কেন্দ্রের ৩৯ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ পাচ্ছে বাংলা, ঐতিহাসিক মউ সই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কেন্দ্রের ৩৯ হাজার কোটি টাকার বরাদ্দ পাচ্ছে বাংলা, ঐতিহাসিক মউ সই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

West Bengal

-Ritesh Ghosh

বাংলার গ্রামীণ এলাকার প্রতিটি পরিবারে পরিশ্রুত পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে বড় পদক্ষেপ। এদিন বৃহস্পতিবার নবান্নে কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সিআর পাটিলের সঙ্গে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের পর রাজ্য জুড়ে কেন্দ্রীয় সরকারের জনমুখী প্রকল্পগুলির দ্রুত বাস্তবায়ন নিয়ে এক বড় আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

জলশক্তি মন্ত্রকের সহায়তা আগামী দিনে রাজ্যের গ্রামীণ পরিকাঠামো উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করবে। এদিন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর দূরদর্শী ভাবনার অন্যতম সফল প্রতিফলন হল ‘জল জীবন মিশন’। এই অভিযানের প্রকৃত উদ্দেশ্য হল দেশের প্রতিটি কোণায়, বিশেষত প্রত্যন্ত গ্রামগুলির প্রতিটি ঘরে পাইপলাইনের সাহায্যে পরিশ্রুত পানীয় জল সরবরাহ নিশ্চিত করা। বাংলায় এই কাজের গতি বাড়াতে সর্বাত্মক উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

CM Suvendu Adhikari discussing Jal Jeevan Mission with Union Minister

জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রকের সঙ্গে রাজ্য সরকার দ্বিতীয় পর্যায়ের ‘জল জীবন মিশন’ প্রকল্প রূপায়ণে একটি মউ স্বাক্ষর করেছে। এই চুক্তি মোতাবেক রাজ্য সরকার এই প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্বের কাজ সম্পন্ন করার জন্য সরাসরি প্রায় ৩৯ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্র থেকে পেতে চলেছে।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু জানিয়েছেন, এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের ফলে কেবল গ্রাম বাংলার মানুষই উপকৃত হবেন না, বরং রাজ্যের পিছিয়ে পড়া জেলাগুলির জলকষ্ট একেবারেই দূর হবে। প্রতিটি বাড়িতে পরিশ্রুত জল পৌঁছবে। পানীয় জলের মাধ্যমে ছড়ানো মারাত্মক রোগব্যাধি থেকে সাধারণ মানুষ রক্ষা পাবেন।

জল জীবন মিশনের পাশাপাশি এই বৈঠকে জাতীয় স্তরে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘নমামি গঙ্গে’ প্রকল্প এবং ‘জলশক্তি অভিযান’ নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। গঙ্গা নদীর দূষণ নিয়ন্ত্রণ এবং নদীর দুই তীরের পরিবেশ রক্ষা করতে উভয় সরকার একসাথে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছে। এই প্রকল্পে রাজ্য ও কেন্দ্র যৌথভাবে নদী সাফাই অভিযানের নতুন রূপরেখা তৈরি করেছে।

নমামি গঙ্গে প্রকল্পের অধীনে গঙ্গার ঘাটগুলির সংস্কার, বর্জ্য নিষ্কাশন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ এবং নদীর পাড় বরাবর সবুজায়নের ওপরে বিশেষ জোর দেওয়া হবে। জলশক্তি অভিযানের আওতায় জলাশয় পুনরুজ্জীবিত করা এবং বৃষ্টির জল সংরক্ষণের জন্য গ্রামীণ এলাকায় বিশেষ পরিকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও দুই পক্ষ সহমত হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি দীর্ঘমেয়াদে জল সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

বাংলার জলবায়ু ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে গঙ্গা নদীর গুরুত্ব অপরিসীম। এই নদীকে দূষণমুক্ত রাখার সুফল সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় পড়বে। তাই এই যৌথ অভিযানকে শুধুমাত্র সরকারি স্তরে সীমাবদ্ধ না রেখে সামাজিক স্তরেও ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এই কাজে স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পুরসভাগুলিকে সরাসরি যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

নবান্নের এই বৈঠকের পরেই জলশক্তি দপ্তরের সমস্ত কর্তাদের প্রকল্পের অগ্রগতি তদারকি করার জন্য বিশেষ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জেলা স্তরে প্রশাসনের শীর্ষ আধিকারিকদের নিয়ে টাস্ক ফোর্স গঠন করে প্রতি সপ্তাহে কাজের গতি পর্যালোচনা করা হবে। কেন্দ্রের দেওয়া ৩৯ হাজার কোটি টাকার প্রতিটি অংশ যাতে সঠিকভাবে ব্যবহার হয়, তার জন্য কঠোর নজরদারি রাখা হবে।

Post Comment

You May Have Missed