শাহবাজের সেঞ্চুরিতে দুরন্ত প্রত্যাবর্তন বাংলার, সুমন্তর বিতর্কিত আউট নিয়ে ক্ষোভ
সন্দীপ সরকার, কলকাতা: তাঁকে বলা হয় বাংলা ক্রিকেটের ‘ক্রাইসিস ম্যান’। দল বিপাকে পড়লেই ব্যাট হাতে হোক বা বলে, মুশকিল আসান হয়ে দাঁড়ান। ১০০ রানের ভিতরে ৫ উইকেট পড়ে গিয়েছে? তিনি দলের ত্রাতা হয়ে আবির্ভূত হন। প্রতিপক্ষ বড় পার্টনারশিপ গড়ছে? বল হাতেও ভেল্কি দেখাতে ভরসা তিনি।
সেই শাহবাজ আমেদ ফের বাংলার রক্ষাকর্তা হয়ে হাজির হলেন। চোটের জন্য রঞ্জি ট্রফির প্রথম ম্যাচে তাঁকে পায়নি বাংলা। দ্বিতীয় ম্যাচে সার্ভিসেসের বিরুদ্ধে দলে ফিরেই জিতিয়েছিলেন, হয়েছিলেন ম্যাচের সেরা। কেরলের বিরুদ্ধে মঙ্গলাপুরমে বাংলার প্রথম ইনিংসের স্কোর যখন ১৭০/৬, বোর্ডে আড়াইশো উঠবে কি না, তা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, ব্যাট হাতে বুক চিতিয়ে লড়াই করলেন শাহবাজ। সাত নম্বরে নেমে ২০৩ বলে ১২১। ৮টি চার ও ৪টি ছক্কায় সাজানো ইনিংস। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে চতুর্থ সেঞ্চুরি বাঁহাতি ব্যাটারের।
সপ্তম উইকেটে সুমন্ত গুপ্তর সঙ্গে ১৮৮ বলে ১০৩ রানের পার্টনারশিপে ম্যাচের রং বদলে দিলেন শাহবাজ। সেখানেই শেষ নয়। অষ্টম উইকেটে প্রদীপ্ত প্রামাণিকের সঙ্গে যোগ করলেন আরও ৫৯ রান। বাংলার প্রথম ইনিংস শেষ হল ৩৫০ রানে। জবাবে দ্বিতীয় দিনের শেষে চাপে কেরল। মাত্র ১০১ রানের মধ্যে ৬ উইকেট হারিয়ে বসেছে তারা।
তবে দ্বিতীয় দিনের শেষে বাংলা শিবিরে ক্ষোভের আঁচ পাওয়া গেল আম্পায়ারের একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়ে। জলজ সাক্সেনার বলে ৪৯ রানের মাথায় ক্লোজ ইন ফিল্ডারের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন সুমন্ত। বাংলা শিবির থেকে বলা হল, বল সুমন্তর ব্যাটে লাগেনি। প্যাডে লেগে ফিল্ডারের হাতে গিয়েছিল। এ-ও বলা হল যে, সুমন্ত যেরকম ক্রিজে সেট হয়ে গিয়েছিলেন, তাতে সেঞ্চুরি বাঁধা মনে হচ্ছিল। সেক্ষেত্রে প্রথম ইনিংসে বাংলার স্কোর চারশো পেরিয়ে যেতে পারত বলে দাবি করা হল।
বল হাতে দুরন্ত স্পেল করেছেন মহম্মদ শামি। ভারতীয় দলে দিনের পর দিন উপেক্ষিত। তবে ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রাণ ঢেলে বোলিং করছেন। আগের ম্যাচে খেলেননি অসুস্থ থাকায়। কেরলের বিরুদ্ধে ৮ ওভার বল করে ২০ রানের বিনিময়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। বল হাতে জোড়া সাফল্য শাহবাজের। এক উইকেট প্রদীপ্তর।
২৪৯ রানে এগিয়ে বাংলা। কোচ লক্ষ্মীরতন শুক্ল মোবাইল ফোনে বললেন, ‘আমরা সরাসরি জয় ছাড়া কিছু ভাবছি না। শাহবাজ দুরন্ত খেলেছে। লোয়ার অর্ডারের সকলে ব্যাট হাতে রুখে দাঁড়িয়েছে। আর শামির স্পেল তো আউটস্ট্যান্ডিং।’
Post Comment