমলাইন; ঘড়ির কাঁটা মিলিয়ে যখন যেখানে ছিলেন কিংবদন্তি…
দেবাঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়: শীতের ভোররাতেই ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় তিলোত্তমায় পা রেখেছিলেন লিয়োনেল মেসি। নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তাঁকে স্বাগত জানাতে এসেছিলেন হাজার-হাজার ভক্ত। ‘মেসি গোট ইন্ডিয়া ট্যুর’ (GOAT India Tour 2025)- এর শুভ সূচনা হয়েছিল কলকাতা দিয়েই। তবে সকাল হয়ে বেলা গড়াতেই ভয়ংকর ছন্দপতন ঘটে। যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গন বদলে যায় যুদ্ধক্ষেত্রে। বাকিটা ইতিহাস। বিশ্বজয়ী আর্জেন্টাইন বরপুত্রের আতিথেয়তায় কলকাতা তথা গোটা বাংলার মুখ পোড়ে বিশ্বের দরবারে…
ফিরে দেখা কলকাতায় মেসির সারাদিন:
সকাল ৯-৩০: স্টেডিয়াম সংলগ্ন পাঁচতারা হোটেলে মেসির ‘মিট অ্যান্ড গ্রিট’ সেশন
সকাল ১০-১০: হোটেল থেকেই মেসির ভার্চুয়ালি ৭০ ফুট উঁচু মূর্তি উন্মোচন। কলকাতার ভিআইপি রোডে যা বসেতে চলেছে। মেসির সঙ্গে ছিলেন শাহরুখ খান।
সকাল ১০-৪০: ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে মেসির সঙ্গে স্পেশাল ফটোশ্যুট।
সকাল ১১-২৮: হোটেল থেকে বিলাসবহুল গাড়িতে স্টেডিয়ামে আসেন মেসি।
সকাল ১১-৩০: গাড়ি থেকে নামতেই প্রায় ১৫০ জন সেলিব্রিটি ও মন্ত্রী-আমলাদের ঘেরাটোপে মেসি।
সকাল ১১-৩৫: মোহনবাগান ও ডায়মন্ডহারবার এফসি’র ফুটবলারদের সঙ্গে করমর্দনের জন্য এগিয়ে যান মেসি।
সকাল ১১-৪০: হ্যান্ডশেকের মাঝেই ছবি তোলার ধাক্কাধাক্কি। সাইডলাইন থেকে দৌড়ে ঢুকে পড়েন তথাকথিত প্রভাবশালীরা। পুলিশ নির্বিকার। রীতিমতো বিরক্ত হন মেসি। বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারকে এই দল থেকেই দেওয়া হয় ধাক্কা, তিনি ছিটকে যান।
সকাল ১১-৪২: মাঠ প্রদক্ষিণ করার কথা ফলাও করে ঘোষণা করা হয়। কিন্তু মেসিকে ঘিরে ভিড়ের চাপে পরিকল্পনার দফারফা। গ্যালারির দিকে সামান্য হাত নেড়েই বেরিয়ে যান মেসি-সুয়ারেজ-ডি পল। এরপর ঢুকে পড়েন গাড়ির মধ্যে।
সকাল ১১-৫৭: নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী যুবভারতীতে প্রায় ঘণ্টা দেড়েক থাকার কথা ছিল। কিন্তু বেলাগাম পরিস্থিতিতে মাত্র ২২ মিনিট ছিলেন মেসি। তারপরই তাঁকে গাড়িতে তুলে দেয় কোর টিম। মাঠ থেকে সোজা বিমানবন্দরে রওনা দেন তিনি।
সকাল ১১-৫০: স্টেডিয়ামে আসেন শাহরুখ খান। প্রবল উত্তেজনার মধ্যে গাড়িতে বসে থাকেন শাহরুখ খান।
সকাল ১১-৫৫: মেসি মাঠ ছাড়তেই তীব্র ক্ষোভ মাথাচাড়া দেয়। বৃষ্টির মতো উড়ে আসে জলের বোতল।
দুপুর ১২-০০: বাকেট চেয়ার ভেঙে ছুড়ে ফেলেন দর্শক। কার্যত হতভম্ব হয়ে যায় পুলিশ। প্রবল উত্তেজনার মধ্যেই মাঠ থেকে বেরিয়ে স্টেডিয়ামের ভিতরে নিজের অফিসে ফেরেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস।
দুপুর ১২-১৫: ব্যারিকেড-ফেন্সিং উপড়ে মাঠে নেমে আসেন হাজার হাজার মানুষ। অবাধে চলে ভাঙচুর। গোলপোস্টের নেট খুলে নেওয়া হয়।
দুপুর ১২-৪৫: ক্ষুব্ধ দর্শকদের ধাওয়া করে পুলিশ। মৃদু লাঠিচার্জও চলে।
দুপুর ০১-১৮: গোটা ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এক্স-হ্যান্ডলে পোস্ট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের। পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন তদন্তের কমিটি গঠনের
দুপুর ১-৩০: খালি করা হয় গ্যালারি। স্টেডিয়ামের বাইরে প্রবল বিক্ষোভ সামলাতে বাড়ানো হয় ফোর্স।
দুপুর ০২-৩০: স্টেডিয়ামে সাংবাদিক বৈঠক করেন পদস্থ পুলিশ কর্তারা। অন্যতম আয়োজক শতদ্রু দত্তকে দমদম বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতারের ঘোষণা।
আরও পড়ুন: ১০x১০! আরবসাগরের তীরে মিললেন GOD-GOAT, প্রথম দেখায় স্মরণিকা বিনিময় সচিন-মেসির…
আরও পড়ুন: মেসিকে দেখতে এসে ৩০০ টাকায় বাসি চাউ-পচা মাংস! ভিডিয়ো দেখে আঁতকে উঠছে নেটপাড়া…
আরও পড়ুন: কেউ ভাঙল চেয়ার, কেউ ছিঁড়ল জাল, কেউ তুলল কার্পেট! যুবভারতীর ভাঙচুর যেন বাংলাদেশের গণভবন লুঠপাট…
আরও পড়ুন: ‘যে ভিআইপিদের সেখানে থাকার কথা নয়…’! এবার বিস্ফোরক কল্যাণ-বাইচুং-বাজাজ…
আরও পড়ুন: ‘এরপরই বিরক্ত হয়ে মেসি…’! কার জন্য রণক্ষেত্র যুবভারতী? প্রকাশ্যে চাঞ্চল্যকর তথ্য
(দেশ, দুনিয়া, রাজ্য, কলকাতা, বিনোদন, খেলা, লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য, প্রযুক্তির টাটকা খবর, আপডেট এবং ভিডিয়ো পেতে ডাউনলোড-লাইক-ফলো-সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের App, Facebook, Whatsapp Channel, X (Twitter), Youtube, Instagram পেজ-চ্যানেল)



Post Comment