হাইকোর্টের দেওয়া সময়সীমা শেষ, তবে পুশ ব্যাক করা সোনালি এখনও ফিরলেন না দেশে
বাংলাদেশ অনুপ্রবেশকারী সন্দেহে বিগত কয়েক মাসে কয়েকশো জনকে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছে ভারতের তরফ থেকে। অবশ্য ভারত থেকে বিতাড়িত হওয়া মানুষজনের মধ্যে কয়েকজন সত্যি সত্যি ভারতের নাগরিক বলে অভিযোগ ওঠে। এই আবহে আদালতে মামলাও হয়। সেই ধরনেরই এক মামলায় সোনালি খাতুন-সহ ৬ জনকে ভারতে ফেরানোর নির্দেশ দিয়েছিল কলকাতা হাইকোর্ট। তবে সোনালিদের ফিরিয়ে আনার জন্য বেঁধে দেওয়া সময়সীমা পার হলেও এই নিয়ে সরকার কোনও পদক্ষেপ করেনি বলে অভিযোগ করলেন তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ সামিরুল হোসেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বিভিন্ন রাজ্য থেকে বাংলাদেশি সন্দেহে নাকি বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের আটক করা হচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশ থেকে কয়েক লাখ মানুষ চোরা পথে ভারতে অনুপ্রবেশ করে এখানেই বসবাস করছে। দিল্লি থেকে বেঙ্গালুরু বিভিন্ন জায়গায় এই সব বাংলাদেশিরা কাজ করে। এরপর বিভিন্ন উপায়ে বাংলাদেশের বাড়িতে টাকাও পাঠায় তারা। অনেকেই ইদের সময় চোরা পথে বাংলাদেশে গিয়ে কয়েকদিন করে কাটিয়েও আসে। এদের অনেকেই এখানে বিয়ে করেছেন। এই ধরনের অবৈধবাসীদের সম্প্রতি বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করছে ভারত।
এরই মাঝে সোনালি সহ ৬ জনকে বাংলাদেশে পুশ ব্যাক করার বিরোধিতায় কলকাতা হাইকোর্টে মামলা হয়েছিল। এই আবহে কলকাতা হাইকোর্ট সেই ৬ জনকে চার সপ্তাহের মধ্যে দেশে ফেরত আনার জন্য নির্দেশ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারকে। ২৪ অক্টোবর সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। তবে অভিযোগ, কেন্দ্রীয় সরকার কোনও উদ্যোগ নেয়নি সোনালিদের ফেরাতে। এর মধ্যে সোনালি অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গিয়েছে। এই আবহে তৃণমূলের সামিরুল ফের আইনি লড়াইয়ের তোড়জোড় শুরু করেছেন বলে দাবি করা হল রিপোর্টে।
এই ঘটনা প্রসঙ্গে এক ভিডিয়ো বার্তায় রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজা বলেন, ‘বিজেপি সর্বদা একটি ঔপনিবেশিক মানসিকতা নিয়ে কাজ করে আসছে। সেই মানসিকতা বাংলার মানুষকে তাদের বুটের তলায় পিষে ফেলতে চায়। যখন তাদের আর্থিক অবরোধ এবং অপবাদ প্রচারণা বাংলার চেতনা ভাঙতে ব্যর্থ হয়, তখন তারা আরও ঘৃণ্য কিছুর আশ্রয় নেয়: বৈধ ভারতীয় নাগরিকদের ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে চিহ্নিত করে সীমান্ত পেরিয়ে তাদের নির্বাসিত করা হচ্ছে। গত ২৬শে সেপ্টেম্বর কলকাতা হাইকোর্ট স্পষ্টভাবে নির্বাসিত ব্যক্তিদের ভারতীয় নাগরিক ঘোষণা করে এবং চার সপ্তাহের মধ্যে তাদের দেশে প্রত্যাবাসনের নির্দেশ দেয়। এমনকী বাংলাদেশের একটি আদালতও ঢাকার ভারতীয় হাইকমিশনকে তাদের দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তবুও, চার সপ্তাহ পেরিয়ে গেছে, এবং বিজেপি-নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকার একেবারেই কিছুই করেনি।’



Post Comment