একমাসের মধ্যে ফের মৃত্যু সান্দাকফুতে! ঘুরতে গিয়ে প্রাণ গেল বারাসতের বাসিন্দার
Last Updated:
সান্দাকফুতে বেড়াতে গিয়ে মৃত্যু হল বারাসতের বাসিন্দা বুবাইয়ের। এক মাসের মধ্যে ফের পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনায় পাহাড়ি পর্যটনের নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যপরীক্ষা ও জরুরি অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
কলকাতা: একমাসের মধ্যে সান্দাকফুতে গিয়ে ফের মৃত্যু হল একজনের। উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা প্রাণ হারিয়েছেন বলে খবর। জানা গিয়েছে, সান্দাকফুর টুমলিঙে গত মঙ্গলবার প্রাণ হারিয়েছেন ৪৮ বছর বয়সী বুবাই পাল। তাঁর সঙ্গে থাকা সহযাত্রীদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হঠাৎ করেই শ্বাসকষ্ট শুরু হয় বুবাই-এর। একইসঙ্গে তাঁর শরীরও ক্রমে খারাপ হটে শুরু করে। প্রথমে তাঁকে মানেভঞ্জন এবং সেখান থেকে সুখিয়াপোখড়ির স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। ওই স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গেলেই চিকিৎসকরাই তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।
জানা গিয়েছে,পরিবারের পাঁচ সদস্যকে নিয়ে পাহাড়ে বেড়াতে গিয়েছিলেন বারাসতের বাসিন্দা বুবাই। কিন্তু সেই আনন্দের সফরই শেষ পর্যন্ত পরিণত হল মর্মান্তিক ঘটনায়। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ১৮ অক্টোবর নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশন থেকে সরাসরি মানেভঞ্জনে পৌঁছন তাঁরা। পরের দিন সান্দাকফুতে রাত কাটানোর পর ২০ অক্টোবর টুমলিঙে পৌঁছন পরিবারের সদস্যরা। সেখানেই ওই রাতে অসুস্থ হয়ে মৃত্যু হয় বুবাইয়ের।
দার্জিলিঙের জেলাশাসক হরিশঙ্কর পানিকের জানিয়েছেন, ময়নাতদন্তের পর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। বারাসতে ফেরার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও প্রশাসনের তরফে করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আর এরপরেই, সান্দাকফু যাওয়ার পথে পর্যটকের অসুস্থ হয়ে মৃত্যুর ঘটনা নতুন করে পাহাড়ি পর্যটনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গত ৩০ সেপ্টেম্বর কোচবিহারের তুফানগঞ্জের বাসিন্দা প্রিয়তোষ অধিকারীরও শ্বাসকষ্টে মৃত্যু হয়েছিল বলে জানা গিয়েছে। অহলদাড়া এলাকায় তাঁর শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। ২৮ বছর বয়সি ওই যুবকের শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় পরিস্থিতি গুরুতর হয়ে ওঠে।
সম্প্রতি সিটঙে মধুচন্দ্রিমায় গিয়ে এক তরুণী অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনাতেও অ্যাম্বুল্যান্স না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছিল তাঁর পরিবার। সান্দাকফুর সাম্প্রতিক ঘটনার পরেও জরুরি চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে একই ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। বুবাইয়ের পরিচিতদের একাংশের মতে, সময়মতো অ্যাম্বুল্যান্সের ব্যবস্থা করা গেলে হয়তো তাঁকে বাঁচানোর সুযোগ তৈরি হতে পারত। আর এইক্ষেত্রেও চিকিৎসা অমিলের অভিযোগ তুলেছে পর্যটন সংস্থাগুলি।

Post Comment