East Bardhaman: EWS সার্টিফিকেট পেতে ৩ মাসের হয়রানি! ৪ হাজার টাকা ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধৃত সরকারি আধিকারিক
Last Updated:
তিন মাস ধরে একটি সরকারি শংসাপত্রের জন্য ঘুরে শেষ পর্যন্ত ঘুষের ফাঁদে পড়তে হয়েছিল এক যুবককে। তবে টাকা দিয়ে কাজ করানোর বদলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরব হয়ে প্রশাসনের দ্বারস্থ হন তিনি। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই এই অভিযান চালায় দুর্নীতি দমন শাখা।
পূর্ব বর্ধমান: মুখের কথায় ফাইল নড়ে না! সরকারি দফতরে কাজ করাতে গেলে দিতে হয় উৎকোচ! এমনই অভিযোগ উঠল পূর্ব বর্ধমানের গুসকরায়। অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির (EWS) শংসাপত্র পেতে তিন মাস ধরে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে ঘুরেও কাজ হয়নি এক যুবকের। সমস্ত প্রয়োজনীয় নথি জমা দিয়েও মেলেনি সার্টিফিকেট। অভিযোগ, শেষ পর্যন্ত কাজ দ্রুত করিয়ে দেওয়ার জন্য তাঁর কাছে পাঁচ হাজার টাকা ঘুষ চাওয়া হয়। পরে ফোনে দর কষাকষির মাধ্যমে চার হাজার টাকায় রফা হয়। কিন্তু মেরুদণ্ড সোজা রেখে দুর্নীতির কাছে মাথা নত করেননি ওই যুবক। সরাসরি যোগাযোগ করেন কলকাতার অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চের সঙ্গে। তাঁদের পাতা ফাঁদেই ঘুষ নিতে গিয়ে হাতেনাতে ধরা পড়লেন ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের এক আধিকারিক।
পূর্ব বর্ধমানের আউশগ্রামের গুসকরার বাসিন্দা মৃন্ময় চক্রবর্তী। EWS সার্টিফিকেট করানোর জন্য গত তিন মাস ধরে গুসকরার ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরে ঘুরছিলেন তিনি। অভিযোগ, প্রয়োজনীয় সমস্ত নথি জমা দেওয়ার পরেও তাঁর কাজ হচ্ছিল না। শেষ পর্যন্ত তাঁকে জানানো হয়, পাঁচ হাজার টাকা দিলেই দ্রুত মিলবে শংসাপত্র। পরে ফোনে কথাবার্তার মাধ্যমে ওই দফতরের রেভিনিউ ইনস্পেক্টর অলোক ধারার সঙ্গে চার হাজার টাকায় রফা হয় বলে অভিযোগ। এরপরই পুরো বিষয়টি ফোনে অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চকে জানান মৃন্ময়। অভিযোগ পাওয়ার পরই দুর্নীতি দমনে ফাঁদ পাতে রাজ্যের অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চ। কলকাতা থেকে আধিকারিকদের গুসকরায় পৌঁছতে কিছুটা সময় লাগবে বলে টাকা দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত করতে দেরি হয়। শেষ পর্যন্ত ঠিক হয়, অফিস ছুটির পর গুসকরা রেল স্টেশনে ওই টাকা দেবেন মৃন্ময়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, গুসকরা স্টেশনে পৌঁছে যান অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। বিশেষ রাসায়নিক মেশানো নোট তুলে দেওয়া হয় মৃন্ময়ের হাতে। আগেই নোটগুলির নম্বর লিখে রাখা হয়েছিল। এরপর সাধারণ পোশাকে স্টেশন চত্বরে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েন দুর্নীতি দমন শাখার আধিকারিকরা। অভিযোগ, ভূমি ও ভূমি সংস্কার দফতরের রেভিনিউ ইনস্পেক্টর অলোক ধারা স্টেশনে এসে মৃন্ময়ের হাত থেকে টাকা নিতেই তাঁকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চের আধিকারিকরা। মৃন্ময় বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত ওই আধিকারিককে ধরিয়ে দিতেই অ্যান্টি করাপশন ব্রাঞ্চের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করেছিলেন তিনি। তাঁদের নির্দেশ মেনেই পরবর্তী পদক্ষেপ করেন। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ীই ঘুষ নেওয়ার সময় ওই আধিকারিককে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি তাঁর।

Post Comment