Kultali Theft Case: দিনে বাড়িতে নজরদারি, রাতে চুরি! কুলতলিতে চক্রের হদিস, গ্রেফতার ৫
Last Updated:
Kultali Theft Case: কুলতলিতে পরপর চুরির কিনারা, কৈখালি থেকে ভূতনাথ-লক্ষ্মী-সহ গ্রেফতার ৫।
কুলতলি: কুলতলির বিভিন্ন এলাকায় পরপর চুরির ঘটনার তদন্তে নেমে বড়সড় সাফল্য পেল পুলিশ। কৈখালি এলাকা থেকে পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন দু’জন মহিলা ও তিনজন পুরুষ। তাঁদের মধ্যে ভূতনাথ নস্কর ও তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী নস্করও রয়েছেন। পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃতদের কাছ থেকে নগদ ৩০ হাজার টাকা এবং সোনা ও রুপোর গয়না উদ্ধার হয়েছে।
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে, ভূতনাথ নস্কর ও তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী নস্কর মিলে এলাকায় একটি চুরির দল তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ। ওই দলের সদস্যরা দিনের বেলায় বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বাড়িঘরের পরিস্থিতি, মূল্যবান সামগ্রী এবং বাড়ির মহিলাদের সোনার গয়নার দিকে নজর রাখতেন বলে অভিযোগ। এরপর রাতের অন্ধকারে সুযোগ বুঝে বাড়িতে চুরি করা হতো বলে প্রাথমিকভাবে অনুমান তদন্তকারীদের।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ভূতনাথ নস্করের বিরুদ্ধে আগে ডাকাতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পরে তিনি চুরির ঘটনাতেও জড়িয়ে পড়েন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী লক্ষ্মী নস্করও অতীতে কুলতলি থানার এলাকার বাইরে ক্যানিং থানা এলাকায় চুরির অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন বলে জানা গিয়েছে।
এ ছাড়াও ভূতনাথের বিরুদ্ধে পুরনো সোনা বদলে নতুন সোনার গয়না নেওয়ার নাম করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ, পুরনো সোনা দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন সোনার দোকানে গিয়ে নতুন গয়না নিয়ে চম্পট দিতেন তিনি। এই অভিযোগগুলির সত্যতা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
উল্লেখ্য, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে কুলতলি থানার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক ছোটখাটো চুরির ঘটনা ঘটছিল। সেই সব ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ প্রথমে দুই মহিলার সন্ধান পায়। এরপর তদন্তের সূত্র ধরে কৈখালি এলাকা থেকে ভূতনাথ ও লক্ষ্মী নস্কর-সহ মোট পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়। ধৃতদের আগের অপরাধের রেকর্ড খতিয়ে দেখার পাশাপাশি কুলতলির একাধিক চুরির ঘটনার সঙ্গে তাঁদের যোগসূত্র খুঁজে দেখছে পুলিশ। এই চক্রের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা জানারও চেষ্টা চলছে।
মঙ্গলবার ধৃতদের বারুইপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হবে। তাঁদের মধ্যে তিনজনকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানানো হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। কুলতলির পরপর চুরির ঘটনার নেপথ্যে ধৃতদের ভূমিকা কতটা, তা জানতেই এখন তদন্ত চালাচ্ছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
অর্পণ মণ্ডল

Post Comment