Kali Puja 2026: এক গ্রামে ২০০-রও বেশি কালীপ্রতিমা! ৫০০ বছরের ঐতিহ্য, চার বোনের পুজো দেখতে ভিড় জমান ভক্তরা
Last Updated:
Kali Puja 2026: কালীপুজোর সময় চার বোনের দর্শন করতে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত। তবে এই গ্রামের আকর্ষণ শুধু পুজোয় সীমাবদ্ধ নয়। পুজোর পরদিন প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরেও তৈরি হয় উৎসবের আবহ।
পূর্ব বর্ধমান: একা নন, এখানে মা কালী চার বোন। দীপান্বিতা অমাবস্যায় একসঙ্গে পুজো হয় বড়মা, মেজমা, সেজমা ও ছোটমার। শুধু চার বোনই নন, গোটা গ্রামে রয়েছে প্রায় ২০০টি কালীপ্রতিমা। কালীপুজোর সময় এই প্রাচীন জনপদে ভিড় জমান রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ। কোথায় রয়েছে বাংলার এই ‘কালী গ্রাম’?
পূর্ব বর্ধমানের মেমারির আমাদপুর। কালীপুজোর জন্য সারা বছর অপেক্ষায় থাকেন এই গ্রামের বাসিন্দারা। কারণ, এখানে দেবী একা নন, চার বোনকে নিয়ে অধিষ্ঠান করেন। বড়মা, মেজমা, সেজমা ও ছোটমা—এই চার নামেই পরিচিত দেবীরা। কথিত আছে, ৫০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে চলে আসছে তাঁদের আরাধনা। কখনও তিনি সোনার বরণ দেবী দুর্গার রূপে, কখনও ঘোর কৃষ্ণবর্ণ কালীকা। আবার রক্তবীজ বধের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ছিন্নমস্তার রূপ। দেবীর রূপ ভয়াল, ভয়ংকর। কিন্তু ভক্তদের বিশ্বাস, সেই উগ্র রূপের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে শক্তি ও রক্ষাকর্ত্রীর মহিমা।
চার বোনের পুজোই আমাদপুরের প্রধান আকর্ষণ। তবে এই গ্রামে কালী আরাধনার পরিধি আরও বিস্তৃত। বড়মা, মেজমা, সেজমা ও ছোটমা ছাড়াও এখানে রয়েছে কমবেশি ২০০টি কালীপ্রতিমা। সিদ্ধেশ্বরী, বুড়িমা, ডাকাত কালী, ক্ষ্যাপা মা, আনন্দময়ী মা—নানা নামে ও রূপে পূজিত হন দেবী। শুধু কালীপুজো নয়, এই গ্রামে রয়েছে ভৈরবের আরাধনাও। তবে এত প্রাচীন ঐতিহ্যের সূচনা ঠিক কবে, কীভাবে, তার নির্দিষ্ট ইতিহাস আজও অজানা।
আমাদপুর এক প্রাচীন জনপদ। কথিত আছে, একসময় এই গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যেত বেহুলা নদী। সময়ের সঙ্গে নদী মজে গিয়ে এখন খালের আকার নিয়েছে। একসময় এই নদীপথে চলাচল করত বাণিজ্যতরী। কিন্তু পথে দস্যুদের আক্রমণে বিপাকে পড়তেন বণিকরা। সর্বস্ব খোয়ানোর ভয় ছিল তাঁদের নিত্যসঙ্গী। লোককথা অনুযায়ী, সেই সময় বেহুলা নদীর তীরে ছিল একটি মহাশ্মশান। সেখানে এক সাধু কালীসাধনা করতেন। দস্যুদের হাত থেকে রক্ষা পেতে বণিকরা ওই শ্মশানে গিয়ে কালীমায়ের পুজো দিতেন। শোনা যায়, দেবীর আরাধনা শুরু করার পর তাঁদের বিপদ কাটতে থাকে। ক্রমে দেবীর মাহাত্ম্য ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। বেহুলা নদীর তীরজুড়ে নানা রূপে শুরু হয় কালী আরাধনা।
আমাদপুরে ঢুকলে প্রথমেই দর্শন মেলে প্রায় ২০ ফুট উচ্চতার বড়মার। কিছুটা এগোলেই রয়েছেন প্রায় ১৭ ফুট উচ্চতার মেজমা। কাছাকাছি রয়েছে সেজমা ও ছোটমার মন্দির। কালীপুজোর সময় চার বোনের দর্শন করতে ভিড় জমান অসংখ্য ভক্ত। তবে এই গ্রামের আকর্ষণ শুধু পুজোয় সীমাবদ্ধ নয়। পুজোর পরদিন প্রতিমা বিসর্জনকে ঘিরেও তৈরি হয় উৎসবের আবহ। ছোট-বড় নানা কালীপ্রতিমাকে কাঁধে নিয়ে মশাল জ্বেলে সারা রাত ধরে গ্রাম পরিক্রমা করেন ভক্তরা। তারপর বিভিন্ন জলাশয়ে হয় প্রতিমা বিসর্জন।
শতাব্দীপ্রাচীন বিশ্বাস, লোককথা আর অসংখ্য কালীপ্রতিমাকে ঘিরে আমাদপুর যেন এক অন্য জগৎ। এখানে কালীপুজো শুধু ধর্মীয় আচার নয়, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে বয়ে চলা ঐতিহ্য। আর সেই ঐতিহ্যের টানেই দীপান্বিতা অমাবস্যায় বাংলার নানা প্রান্ত থেকে মানুষ ছুটে আসেন পূর্ব বর্ধমানের এই ‘কালী গ্রামে’।

Post Comment