বিসর্জন ঘিরে বিজেপির গোষ্ঠী সংঘর্ষ মুকুন্দপুরে, মারপিট-লাঠালাঠির অভিযোগ ; লাঠিচার্জ পুলিশের

হিন্দোল দে, কলকাতা : বিসর্জনকে কেন্দ্র করে পূর্ব যাদবপুর থানার অন্তর্গত মুকুন্দপুরে সংঘর্ষে জড়াল বিজেপির দুই গোষ্ঠী। উভয়পক্ষ একে অপরের সঙ্গে মারপিট, হাতাহাতিতে জড়ায় বলে অভিযোগ। এমনকী একে অপরকে লক্ষ্য করে লাঠিও চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ব্যাপক লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। উভয়পক্ষই ঘটনা নিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছে।

বিস্তারিত ঘটনা… 

মুকুন্দপুর সর্বজনীন দুর্গোৎসব দীর্ঘদিন ধরে পুজো করে আসছে। সেই কমিটির মাথায় রয়েছে বিজেপির একটা অংশ। তাদের পাশেই অপর একটি পুজো শুরু হয়েছে এ বছর থেকে। তারা নাম দিয়েছে- অভয়া দুর্গপুজো ২০২৬। এই নামে তারা পুজো শুরু করে। এখানেও বিজেপি নেতৃত্ব রয়েছে। এই পুজোকে কেন্দ্র করে প্রথমে বিভাজন তৈরি হয়।

গতকাল বিসর্জনকে কেন্দ্র করে রীতিমতো উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। মুকুন্দপুর বাজারের পাশে যে পুকুরঘাট রয়েছে সেখানে প্রতিমা নিরঞ্জনের জন্য আসে দুই পক্ষ। অভিযোগ, সেই সময় বিজেপির দুই পক্ষ একে অপরকে লক্ষ্য করে কটূক্তি করে। পরবর্তী সময়ে বাদানুবাদ, মারধরের ঘটনা ঘটে। রীতিমতো হাতাহাতি শুরু হয়ে হয়। এমন পর্যায়ে পৌঁছে যায় যে একে অপরকে লক্ষ্য করে লাঠি চালায় বলেও অভিযোগ উঠছে। এই অভিযোগ একে অপরের বিরুদ্ধে করছে বিজেপিরই দুই গোষ্ঠী। একাংশের অভিযোগ, এর নেপথ্যে রয়েছে এলাকা দখল, তোলাবাজির মতো বিষয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে পরিস্থিতি। পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্য ব্যাপক লাঠিচার্জ করতে হয় পুলিশকে। গোটা ঘটনা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। দুই তরফেই পূর্ব যাদবপুর থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। উভয়পক্ষই দলের উচ্চ নেতৃত্বকে বিষয়টি জানিয়েছে। এর বিহিত চাইছে তারা।  

একপক্ষের তরফে বলা হয়, “মুকুন্দপুরে এই প্রথমবার দুটো পুজো হচ্ছে। দুটো পুজো হওয়ায় আমরা অভয়াকে নিয়ে…যাকে নিয়ে সবাই এত আন্দোলন করেছিল বাংলাজুড়ে, সেই অভয়া যাতে না হারিয়ে যায়…তারজন্য আমরা অভয়াকে নিয়ে একটা পুজো করেছিলাম। সেই পুজোটা বিরাট সাড়া ফেলেছিল অঞ্চলে। যাদবপুরে অনেক সাড়া ফেলেছিল। আমরা ভাল ভাল অনুষ্ঠানও করেছিলাম পুজোকে সামনে রেখে। কিন্তু, আমাদের মুকুন্দপুরের যে আদি পুজো, সেই পুজোর কার্যকর্তারা এটা ভালভাবে নেননি। সেই নিয়েই সূত্রপাত। একজন মানুষ পুরো অঞ্চলটাকে বিষিয়ে দিচ্ছেন। কারণ, এরা তৃণমূলের ভাবমূর্তি তুলে ধরার চেষ্টা করছে। তোলাবাজি, টাকা লুঠ করে…এ ধরনের কারবারের সঙ্গে এরা যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। এটা আমরা কখনোই পছন্দ করছি না এবং করতে দেবও না। কারণ, বিজেপি এই নোংরামোতে বিশ্বাস করে না। পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা সুন্দর ছিল।” 

অপর একজন বলেন, “আমাদের ৭-৮ জন আহত হয়েছেন। আমরা এমএলএ ম্যাডামকে জানিয়েছি। প্রশাসন উপযুক্ত ব্যবস্থা নিক, এটাই আমরা চাই।” যাদবপুরের বিজেপি বিধায়ক শর্বরী মুখোপাধ্যায় বলেন, “ভাসান নিয়ে কোনও বাদানুবাদ হয়। সেটা নিয়ে মারপিটের জায়গায়…আমি পুলিশকে সঙ্গে সঙ্গে বলেছি যাতে পুলিশ নিরপেক্ষভাবে প্রশাসনিক কাজ করতে পারে। যারা যারা এই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিষয়ে যে স্টেপ নেওয়া উচিত, পুলিশ সেই কাজই করেছে। পুলিশের মধ্যস্থতায় গোটা বিষয়টা আপাতত স্তিমিত।”

Post Comment

You May Have Missed