Septic Tank: ভাইকে বাঁচাতে গিয়ে দিদি, মাকে বাঁচাতে গিয়ে ছেলে..! সেপটিক ট্যাংকে নামতেই একে একে মর্মান্তিুক পরিণতি চার জনের
Last Updated:
Septic Tank: মোহনপুর থানার আঁতলা গ্রামে সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে একই পরিবারের সদস্যসহ চারজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক ব্যক্তি। পুজোর মুখে এই ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া।
মোহনপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: পমোহনপুর থানার আঁতলা গ্রামে সেপটিক ট্যাংকে নেমে মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মৃত্যু হল চার জনের। বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরও এক ব্যক্তি। মঙ্গলবার সকালে একই পরিবারের সদস্যদের একে অপরকে বাঁচাতে গিয়ে এমন ভয়াবহ পরিণতিতে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গিয়েছে, আঁতলা গ্রামে নিজের বোনের বাড়িতে নতুন সেপটিক ট্যাংকের কাজ করতে এসেছিলেন বদির মল্লিক নামে এক ব্যক্তি। কাজ চলাকালীন অসাবধানতাবশত তিনি হঠাৎই গভীর ট্যাংকের ভেতরে পড়ে যান। দীর্ঘ দিন ঢাকা থাকা ট্যাংকের ভেতরে জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে তিনি সঙ্গে সঙ্গে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন। ভাইকে পড়ে যেতে দেখে তাঁকে টেনে তুলতে ছুটে যান বোন সারজিনা বিবি। কিন্তু ভারসাম্য রাখতে না পেরে তিনিও ট্যাংকের ভিতরে পড়ে যান।
পরিবারের সদস্যদের আর্তনাদ শুনে মাকে বাঁচাতে দ্রুত ছুটে আসে সারজিনা বিবির ছেলে শেখ রবিউল। কোনও কিছু না ভেবেই তিনিও ট্যাংকের মুখ দিয়ে ভেতরে নামেন এবং বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে জ্ঞান হারান। একই সঙ্গে তিন জনকে ভেতরে নিস্তেজ হয়ে পড়তে দেখে উদ্ধারের উদ্দেশ্যে এগিয়ে আসেন প্রতিবেশী আত্মীয় শেখ সাহেব। দুর্ভাগ্যবশত তিনিও বিষাক্ত গ্যাসে কাবু হয়ে ট্যাংকের ভেতরে তলিয়ে যান। তাঁদের বাঁচাতে গিয়ে শেখ আবুকালাম নামে আরও এক স্থানীয় ব্যক্তি বিষাক্ত গ্যাসে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।
চিৎকার-চেঁচামেচি শুনে গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে জড়ো হন এবং মুখে কাপড় বেঁধে দড়ির সাহায্যে একে একে পাঁচ জনকেই উদ্ধার করেন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের নিকটবর্তী হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকেরা বদির মল্লিক, সারজিনা বিবি, শেখ রবিউল এবং শেখ সাহেবকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। গুরুতর অসুস্থ শেখ আবুকালামকে হাসপাতালে ভর্তি রেখে চিকিৎসা চালানো হচ্ছে। খবর পেয়ে মোহনপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং দেহগুলি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। বিষাক্ত মিথেন বা হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের কারণেই এই দমবন্ধ হওয়া পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।

Post Comment