শুরুর আগেই হোঁচট খেল যাদবপুরের তদন্ত, কেন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান কমিটির চেয়ারম্যানের ?

কৃষ্ণেন্দু অধিকারী, কলকাতা: যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তাণ্ডবের ঘটনায়, উপাচার্যের অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের হলেও, পুলিশ এখনও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি। আর এরই মধ্যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় , সেই তদন্ত শুরুর আগেই,সেই তদন্ত শুরুর আগেই হোঁচট খেল। তার কারণ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন তদন্ত কমিটির চেয়ারম্যান। এনিয়ে ইমেল পাঠিয়ে নিজের সিদ্ধান্তর কথা জানিয়েছেন, শুভশঙ্কর সরকার।  

আরও পড়ুন, “আমার দলের লোকেরাও যদি এই বিষয়টা করে, সমর্থন করি না..”, যাদবপুর কাণ্ডে অন্যসুর পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রার

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের তাণ্ডবের ঘটনায় আগেই তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এবার সেই তদন্ত কমিটির দায়িত্ব যাঁকে দেওয়া হয়েছে, তাঁকে নিয়ে আপত্তি জানিয়েছিল RSS প্রাভাবিত অধ্যাপকদের সংগঠন অখিল ভারতীয় রাষ্ট্রীয় শৈখিক মহাসঙ্ঘ। আপত্তি জানিয়ে সংগঠনের তরফে বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য রাজ্যপাল এবং উচ্চশিক্ষা দফতরকে ইমেল করা হয়েছে। তাদের দাবি, হাইকোর্টের কোনও অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে এই তদন্ত হোক।

যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃর্তৃপক্ষ স্বয়ং উপাচার্য, একটা তদন্ত কমিটির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে গোটা বিষয়টায়, উনিশ এবং ২০ তারিখ, বুধ এবং বৃহস্পতিবার, যেভাবে ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ হয়েছে,যেভাবে পড়ুয়াদের কটুক্তি করা হয়েছে, এবং হাতে লাঠি নিয়ে ভাঙচুরের চেষ্টা করা হয়েছে,গোটা বিষয়টায় একটা অভ্যান্তরিন তদন্ত হবে। এবং সেই তদন্তের একটি কমিটি হবে। তিন সদস্যের একটি কমিটি তৈরি হয়েছিল। এবং বাকি দুইজন সদস্যই যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। তাঁরা সহায়তা করবেন, সেই তদন্ত কমিটিরই নেতাজি সুভাষ মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন উপাচার্য শুভশঙ্কর সরকারকে। আরও দুইজন মেম্বার ছিলেন, অরুনাশিস গোস্বামী, তিনি বাবাসাহেব আম্বেদকর এডুকেশন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য এবং প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সৌমেন্দু চট্টোপাধ্যায়।তবে  যেটা জানা যাচ্ছে, সেই মেল পাঠানোর পরেই,  তার পরের দিনই শুভশঙ্কর সরকার, যিনি এই কমিটির চেয়ারম্যান, তিনি এই পদ প্রত্যাখ্যান করেছেন। এবং প্রত্যাখ্যাত করে, পাল্টা ইমেল করেছেন যাদবপুরের উপাচার্য চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যকে।

শুভশঙ্কর সরকার এবিপি আনন্দ-কে জানিয়েছেন, ‘এই তদন্তটা করার বিষয়ে যখন ওনার সঙ্গে ফোনে কথা হচ্ছিল আমার, ২১ তারিখ, উনি তখন চিঠিটা আমায় পাঠাননি, ..আমি তখন ব্যক্তিগত অসুবিধার কথা বলেছি। এই ধরনের তদন্ত হতে গেলে, এটা নিয়ে ইন্টারকশন হওয়া দরকার। মানে তাঁরা, যারা ওখানে ছিল, বা যারা তাঁদের দেখেছে, যে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রই হোক, ননটিচিং স্টাফই হোক, ..তিনি কী বলছেন, সেটা সামনাসামনি শোনার প্রয়োজন আছে। ..এটা একটা দীর্ঘতর পদ্ধতি, যেটা আমার পক্ষে করা সম্ভব না। আমি একজন অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক।আমার ৭০ বছর বয়স।আমাকে মাঝামাঝেই বাইরে যেতে হয়, কলকাতার বাইরে, কারণ আমার ছেলে ওখানে থাকে, স্বাভাবিকভাবে এই অবস্থায় পুরো বিষয়টা শুনে, তার ভিত্তিতে একটা লিস্ট বানিয়ে, লিখে এটা আমার পক্ষে সম্ভব না।এই জন্য আমি করেছি, এটা সম্পূর্ণই আমার ব্যক্তিগত কারণ।’

Previous post

Rajnath Singh: ‘ভারতই হবে বিশ্বের পরবর্তী বড় শিপবিল্ডিং হাব’, ৩,৪০০ কোটি টাকার ৫টি প্রকল্পের শিলান্যাস, বাংলার মাটিতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে বড় বার্তা রাজনাথের

Next post

পিৎজা ডেলিভারির সময়েই মৃত্যু ২৮ বছরের তরুণের, আচমকা বন্দুকবাজের হামলা, চোখের নিমেষে সব শেষ

Post Comment

You May Have Missed