Money Making Tips: দামি মেশিন লাগে না, ইনভেন্টমেন্ট নামমাত্র! সামান্য ‘এই’ জিনিস বেচে ঘরে আসছে হাজার হাজার টাকা

Last Updated:

Money Making Tips: কোনও দামি যন্ত্রপাতি বা বড় মূলধন ছাড়াই স্রেফ নারকেল কাঠি ও প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে দিনবদল পশ্চিম মেদিনীপুরের নারায়ণগড়ে। অলঙ্কারপুর ও গুঁড়ি গ্রামের ২০টি পরিবার এই কুটির শিল্পের মাধ্যমে মাসে আয় করছেন ২০-২৫ হাজার টাকা।

+

নারকেল কাঠির ঝাঁটা তৈরি করে স্বনির্ভর হয়েছে বহু পরিবার (ছবি সৌজন্যে এআই)

নারায়ণগড়, রঞ্জন চন্দ: চটকদার প্লাস্টিকের রমরমা বাজারেও ম্লান হয়নি সাবেকি নারকেল ঝাঁটার কদর। বরং গৃহস্থালির প্রয়োজনে আজও এর বিকল্পহীন চাহিদাকে সম্বল করে স্বনির্ভরতার দিশা দেখছে পশ্চিম মেদিনীপুরের প্রত্যন্ত জনপদ। কোনও ভারী যন্ত্রপাতি বা বড় পুঁজির কারখানা ছাড়াই স্রেফ নারকেল পাতার কাঠি আর সামান্য প্লাস্টিকের দড়ি দিয়ে দিনবদল ঘটাচ্ছেন নারায়ণগড় ব্লকের মকরামপুর পঞ্চায়েতের অলঙ্কারপুর ও গুঁড়ি গ্রামের বাসিন্দারা। ঘরোয়া এই কুটির শিল্পই এখন এলাকার অন্তত কুড়িটি পরিবারের সংসারে লক্ষ্মীলাভের মূল চাবিকাঠি হয়ে উঠেছে।

ভোরের আলো ফুটতেই দুই গ্রামের বাড়ির দাওয়ায় দাওয়ায় শুরু হয়ে যায় সাজ সাজ রব। কাঁথি, তমলুক ও মোহাড়ের মতো পূর্ব মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে বস্তাভর্তি নারকেল কাঠি এনে জমা করা হয় উঠোনে। পরিবারের পুরুষ ও মহিলারা হাত মিলিয়ে ছোট-বড় মাপ অনুযায়ী সেই কাঠি চার ভাগে বাছাই করেন। কারও কুড়ি বছরের অভিজ্ঞতা, তো কারও আবার বংশপরম্পরায় বয়ে চলা রুটিরুজি। দক্ষ আঙুলের টানে শক্তপোক্ত করে দড়ি পেঁচিয়ে তৈরি হয় নিখুঁত ঝাঁটা। একেকজন দক্ষ শ্রমিক দিনে প্রায় তিনশোটি পর্যন্ত ঝাঁটা বাঁধতে পারেন। সবমিলিয়ে প্রতিদিন গড়ে তৈরি হচ্ছে প্রায় দেড় হাজার ঝাঁটা।

আরও পড়ুন: নিখোঁজ ছেলেকে ফেরাতে তন্ত্র সাধনার জিনিস চেয়ে শর্ত! স্ক্যানারে টাকা চেয়ে প্রতারণার ফাঁদ

গুণমান এবং মাপ অনুযায়ী প্রতিটি ঝাঁটার পাইকারি ও খুচরো দর মেলে ১০ থেকে ৪০ টাকা পর্যন্ত। মেদিনীপুরের এই ঘরোয়া শিল্পের খ্যাতি এখন আর নিজের জেলার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বাঁকুড়া, পুরুলিয়া ও ঝাড়গ্রাম ছাড়িয়ে এই ঝাঁটা ট্রাকে চেপে পাড়ি দিচ্ছে সুদূর বিহার ও ছত্তিশগড়ের মতো ভিন রাজ্যেও। ফলে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি মিটিয়েও একেকটি ব্যবসায়ী পরিবারের ঘরে প্রতি মাসে গড়ে অনায়াসেই কুড়ি থেকে পঁচিশ হাজার টাকা নিট রোজগার উঠে আসছে।

আরও পড়ুন: প্রতি বছর নতুন কেনার ঝামেলা শেষ, মাটির প্রতিমাকে টেক্কা দিয়ে বাজিমাত পিতলের লক্ষ্মী মূর্তির

আধুনিক প্রযুক্তির চোখধাঁধানো যুগে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ ছাড়া সামান্য কাঁচামালকে হাতিয়ার করে এমন নিশ্চিত জীবিকা গড়ে তোলার দৃশ্য নজর কেড়েছে সকলের। সামান্য ঝাড়ুদারের পেশা হিসেবে অবহেলা না করে এই কাজকে আঁকড়েই নিজেদের সংসার চালানো থেকে ছেলেমেয়েদের পড়াশোনার খরচ, সবই স্বাচ্ছন্দ্যে সামলাচ্ছেন এই কুড়িটি পরিবারের সদস্যরা। বাজারচলতি প্লাস্টিক পণ্যের জৌলুসকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে নিজেদের তৈরি পণ্যে আস্থা রেখেই আগামী প্রজন্মকে নিয়ে নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখছেন গুঁড়ি ও অলঙ্কারপুরের অদম্য কারিগররা।

Previous post

বিসর্জন ঘিরে বিজেপির গোষ্ঠী সংঘর্ষ মুকুন্দপুরে, মারপিট-লাঠালাঠির অভিযোগ ; লাঠিচার্জ পুলিশের

Next post

Municipal Election: তিন দফায় সিলেবাস, অবশ্যই হতে হবে ভূমিপুত্র! পুর প্রার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়ে জোর দিচ্ছে বিজেপি?

Post Comment

You May Have Missed