গ্রেফতার পানিহাটির প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর
West Bengal
-Ritesh Ghosh
নির্বাচনী ময়দানে পরাজয় এবং তারপরেই গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। উত্তর চব্বিশ পরগনার পানিহাটি বিধানসভা কেন্দ্রের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক নির্মল ঘোষের ছেলে তীর্থঙ্কর ঘোষ অবশেষে পুলিশের জালে ধরা পড়লেন। সোমবার সকালে দক্ষিণেশ্বর এলাকা থেকে খড়দহ থানার পুলিশ তাঁকে গ্রেফতার করেছে। মূলত একুশের ভোট-পরবর্তী হিংসা এবং এক লটারি বিজেতার কাছ থেকে কোটি টাকা ছিনতাইয়ের মামলায় তাঁর খোঁজ করছিল পুলিশ।
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে পানিহাটি আসন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসাবে লড়েছিলেন তীর্থঙ্কর ঘোষ। কিন্তু ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই তিনি নিখোঁজ ছিলেন বলে পুলিশ সূত্রে খবর। দীর্ঘদিন ধরে এলাকাতে তাঁর দেখা মিলছিল না। অবশেষে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার ভোরে দক্ষিণেশ্বরে হানা দিয়ে তাঁকে পাকড়াও করে পুলিশ। এই গ্রেফতারির পর পানিহাটি এবং সোদপুর জুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে।

পানিহাটি এলাকায় তীর্থঙ্কর ঘোষ ‘পুচি’ নামে পরিচিত। তাঁর বাবা নির্মল ঘোষ পানিহাটি বিধানসভার দীর্ঘদিনের বিধায়ক এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী নেতা ছিলেন। তাঁর আমলেই এলাকায় রাজনীতিতে হাতেখড়ি হয় তীর্থঙ্করের। দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় ঘোষ পরিবারের সর্বাত্মক প্রভাব ছিল। সোদপুরের একাধিক এলাকার জমি দখল, প্রোমোটিং, তোলাবাজি, মারধরের মতো নানা অভিযোগ জমা পড়লেও এতদিন পুলিশের পক্ষ থেকে তেমন কোনও সক্রিয় পদক্ষেপ করা হয়নি।
এবছরের বিধানসভা নির্বাচনে অভয়া কাণ্ডে সংবাদ শিরোনামে আসা প্রাক্তন বিধায়ক নির্মল ঘোষ নিজে ভোটে দাঁড়াননি। তাঁর পরিবর্তে টিকিট পেয়ে নির্বাচনে লড়েন ছেলে তীর্থঙ্কর। কিন্তু আরজি কর কাণ্ডের নিহত তরুণী চিকিৎসকের মা তথা বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথের কাছে বড় ব্যবধানে হেরে যান তিনি। এই নির্বাচনী হারের পরই ঘোষ পরিবারের সাম্রাজ্যের পতন হয়েছে পানিহাটিতে। এবং তারপরই পুরনো সমস্ত অভিযোগগুলি নতুন করে সামনে আসতে শুরু করে।
হারের পর থেকেই পিতা-পুত্রের বিরুদ্ধে একের পর এক পুরনো মামলার তদন্ত গতি পেয়েছে। অভিযোগ, গ্রেফতারি এড়াতে গা ঢাকা দিয়েছিলেন তীর্থঙ্কর ঘোষ ও নির্মল ঘোষ। তবে রবিবার নির্মল ঘোষকে ঋতব্রত তৃণমূলের বৈঠকে হাজির হতে প্রথমবার বাইরে দেখা গিয়েছিল। তারপরই নির্মলের খোঁজ পাওয়ার পর পানিহাটি জুড়ে হইচই শুরু হয়। রত্না দেবনাথ নিজে অভিযোগ করেন, পুলিশ সব জেনেও না জানার ভান করে রয়েছে। তবে অপরাধীরা ছাড়া পাবেন না। আর তারপরই এদিন সকালে তীর্থঙ্কর গ্রেফতার হলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, তীর্থঙ্কর ঘোষের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হল ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসায় উসকানি দেওয়া। সেই সময়ে এলাকায় রাজনৈতিক হিংসার যে একাধিক ঘটনা ঘটেছিল, তার সঙ্গে তীর্থঙ্করের প্রত্যক্ষ যোগাযোগ ছিল বলে পুলিশের দাবি। এছাড়া এক লটারি বিজেতার কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
অভিযোগ, লটারিতে এক স্থানীয় ব্যক্তি এক কোটি টাকা পাওয়ার পর সেই অর্থ জোরপূর্বক কেড়ে নিয়েছিলেন নির্মল ঘোষ ও তাঁর ছেলে। এই লটারি সংক্রান্ত জালিয়াতি ও ছিনতাইয়ের মামলায় দীর্ঘদিন ধরেই পুলিশের খাতায় ফেরার ছিলেন তীর্থঙ্কর। ক্ষমতার থাকাকালীন এই মামলাগুলি ধামাচাপা পড়ে থাকলেও, বর্তমান রাজনৈতিক সমীকরণে খড়দহ থানার পুলিশ তদন্ত পুনরায় শুরু করে এবং শেষ পর্যন্ত দক্ষিণেশ্বর থেকে তাঁকে গ্রেফতার করেছে।


Post Comment