Onion Farming: ভিনরাজ্যের ওপর নির্ভর করে থাকার দিন অতীত, কম দামে মিলবে ঘরের মাঠের পেঁয়াজ! সরকারের নয়া প্ল্যান

Last Updated:

Onion Farming: বাইরের রাজ্যের ওপর নির্ভরতা কাটাতে পূর্ব মেদিনীপুরে বড়সড় পদক্ষেপ! রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনার আওতায় ১৫ একর জমিতে সরকারি উদ্যোগে পেঁয়াজ চাষ। ফলে আগামী দিনে সাধারণ মানুষ নিজেদের জেলায় উৎপাদিত টাটকা পেঁয়াজ সাশ্রয়ী মূল্যে পাবেন।

+

সরকারি উদ্যোগে জেলায় পেঁয়াজ চাষ (ছবি সৌজন্যে এআই)

সৈকত শী, তমলুক: পেঁয়াজের জোগান ও দাম নিয়ে বাইরের রাজ্যের ওপর দীর্ঘদিনের নির্ভরতা কাটাতে এবার এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ করল পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন। রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনার আওতায় জেলায় এই প্রথম সরকারি উদ্যোগে বৃহৎ আকারে পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। এতদিন মূলত ধান এবং পানের চাষের জন্য এই জেলা পরিচিত থাকলেও, এবার কৃষির বহুমুখীকরণের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও চাঙ্গা করতে ময়দানে নেমেছে ‘কম্প্রিহেনসিভ এরিয়া ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন’ বা সিএডিসি (CADC)। এর ফলে জেলার সাধারণ মানুষ খুব শীঘ্রই নিজেদের জেলায় উৎপাদিত টাটকা পেঁয়াজ সাশ্রয়ী মূল্যে বাজারে কিনতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সাধারণত পশ্চিমবঙ্গ তথা পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পেঁয়াজের বাণিজ্যিক উৎপাদন সেভাবে হয় না বললেই চলে। রাজ্যের বিপুল চাহিদার তুলনায় স্থানীয় উৎপাদন নগণ্য হওয়ায় ভিন রাজ্যের সরবরাহের ওপরই নির্ভর করতে হয়। শীতকালীন আবহাওয়া পেঁয়াজ চাষের জন্য অত্যন্ত অনুকূল হওয়া সত্ত্বেও সদিচ্ছা ও সুসংহত পরিকল্পনার অভাবে এতদিন এই জেলায় বৃহৎ পরিসরে পেঁয়াজ চাষের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। পাঁশকুড়া, কোলাঘাট, পটাশপুর ও এগরা সহ জেলার বিভিন্ন প্রান্তে অন্যান্য শাকসবজি ও ফসলের প্রাচুর্য থাকলেও পেঁয়াজের ক্ষেত্রে এই ঘাটতি এবার পূরণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমদানি নির্ভরতা কমানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করার যৌথ লক্ষ্যেই সিএডিসি এই রবি মরশুমে ১৫ একর জমিতে পেঁয়াজ চাষের কাজ শুরু করেছে।

আরও পড়ুন: সুন্দরবনে ১ কোটি ‘প্রপাগিউল’ বীজ, ম্যানগ্রোভ বাড়বে ঝড়ের গতিতে! মাস্টারস্ট্রোক বন দফতরের

এই বিশেষ উদ্যোগ সম্পর্কে বলতে গিয়ে সিএডিসির বিশিষ্ট কৃষিবিদ আশীষ কুমার বেরা জানান, রাজ্যে পেঁয়াজের যে দৈনিক চাহিদা রয়েছে, তার উৎপাদন অত্যন্ত কম এবং চাহিদার ধারেকাছেও পৌঁছানো যায় না। এই ঘাটতি ঘোচাতে রবি মরশুমে বিশেষ উচ্চফলনশীল ‘সুখ সাগর’ প্রজাতির পেঁয়াজ চাষের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জেলার ১৫ একর জমিতে এই চাষ সফল করতে ইতিমধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং প্রায় ৬০ থেকে ৭০ টন পেঁয়াজ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধার্য করা হয়েছে। এর ফলে পূর্ব মেদিনীপুরের স্থানীয় বাজারের পেঁয়াজের চাহিদা মেটানো এবং বাজারে কৃত্রিম মূল্যবৃদ্ধি রোধ করা অনেকাংশেই সম্ভব হবে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

আরও পড়ুন: অস্ত্রের দরকার নেই, বিপদের মুখে হাতিয়ার হবে ওড়না, পেন, ক্লিপ! আত্মরক্ষার নিনজা টেকনিক জানুন

সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই পেঁয়াজ চাষের পুরো প্রক্রিয়াটিতে স্বনির্ভর গোষ্ঠীর গ্রামীণ মহিলাদের যুক্ত করে তাঁদের সুনির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। সিএডিসি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন কৃষিকাজ ও পশুপালনের মাধ্যমে মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলছে। এর আগে জেলায় বিভিন্ন মসলা জাতীয় ফসলের সফল চাষ করে দেখানোর পর, এবার রাষ্ট্রীয় কৃষি বিকাশ যোজনার হাত ধরে পেঁয়াজ চাষের এই নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হলো। প্রশাসনিক ও কৃষি দপ্তরের এই সময়োপযোগী পদক্ষেপে একদিকে যেমন পেঁয়াজের জোগান বাড়বে, অন্যদিকে তেমনই গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান ও আর্থিক ক্ষমতায়নের মাধ্যমে পূর্ব মেদিনীপুরের অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন ইতিবাচক অধ্যায়ের সূচনা হতে চলেছে।

Previous post

Healing Touch: বাঁকুড়ার ‘হিলিং টাচ’-এ হাঁটুর ব্যথার চিকিৎসা! নামমাত্র খরচে মিলছে জয়েন্টের সমস্যার সমাধান? জানুন

Next post

Murshidabad News: মন্ত্রীর ‘নির্দেশ’, মুর্শিদাবাদের সব থানায় বড় করে কালীপুজোর উদ্যোগ শুরু

Post Comment

You May Have Missed