‘সঙ্গে কারা ছিল, কেন অ্যারেস্ট হবে না, ডাক্তার বলে?’, প্রশ্ন রত্না দেবনাথের
কলকাতা: আর জি কর দুর্নীতি মামলায় জামিন পেয়েছেন সন্দীপ ঘোষ। সেই নিয়ে ফের পথে নামছে ‘ভয়েস অফ অভয়া’ ও ‘ভয়েস অফ উইমেন’। ১২ নভেম্বর আর জি কর মেডিক্যাল থেকে মিছিল বেরোবে। পরে CBI দফতর অভিযানেরও ডাক দেওয়া হয়েছে। সেই আবহে ফের মুখ খুলেছেন অভয়ার মা, বিজেপি বিধায়ক রত্না দেবনাথ এবং অভয়ার বাবাথ। সন্দীপ কী করে জেল থেকে বেরোলেন, প্রশ্ন তুলেছেন তাঁরা। (RG Kar Case)
১২ নভেম্বর ফের পথে নামার ডাক দিয়েছে ‘ভয়েস অফ অভয়া’ ও ‘ভয়েস অফ উইমেন’। সাংবাদিক বৈঠক করে তারা বলে, “১২ নভেম্বর আর জি কর থেকে মিছিল। সমস্ত স্তরের নাগরিকদের আহ্বান জানাচ্ছি আমরা। বিশেষ করে মহিলাদের আহ্বান জানাচ্ছি যে রাস্তায় নেমে প্রমাণ করুন, কোনও সরকারের মুখাপেক্ষী হয়ে নেই আপনারা। আপনারা আন্দোলন করে দাবি আদায় করার জন্য় রাস্তায় নেমেছেন। সিবিআই-কে বুঝিয়ে দিন, যতই তথ্যপ্রমাণ লোপাটের চেষ্টা করুক, যতই তথ্য না দিক, চেপে দিক, মানুষ কিন্তু প্রতিবাদে আছে, রাস্তায় আছে। হতাশার কোনও জায়গা নেই।” (Ratna Debnath)
সন্দীপের জামিনে ক্ষুব্ধ অভয়ার পরিবারও। অভয়ার মা তথা বিজেপি বিধায়ক রত্না বলেন, “আমার মেয়েকে যারা মার্ডার করেছে, তখন যদি তথ্য লোপাট না করে সবাইকে ধরা হতো…যেমন প্রত্যেকটা কেসে দেখা যায় লাস্ট সিন থিওরি, সেখানে যারা প্রেজেন্ট ছিল…যারা পোস্টমর্টেম করেছেন, তাঁরা বলছেন, ১২টা থেকে সকাল ৬টার মধ্যে তার মৃত্যু হয়েছে। সেই সময় কারা তার সঙ্গে ছিল? তারা কেন অ্যারেস্ট হবে না? ডাক্তার বলে? আমার মেয়েও একজন ডাক্তার ছিল।”
রত্না আরও বলেন, “তৎকালীন স্বাস্থ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যসচিব…সন্দীপ ঘোষ…তাড়াতাড়ি সবকিছু লোপাট করার নির্দেশ দিয়েছিল যারা, তারা কে? মূলচক্রী ধরতেই হবে।”
আরও পড়ুন: দশেরায় গণধর্ষণের শিকার কিশোরী, রাতভর নির্যাতন চালাল ৭ পাষণ্ড, অপরাধে শামিল ৩ নাবালকও
অভয়ার বাবা বলেন, “সন্দীপ ঘোষের যাবজ্জীবন সাজা হওয়া উচিত ছিল এই মামলায়।” কিন্তু সন্দীপ তো জামিন পেয়ে গেলেন? জবাবে অভয়ার বাবা বলেন, “পাবে না। সব সুবিচার আসবে। একটু ধৈর্য ধরতে হবে আমাদের। ঠিকঠাক কাজ করতে হবে সিবিআই-কে। কোর্টের, উপর থেকে চাপ দেব। উপর পর্যন্ত আমরা তো আছিই। শুধু সন্দীপ ঘোষ নয়, তার উপরের মাথাও আছে অনেক। আমাদের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর ভাই কার্তিক বন্দ্যোপাধ্যায়। সামনে চলে এসেছে। স্বাস্থ্যসচিব নিশ্চয়ই প্রশ্রয় দিয়েছেন। না হলে হয় নাকি? বিভাগীয় প্রধান প্রশ্রয় না দিলে নীচের লোক কী করে অন্যায় করে?”
কিন্তু স্বাস্থ্যসচিব তো এখনও পদে আসীন? অভয়ার বাবা বলেন, “থাকবে না। প্রমাণ করতে পারলেই চলে যাবে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী। প্রমাণ পাওয়া যায় যদি, তাহলেই সরিয়ে দেওয়া যাবে।”
সন্দীপের জামিনে তাঁরাও হতবাক বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। তিনি বলেন, “সন্দীপ ঘোষের জামিন পাওয়াটা আমাদের ক্ষেত্রে অবাক লেগেছে। পরিষ্কার ভাবে বলতে চাই, জামিন না পেলেই ভাল হতো। কিন্তু বিচারকের উপর আমরা হস্তক্ষেপ করতে পারি কি কেউ? জামিন দেওয়া, না দেওয়া সম্পূর্ণ বিচারব্যবস্থার উপর নির্ভরশীল। আর জামিন পাওয়াটাও একজন ব্যক্তির নৈতিক অধিকার। একটা পরিষ্কার বলতে চাই, বিচারপতির এই জামিনের আদেশ বাংলার কারও ভাল লাগেনি।”
Chorbagan News | কী কারণে চোরবাগান সর্বজনীনে এতবড় বিপর্যয় ঘটল? প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঘটনাস্থলে SIT | ABP Ananda LIVE
Post Comment