২০ বছরে ক্ষতি হতে পারে ১০ লক্ষের বেশি, জানেন রেগুলার নাকি ডাইরেক্ট, কোন প্ল্যান সঠিক?

কলকাতা: একই মিউচুয়াল ফান্ড স্কিম, একই ফান্ড ম্যানেজার ও একই Portfolio। তবুও ডাইরেক্ট এবং রেগুলার, এই দুই প্ল্যানে বিনিয়োগকারীদের দীর্ঘমেয়াদে রিটর্নের পরিমাণে অনেকটা পার্থক্য হতে পারে। আর এর কারণ দুই প্ল্যানের এক্সপেন্স রেসিও। রেগুলার প্ল্যান-এ Distributor বা মধ্যস্বত্ত্বভোগীকে কমিশন দেওয়ার খরচ থাকায় এক্সপেন্স রেসিও সাধারণত ডাইরেক্ট প্ল্যান-এর তুলনায় প্রায় ০.৫-১ শতাংশ বেশি হয়।

আরও পড়ুন: জুড়েছে খিদিরপুর থেকে ভিক্টোরিয়া, মাত্র ১ বছরে এই কাজ শেষ করেছে ভারতে তৈরি টানেল বোরিং মেশিন

ডাইরেক্ট বনাম রেগুলার প্ল্যান

ডাইরেক্ট প্ল্যান-এ সরাসরি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পনী বা AMC-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করা যায়। Distributor Commission না থাকায় এর Total এক্সপেন্স রেসিও বা TER তুলনামূলক কম।

অন্যদিকে, রেগুলার প্ল্যান-এ দালাল, Distributor বা Bank Relationship Manager-এর মাধ্যমে বিনিয়োগ করা হয়। AMC তাঁদের কমিশন দেয়, যার খরচ মূলত বেশি এক্সপেন্স রেসিও-এর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীর ফান্ড থেকেই কেটে নেওয়া হয়।

দুই স্কিমে পার্থক্য এক্সপেন্স রেসিওতে। শুনতে ১ শতাংশ পার্থক্য খুবই কম মনে হতে পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে Compounding-এর কারণে এই ছোট পার্থক্যই বড় অঙ্কে পরিণত হয়।

ধরা যাক, একজন বিনিয়োগকারী প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা করে ২০ বছর SIP করলেন। অর্থাৎ মোট বিনিয়োগ ২৪ লক্ষ টাকা। ডাইরেক্ট প্ল্যান-এ যদি বার্ষিক ১২ শতাংশ রিটার্ন পাওয়া যায়, তাহলে ২০ বছর শেষে সুদে আসলে মোট টাকার পরিমাণ প্রায় ৯১ লক্ষ ৯০ হাজার টাকা হতে পারে। একই বিনিয়োগে রেগুলার প্ল্যান-এ খরচের কারণে রিটার্ন ১২ শতাংশ হলে Corpus দাঁড়াতে পারে প্রায় ৮১ লক্ষ ৫৬ হাজার টাকায়।

অর্থাৎ, দুই ক্ষেত্রে পার্থক্য প্রায় ১০ লক্ষ ৩৪ হাজার টাকা। এই অর্থ আলাদা করে কোনও বিল হিসেবে দিতে হয় না। বরং বেশি এক্সপেন্স রেসিও-এর কারণে প্রতি বছর ১ শতাংশ করে টাকা কেটে নেওয়া হয় ডিস্ট্রিবিউটরের জন্য। আর এর ফলে কম্পাউন্ডিংয়ের মাধ্যমে বৃদ্ধির পরিমাণও কম হয়।

প্রথম কয়েক বছরে ডাইরেক্ট ও রেগুলার প্ল্যান-এর পার্থক্য খুব বেশি চোখে পড়ে না। কিন্তু সময় যত বাড়ে, ব্যবধানও তত দ্রুত বাড়তে থাকে। ১০ বছর পর পার্থক্য স্পষ্ট হয় এবং ২০ বছরে তা বড় অঙ্কে পৌঁছতে পারে।

তাই মিউচুয়াল ফান্ড বেছে নেওয়ার সময় শুধু সম্ভাব্য রিটার্ন নয়, এক্সপেন্স রেসিও-ও গুরুত্ব দিয়ে দেখা জরুরি। বিশেষ করে দীর্ঘমেয়াদি SIP-এর ক্ষেত্রে প্রতি বছর অতিরিক্ত ১ শতাংশ খরচও বিনিয়োগকারীর সম্পদ তৈরির ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Previous post

অস্ত্র নিয়ে গুন্ডামি, সরকারি কজে বাধা-সহ একাধিক অভিযোগ, ক্যামাক স্ট্রিট কাণ্ডে গ্রেফতার ১৩

Next post

ক্যামাক স্ট্রিটে ধুন্ধুমারকাণ্ডের পর রাতারাতি পদক্ষেপ ‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর, কোন পথে অভিষেকরা ?

Post Comment

You May Have Missed