‘শুভেন্দুই হতে পারতেন তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী’! পুরভোটের আগেই বিস্ফোরক ফিরহাদ, মমতাকে ফের ‘ভক্ত ছেড়ে রক্তে ভরসা’ নিয়ে খোঁচা ববির

Last Updated:

Firhad Hakim: পুরভোটে আর লড়বেন না কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তার আগেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পর্ক, দলের অন্দরের মান-অভিমান এবং পুরনো তৃণমূলের স্মৃতি নিয়ে মুখ খুলে বিস্ফোরক মন্তব্য তাঁর।

পুরভোটের আগেই বিস্ফোরক ফিরহাদ, ছবিতে বাঁদিকে-ফিরহাদ হাকিম, ডানদিকে-শুভেন্দু অধিকারী
পুরভোটের আগেই বিস্ফোরক ফিরহাদ, ছবিতে বাঁদিকে-ফিরহাদ হাকিম, ডানদিকে-শুভেন্দু অধিকারী

কলকাতা: দু’দু’বার কলকাতা পুরসভার মেয়র, পাঁচবারের কাউন্সিলর! তবে এবার পুরভোটে আর লড়বেন না কলকাতার প্রাক্তন মেয়র ফিরহাদ হাকিম৷ পুরভোটের বাদ্যি বাজতে না বাজতেই সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল বিধায়ক৷ দীর্ঘ তিন দশকের বেশি সময় ধরে ঘাসফুল শিবিরের ছায়ায় লড়াই করা, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একদা ছায়াসঙ্গী ‘ববি’র গলায় অভিমানী সুর৷ ‘ভক্ত ছেড়ে রক্তে ভরসা’ নিয়ে ফের মমতাকে খোঁচা ফিরহাদের৷ শুধু তাই নয়, ফিরহাদের দাবি, তৃণমূলে থাকলে শুভেন্দু অধিকারীই হতে পারতেন মুখ্যমন্ত্রী! পুরভোটের আবহে ফিরহাদের এই মন্তব্য ঘিরে স্বাভাবিকভাবেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে।

‘আমাদের কী সুন্দর একটা সংসার ছিল’, পুরনো তৃণমূলের স্মৃতিচারণ

একসময়ের তৃণমূলের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলের কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন ফিরহাদ। তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং প্রয়াত মুকুল রায়ের প্রসঙ্গও। পুরনো দলের সহকর্মীদের সঙ্গে কাটানো দিনের স্মৃতি রোমন্থন করে ফিরহাদ বলেন, “আমাদের কি সুন্দর একটা সংসার ছিল।”

এরপরই শুভেন্দু অধিকারীকে নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করেন তিনি। ফিরহাদের কথায়, “আমরা কি ছিলাম না? আমাদের মাথার উপর তুমি হেলিকপ্টার থেকে নিয়ে এসে বসিয়ে দিলে! এটা একটা কষ্ট। এটা যদি না হতো, তাহলে আজকে ধরুন… তৃণমূলের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী! আমরা অনেক চান্স হারিয়েছি, একটা দুঃখ, একটা কষ্ট থাকবে নিশ্চয়ই।”।

‘আমরা সরিনি, এটা ভুল’, মমতার সঙ্গে দূরত্ব নিয়ে কী বললেন ফিরহাদ?

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মান-অভিমানের কারণেই তাঁর পাশ থেকে সরে গিয়েছেন ফিরহাদ হাকিম, এমন ধারণা ঠিক নয় বলেই দাবি তাঁর। এ প্রসঙ্গে ফিরহাদ বলেন, “আমরা সরিনি, এটা ভুল। আমার কথা আমি বলতে পারি, যে মান-অভিমান হয়েছে, আগেও হয়েছিল। সেকেন্ড হচ্ছে যে, এত কিছু করার পরে দলের দায়িত্বের সময় কাজ করার সময় যদি আমার ধর্ম দেখা হয়, সেটা একটা কষ্ট লাগে।”

দীর্ঘদিন ধরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে রাজনৈতিক পথ চলার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে ফিরহাদ বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমাদের নেত্রী। আমার পুরো যৌবনটা তাঁর আন্দোলনে, তাঁর সঙ্গে কেটেছে। ৩৫ বছর সঙ্গে ছিলেন। তারপরে কী দরকার ছিল যে ভক্তকে ছেড়ে দিয়ে রক্তকে নিয়ে এসে মাথায় বসিয়ে দেওয়া?”

নাম না করেই ‘ভক্ত’ ও ‘রক্ত’-এর প্রসঙ্গ তুলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করেছেন তিনি। দলের প্রতি দীর্ঘদিনের আনুগত্যের পরেও কেন তাঁকে আগের মতো গুরুত্ব দেওয়া হল না, সেই প্রশ্নই যেন উঠে এসেছে ফিরহাদের বক্তব্যে।

Post Comment

You May Have Missed