রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নির্দেশে এই সোনা বিক্রি হল প্রায় ৩ গুণ দামে! আপনার ছিল নাকি?
কলকাতা: ২০২০-২১ সালের VII সিরিজের সোভেরেইন গোল্ড বন্ডে বিনিয়োগকারীদের আগাম তাঁদের বিনিয়োগ বিক্রির ব্যবস্থা করে দিয়েছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। গত ২০ এপ্রিল এই গোল্ড বন্ড বিক্রির জন্য একটি এগজিট উইন্ডো ঘোষণা করেছিল রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আর যাঁরা এই বন্ডে বিনিয়োগে করেছিলেন, তাঁরা ৬ বছরে প্রায় ২০৫ শতাংশের বেশি রিটার্ন হিসাবে পেয়ে গিয়েছেন।
রিজার্ভ ব্যাঙ্ক আগেই জানিয়ে দিয়েছিল এই সিরিজের গোল্ড বন্ড রিডেমপশনের জন্য ইউনিট প্রতি ১৫ হাজার ২৫৪ টাকা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০ এপ্রিলের আগের ৩ দিনের সোনার গড় ক্লোজিং প্রাইসের উপর নির্ভর করেই এই দাম ঠিক করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। উল্লেখ্য এই ক্লোজিং প্রাইস ঠিক করে IBJA বা ইন্ডিয়া বুলিয়ন অ্যান্ড জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন।
এই বন্ড যখন জারি করা হয়, তখন ইউনিটের দাম ছিল ৫ হাজার ৫১ টাকা করে। আর যাঁরা অনলাইনে আবেদন করেছিলেন, তাঁরা প্রতি গ্রামে ৫০ টাকা করে ছাড় পেয়েছিলেন। ফলে, সব মিলিয়ে রিটর্নের পরিমাণ পৌঁছে গিয়েছে ২০৫ শতাংশের উপরে। এ ছাড়াও যাঁরা এখানে বিনিয়োগ করেছিলেন, তাঁরা বছরে ২.৫ শতাংশ হারে সুদও পেয়েছেন।
এই সিরিজের বন্ড প্রথম ইস্যু করে হয়েছিল ২০২০ সালের ২০ অক্টোবর। স্কিম অনুযায়ী, পাঁচ বছরে পূর্ণ হলে আগাম এই বন্ড বিক্রি করে দেওয়া যায়। যদিও এই বন্ডের মেয়াদ ৮ বছর। তবে, বিনিয়োগকারীরা চাইলে আগেও রিডিম করে নিতে পারেন।
সোভেরেইন গোল্ড বন্ড হল সরকারি বন্ড। এই বন্ডের প্রতিটি ইউনিট প্রতি গ্রাম সোনার দাম অনুযায়ী নেওয়া হয়। এই সোভেরেইন গোল্ড বন্ডে ফিজিক্যাল গোল্ডের মতো রাখার বা কতটা বিশুদ্ধ, সেটা জানার কোনও ঝামেলা বা প্রয়োজনীয়তা নেই। এ ছাড়াও এই বন্ডের মূলধন ও সুদের উপর সরকারি গ্যারান্টিও থাকে। ফলে, সোভেরেইন গোল্ড বন্ডের ক্ষেত্রে প্রতারিত হওয়ার কোনও ব্যাপার থাকে না।
সোভেরেইন গোল্ড বন্ডের ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যায় করের ক্ষেত্রেও। কেউ যদি ম্যাচিওরিটি পর্যন্ত এই বন্ড ধরে রাখেন, তাহলে ক্যাপিটাল গেনস ট্যাক্সে ছাড় পাওয়া যায়। তবে, আগাম কেউ যদি বিক্রি করে দেন, সেই ক্ষেত্রে কোনও ধরনের কড় ছাড় মেলে না। বর্তমানে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের জন্য নতুন করে কোনও সোভেরেইন গোল্ড বন্ড ইস্যু ঘোষণা করা হয়নি।



Post Comment