‘মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির খবর রাখছে, ১৮০ জনের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে’, চাঞ্চল্যকর অভিযোগ মন্ত্রীর

কলকাতা : “অভিষেকের (অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়) হায়ার করা লোক আছে। তারা মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির খবর রাখছে।” চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুললেন রাজ্যের মন্ত্রী অর্জুন সিং। এদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে বলেও দাবি পরিবহনমন্ত্রীর। অর্জুন সিং বলেন, “১৮০ জনের একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে। অভিষেকের দ্বারা হায়ার করা লোক আছে। তারা মুখ্যমন্ত্রীর গতিবিধির খবর রাখছে। মুখ্যমন্ত্রীর মুভমেন্ট…কোথায় যাচ্ছেন, সেই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে ওরা…কোন কোন জায়গায় যাচ্ছেন, কোন কোন জায়গা থেকে বেরোলেন…সবটাই ওদের স্পাইগিরি, মানে ক্ষতি করার জন্য এটা করা হচ্ছে। অভিষেক করাচ্ছে। আমার মনে হচ্ছে অভিষেককে ইমিডিয়েট গারদে ঢুকিয়ে দেওয়া দরকার।”

অর্জুন সিংয়ের এই অভিযোগের পাল্টা মমতা-পন্থী তৃণমূলের নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় বলছেন, “ওঁর কথার কোনও মূল্য আছে ? ওঁর বিরুদ্ধেই তো খুনের অভিযোগ ছিল। ওঁর বিরুদ্ধেই তছরুপের অভিযোগ ছিল। সেটা বিজেপি করেছিল। ওঁকেই তো ওঁরা হার্ডেন্ড ক্রিমিনাল বলেছিল। এখন আবার ওদের দলের গেছে। এখন ওঁকে ভেসে থাকতে হবে। পার্টির কাছে নম্বর বাড়াতে হবে। তাই, এইসব কথা বলছেন। হাস্যকর কথা। ডবল ইঞ্জিনের সরকার। এত বড় বড় এজেন্সি। তারপরেও কোনও হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ হতে পারে ? মুখ্যমন্ত্রী তো ২০-২৫টি গাড়ির কনভয় নিয়ে যাচ্ছেন। মুখ্যমন্ত্রী তো ২০-২৫টা গাড়ি নিয়ে যাচ্ছেন। আর এত সিকিউরিটি । এই সমস্ত কথা বলে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেন। কিন্তু, এই সমস্ত কথার কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। যার নিজেরই রাজনৈতিক জীবনে কোনও বিশ্বাসযোগ্যতা নেই, তাঁকে তাঁর দলের ব্যারাকপুরের এমএলও মানেন না…ওঁর কথা ওঁর দলই যখন মানে না, তখন ওঁর কথার কী বিশ্বাসযোগ্যতা আছে ? একটা ভিত্তিহীন অভিযোগ।”

প্রসঙ্গত, মণীশ শুক্লা হত্যাকাণ্ডে জড়িতের সঙ্গে কেন মঞ্চে ? এনিয়ে সম্প্রতি পরিবহনমন্ত্রী ও নোয়াপাড়ার বিজেপি বিধায়ক অর্জুন সিংয়ের ভূমিকায় প্রশ্ন তুলেছেন দলেরই বিধায়ক কৌস্তভ বাগচী। অর্জুন সিংয়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত সম্পর্ক বলে জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের পদত্যাগী নেতা উত্তম দাস। কৌস্তভ বাগচীর মন্তব্যকে গুরুত্ব দিতে নারাজ অর্জুন সিং। গোটা বিষয়টিকে বিজেপির গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বলে খোঁচা দিতে ছাড়েনি মমতা-তৃণমূল কংগ্রেস।

এই ইস্যুতে কৌস্তভ বলেছিলেন, “যেখানে মণীশ শুক্লার বাবা মণীশ শুক্লা হত্যা মামলায় উত্তম দাসের নাম লিখছেন, প্রশান্ত চৌধুরীর নাম লিখছেন, তাঁরা যদি আমাদের নেতাদের পাশে বসে ছবি তোলেন, এক মঞ্চে থাকেন, এটা দেখতে ভাল লাগে ? অর্জুনবাবুর প্রতি আমার রাগ, ক্ষোভ কোনওটাই নেই। শুধু হাতজোড় করে অনুরোধ করব, আপনি আমাদের দলের বড় নেতা…আপনি তো আমাদের অভিভাবক। আপনি যদি এই ধরনের ভুল-চুখ করে ফেলেন মাঝে মাঝে, তাহলে সেখানে আমাদের মুখ পোড়ে। জনগণের কাছে আমরা ছোট হই। আমার মনে হয় অর্জুনবাবু এই বিষয়গুলো আস্তে আস্তে শুধরে নেবেন। উনি অনেক বড় মাপের নেতা। আমি এ ধরনের কথাগুলো ওঁকে কীভাবে বলব ? একাধিকবার এর আগে বলেছি। তারপরে আমি জানি না উনি কী বিচারবুদ্ধিতে এগুলো করছেন।” 

Post Comment

You May Have Missed