রাশভারী মেজাজ উধাও…! বিজয়া সম্মিলনীতে সিভিকদের গানে মুগ্ধ, পিঠ চাপড়ালেন এসপি পাপিয়া সুলতানা

Last Updated:

Papiya Sultana: শারদোৎসবের ব্যস্ততা ও কঠোর পরিশ্রমের পর কেশিয়াড়ি, বেলদা ও নারায়ণগড় থানায় আয়োজন করা হয় এক বর্ণাঢ্য বিজয়া সম্মিলনীর। এই আনন্দানুষ্ঠানে জেলা পুলিশ সুপার সহ অন্যান্য আধিকারিকদের উপস্থিতিতে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন পুলিশ কর্মীরা।

+

বিজয়া সম্মিলনীতে অন্য মেজাজে এসপি পাপিয়া সুলতানা

নারায়ণগড়, রঞ্জন চন্দ: উর্দি মানেই কঠোর অনুশাসন আর রাশভারী আবহ, এই চেনা সমীকরণ নিমেষেই মিলিয়ে গেল এক সুরের জাদুতে। শারদোৎসবের দিনগুলিতে দিনরাত এক করে রাজপথে দাঁড়িয়ে সাধারণ মানুষের সুরক্ষায় পাহারাদারের কাজ সামলেছেন পুলিশকর্মী ও সিভিক ভলান্টিয়াররা। উৎসব নির্বিঘ্নে মিটতেই সেই অক্লান্ত পরিশ্রমকে কুর্নিশ জানাতে এবং কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করতে কেশিয়াড়ি, বেলদা, নারায়ণগড় থানায় আয়োজন করা হয়েছিল এক বর্ণাঢ্য বিজয়া সম্মিলনীর। সেই আনন্দমঞ্চেই খোদ জেলা পুলিশ সুপারের সামনে গান গেয়ে তাক লাগিয়ে দিলেন নারায়ণগড় থানার দুই সিভিক ভলান্টিয়ার।

এদিন চেনা পুলিশি উর্দির কোনও বালাই ছিল না; পুরো পরিবেশেই ছিল খাঁটি বাঙালিয়ানার ছোঁয়া। থানার পুরুষ কর্মীরা সেজেছিলেন জমকালো পাঞ্জাবিতে, আর মহিলা পুলিশকর্মীদের পরনে ছিল রংবেরঙের শাড়ি। কঠোর অনুশাসন ও পদমর্যাদার অদৃশ্য দেওয়াল ভেঙে শীর্ষ আধিকারিককে একেবারে ঘরের মানুষের মতো কাছে পেলেন পুলিশ কর্মীরা।

সিভিক ভলান্টিয়ার থেকে কনস্টেবল—সকলেই দ্বিধাহীনভাবে পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানাকে জড়িয়ে ধরে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। দায়িত্বের ক্লান্তি ভুলে এক আনন্দঘন পারিবারিক পরিবেশে বদলে যায় গোটা চত্বর। অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হয়ে ওঠে কর্মীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা।

জেলা পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে মঞ্চে উঠে সুরেলা গান পরিবেশন করেন থানার দুই সিভিক ভলান্টিয়ার। তাঁদের চমৎকার গায়কি শুনে মুগ্ধ হয়ে হাততালি দিয়ে ওঠেন উপস্থিত সকলে। কর্মীদের এমন সুপ্ত প্রতিভা দেখে আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠেন খোদ পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। তিনি নিজে এগিয়ে গিয়ে গান গাওয়া দুই সিভিক কর্মীর পিঠ চাপড়ে কুর্নিশ জানান এবং তাঁদের প্রতিভার বিশেষ প্রশংসা করেন।

প্রশাসনিক গণ্ডি পেরিয়ে এমন আত্মিক মেলবন্ধন কর্মীদের মধ্যে বিপুল উদ্দীপনা তৈরি করেছে। এদিনের জমজমাট আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগড়ের বিধায়ক রমা প্রসাদ গিরি, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার পার্থ ঘোষ, খড়গপুরের এসডিপিও সিদ্ধার্থ ডাঙ্গী, খড়গপুরের সিআই এবং নারায়ণগড় থানার ওসি রাজেশ পারুয়া-সহ অন্যান্য পদস্থ আধিকারিকেরা। অন্যদিকে কেশিয়াড়ি ও বেলদা থানার আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন বেলদা পুলিশ মহকুমা অধিকারী আনন্দ মণ্ডল-সহ পুলিশ অধিকর্তারা। কর্তব্যের কঠোরতা ভুলে সুর, আন্তরিকতা ও সৌহার্দ্যের এই উজ্জ্বল মুহূর্ত নিশ্চিতভাবেই নারায়ণগড় থানার ইতিহাসে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে রইল।

Previous post

রায়গঞ্জে AIIMS তৈরির আশ্বাস মুখ্যমন্ত্রীর, কেন্দ্রের কাছে প্রস্তাব পাঠাবে রাজ্য, বড় ঘোষণা শুভেন্দুর

Next post

Agriculture News: শীতের শুরুতেই ফুলকপি চাষে ব্যস্ত পূর্বস্থলির চাষিরা, ভাল ফলনের আশায় পরিচর্যায় জোর

Post Comment

You May Have Missed