‘রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেব ভেবেছিলাম’, ব্যক্তিগত আক্রমণের অভিযোগ, আর কী বলছেন প্রতীক উর রহমান
Pratik Ur Rahman: সিপিএমের রাজ্য কমিটি থেকে ইস্তফা দিয়েছেন প্রতীক উর রহমান। তিনি অভিযোগ তুলেছেন লবিবাজির। অভিযোগ করেছেন দলে কোণঠাসা হওয়ারও। এবার তাহলে কোন দলে যাচ্ছেন তিনি? প্রতীক উর রহমানকে ঘিরে এখন প্রশ্ন প্রচুর। ঘণ্টাখানেক সঙ্গে সুমন অনুষ্ঠানে এসে কী বললেন প্রতীক উর রহমান?
সুমন দে – বিভিন্ন দলে এবং তোমার দলেও লবিবাজি বাস্তবসত্য এবং চিরকালীন ব্যধি। তাহলে আজকের দিনে দাঁড়িয়ে তোমার সেটা অসহ্য মনে হল কেন? ভোটের আগে… সময়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঠিক ‘২৬- এর ভোটের আগে তোমার অসহ্য বোধ হইল, কেন?
প্রতীক উর – লবিবাজি তো আগেও ছিল। সব দলেই থাকে। ব্যক্তিগত আক্রমণ? অপূর্ব প্রামাণিক। দক্ষিণ কলকাতা জেলার সম্পাদক, ডিওয়াইএফআই- এর… অভিযোগ কী তোলা হল, লিখিত নয়, মৌখিক অভিযোগ, মিটিংয়ে অভিযোগ তোলা হচ্ছে একটি বাচ্চা মেয়ের সেক্সুয়াল অ্যাবিউস করেছে। অপূর্ব প্রামাণিক নিজে বিবাহিত। তাঁর স্ত্রী’র কাছে, তাঁর সমাজের কাছে, তাঁর সম্মান কতটুকু থাকল? ব্যক্তিগত পর্যায়ে আক্রমণ… এখন আমাকে নিয়ে জল্পনা করছে, নানা মহল নানা রকম করছে। আমার স্ত্রী’কে মেসেজ করছে, ফোন করছে, বিক্রি কে হল, টাকার দরকার কার, তোর না প্রতীকের? কত টাকায় হলি তুই… তোর কি শাড়ি, গয়না কিনে দিতে পারেনি বলে প্রতীক উর তৃণমূল বা প্রতীক উর বিজেপি বা প্রতীক উর অন্য দলে? ব্যক্তিগত আক্রমণ… দলের মধ্যে থেকেই হচ্ছে। আগে ছিল একটা আদর্শগত সংঘাত। সেই সংঘাত থাকা দলের পক্ষে ভাল। সাংগঠনিক কিছু প্রশ্ন, সমস্যা থাকতে পারে। কিন্তু শুধুমাত্র চেয়ারের জন্য, শুধুমাত্র পদে টিকে থাকব বলে, দলের অপর গোষ্ঠীকে ব্যক্তিগত ভাবে ম্যালাইন করে তাঁর প্রতিষ্ঠা, তাঁর সামাজিক অবস্থান, তাঁর সম্মান ভূলুণ্ঠিত করে দাও…
সুমন দে – প্রতীক উর দেখো আমি তোমায় প্রশ্ন করতেই পারি, তুমি কোন দলে যাচ্ছ? কিন্তু তার কি কোনও প্রয়োজন আছে? মানে তুমি যখন বলো সুপ্রিম কোর্টে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সওয়াল অসাধারণ, নজিরবিহীন, কিংবা পিনারাই বিজয়ন আজকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিলেন না কেন, ডায়মন্ড হারবার থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই করোনি, তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করেছ, কিংবা লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভূয়সী প্রশংসা করো, তখন কি প্রশ্ন করার দরকার হয় তুমি কোন দলে যাচ্ছ? বরঞ্চ তখন প্রশ্ন হতে পারে তুমি তৃণমূল কংগ্রেসে কবে যোগ দিচ্ছ? এবং দ্বিতীয় প্রশ্ন হতে পারে, শনিবার অর্থাৎ আগামীকাল তুমি কি আমতলার মঞ্চ থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে পতাকা নিচ্ছ?
প্রতীক উর – আমি স্পষ্ট কথা স্পষ্ট ভাবে বলতে ভালোবাসি, পছন্দ করি। ঘুরিয়ে ফিরিয়ে কথা আমার আসে না। যতদিন এসএফআই করেছি, বুক ঠুকে এসএফআই করেছি। যতদিন সিপিআইএম করেছি, বুক ঠুকে সিপিআইএম করেছি। যদি কোনওদিন অন্য কোনও দল করি, বুক ঠুকে বলব এবং সেই দলটাই করব। এখন দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। দরজাটা খুলে দেখি দরজার সামনে কে আছে? যার হাত পাব, সেই হাতটা হাতটা ধরব। আমি তো মৌচাকে ঢিল মেরেছি, আপনার কথায় সদর দফতরে কামান দেগেছি, অনেক মৌমাছি তাড়া করেছে। পশ্চিমবঙ্গের যতগুলো নামি, দামি, অনামি সংগঠন, রাজনৈতিক দল, কেউ না কেউ, ছোট-বড়-মেজ, সবাই কনট্যাক্ট করেছে, সবাই কথা বলেছে। তার মধ্যে থেকে আমার যেটা বেটার মনে হবে আমি সেদিকে যাব। প্রথমে ভেবেছিলাম রাজনৈতিক সন্ন্যাস নেব। রাজনীতির মধ্যে থাকবই না। সব ছেড়ে চলে যাব। কিন্তু এই যে ব্যক্তিগত আক্রমণ শুরু হচ্ছে, এখানে দাঁড়িয়ে আমার তো ডিফেন্ড করার জন্য কাউকে লাগবে, একটা শক্ত মাটি লাগবে এই আক্রমণের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে। কারণ লড়াইটা মতাদর্শের লড়াই হচ্ছে না।



Post Comment