রাজ্যে জারি কঠোর নতুন আইন! গুন্ডাদের আর নিস্তার নেই, এবার সরাসরি সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করবে প্রশাসন
West Bengal
-Ritesh Ghosh
বাংলায় আজ থেকে কার্যকর হচ্ছে ‘দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল পাবলিক সেফটি অ্যান্ড কন্ট্রোল অব অ্যান্টি সোশ্যাল অ্যাক্টিভিটি অ্যাক্ট ২০২৬’ এবং দ্য ওয়েস্ট বেঙ্গল মেইন্টেনেন্স অব পাবলিক অর্ডার অ্যামেন্ডমেন্ট বিল ২০২৬। নতুন বিজেপি সরকারের এই জোড়া বিল পাসের পর থেকেই প্রশাসনের গুন্ডাদমন অভিযান এক নতুন মাত্রা পেতে চলেছে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার গত ২৯ জুন বিধানসভায় এই বিল দুটি পাস করিয়েছে। তৃণমূলের সময় রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তলানিতে চলে গিয়েছিল। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, তোলাবাজি থেকে শুরু করে থানায় পুলিশের ওপর হামলা থেকে শুরু করে অনেক ঘটনা ঘটেছে। সেখানে অপরাধীদের আড়ালও করা হয়েছে। এসমস্ত দুর্বত্তায়ন ঠেকাতেই গুন্ডাদমন বিল এনেছে নতুন বিজেপি সরকার।

নতুন এই আইনে ‘গুন্ডা’ বা সমাজবিরোধী বলতে কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে বোঝানো হয়েছে, তা সুনির্দিষ্ট গাইডলাইন রয়েছে। যারা নিয়মিতভাবে সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িত, অপরাধমূলক কাজের পিছনে অর্থ জোগান দেয় বা মদত দেয়, তাদের এই আইনের আওতায় আনা হবে। এছাড়া গুরুতর কোনও অপরাধের মামলায় চার্জশিটভুক্ত আসামিরাও এই আইনের পরিধির মধ্যে পড়বে।
অস্ত্র পাচার, মাদক ব্যবসা, বেআইনি বিস্ফোরক তৈরি বা মানবপাচারের মতো মারাত্মক অপরাধে অভিযুক্তদেরও এখন থেকে কঠোরভাবে আইনের মুখোমুখি হতে হবে। যারা সমাজের জন্য বিপজ্জনক এবং যাদের কারণে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়, তাদের চিহ্নিত করতে পুলিশকে বিশেষ অধিকার দেওয়া হয়েছে এই নতুন আইনে।
সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক ছড়ানো, জনজীবন বিপন্ন করা, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানো এবং বৈধ ব্যবসা পরিচালনায় বাধা দেওয়ার মতো বিষয়গুলি এই বিলের আওতাভুক্ত। এছাড়া বেআইনিভাবে জমি দখল, তোলাবাজি এবং সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি ধ্বংস করার ঘটনা ঘটলেও কড়া পদক্ষেপ করবে প্রশাসন। বালি মাফিয়াদের দাপট, বেআইনি খনি বা বন্যপ্রাণী সংক্রান্ত চোরাচালানের বিরুদ্ধেও এই আইন সমানভাবে প্রযোজ্য হবে।
নতুন আইন অনুযায়ী, অশান্তির পরিকল্পনা আঁচ করলেই অভিযুক্তকে অপরাধমূলক কাজ করার আগেই গ্রেফতার করতে পারবে পুলিশ। অর্থাৎ প্রতিরোধমূলক গ্রেফতারির সুযোগ পাবে পুলিশ। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি সম্পত্তি নষ্ট করলে সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কথাও নতুন আইনে রয়েছে।
| আইনি বিষয় | আটক সংক্রান্ত নিয়ম | গ্রেফতার ও বাজেয়াপ্ত সংক্রান্ত নিয়ম |
|---|---|---|
| সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী কর্তৃপক্ষ | রাজ্য সরকার, জেলা শাসক বা পুলিশ কমিশনার। | সংশ্লিষ্ট তদন্ত দল বা পুলিশের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তা। |
| সর্বোচ্চ মেয়াদ অথবা সাজা | বিচার শেষ হওয়ার আগেই ১২ মাস পর্যন্ত আটক রাখা সম্ভব। | ঘটনা ঘটার আগে গ্রেফতার সম্ভাবনা এবং নির্দিষ্ট ধারায় শাস্তি। |
| সম্পত্তি বাজেয়াপ্তকরণের ক্ষমতা | আটকের পর তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। | সরকারি বা বেসরকারি সম্পত্তি নষ্টের অপরাধে সরাসরি বাজেয়াপ্ত। |
নতুন আইনের আওতায় হওয়া সমস্ত অপরাধই জামিন-অযোগ্য বলে বিবেচনা করা হবে। আইনি নির্দেশ অমান্য করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে আদালত বা প্রশাসন কোনও নমনীয় মনোভাব দেখাবে না বলে স্পষ্ট করা হয়েছে এই জোড়া বিলে।
হিসাবহির্ভূত সম্পদ বা বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের আশ্রয় দিলে বা লুকিয়ে থাকতে সাহায্য করলেও সমপরিমাণ শাস্তির মুখে পড়তে হবে। সমাজবিরোধীদের পরোক্ষ মদতদাতাদের দমন করতে এই ধারাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর ফলে অপরাধীদের আর্থিক জোগান বা পরোক্ষ সাহায্য পাওয়ার পথ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে।


Post Comment