‘মনে হচ্ছিল ইস্তফা দিয়ে দিই’, আগের ভোট পরবর্তী হিংসা-প্রসঙ্গে তাপসের বক্তব্যকে সমর্থন নৌশাদের
কলকাতা : ভোট পরবর্তী হিংসার অভিযোগকে কেন্দ্র করে উত্তাপ বাড়ল বিধানসভার অধিবেশনে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা শোভনদেবে চট্টোপাধ্যায়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পাল্টা জবাব দিলেন বর্ষীয়ান রাজনীতিক ও বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। তাপস রায়ের বক্তব্য সমর্থন জানালেন আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি।
এদিন সর্বসম্মতিক্রমে বিধানসভার অধ্যক্ষ হন রথীন্দ্র বসু। তিনি আসন গ্রহণ করার পর মুখ্যমন্ত্রী বক্তব্য রাখেন। এরপর প্রধান বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে বিরোধী দলনেতা শোভনদেবে চট্টোপাধ্যায় বক্তব্য রাখতে উঠে বলেন, “বলা হয়েছিল ভয় চলে যাবে, ভরসা আসবে। আজ ভরসা নেই, কিন্তু ভয় চারগুণ বেড়ে গেছে। বহু মানুষ ঘরছাড়া হয়ে আছে। মুখ্যমন্ত্রীর কাছে অনুরোধ করব, যখন কথা দিয়েছিলেন ভয় নয় ভরসা, আজ আপনারা সেই ব্যবস্থা করুন। যাতে ভরসা ফিরে আসে। মানুষ তাঁর বাড়িতে ফিরে আসতে পারেন। এসআইআর থেকে শুরু করে কাউন্টিং পর্যন্ত যেভাবে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলে আমাদের যেন মনে হচ্ছে কোথাও এক স্বৈরাচারের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আমি চাই না, এদেশে গণতন্ত্র ধ্বংস হবে। স্বৈরাচারের পদধ্বনি পশ্চিমবঙ্গে শুনতে পাচ্ছি।”
তাঁর এই বক্তব্যের জবাবে সুর চড়ান বিজেপি বিধায়ক তাপস রায়। তিনি জবাব দিতে গিয়ে বলেন, “আজ এদের মুখে ভোট-পরবর্তী হিংসার কথা… এদের মুখে আসে ? নির্লজ্জ-বেহায়া না হলে। ভোট পরবর্তী সন্ত্রাসের কথা বলেন ? একটা নির্বাচন হয়েছে পশ্চিমবঙ্গে রক্তপাতহীন, লাশহীন। ভি সাইন দেখিয়ে রক্তের ওপর দিয়ে লাশের ওপর দিয়ে…আজ দেড়শোর ওপর গুণতে হতো আপনাকে..লাশ…বিজেপির। যদি এই সরকার আবার ফিরে আসত। ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া, দোকানপাঠ জ্বালিয়ে দেওয়া। আর লক্ষ লক্ষ বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা বাড়িঘর পাড়া-ছাড়া থাকত।”
তাঁর এক বক্তব্য সমর্থন জানান আইএসএফ বিধায়ক নৌশাদ সিদ্দিকি। তিনি বলেন, “তাপস রায়বাবু যে কথাগুলো বলছেন, খুব একটা ফেলে দেওয়ার নয়। ২০২১ সালে নির্বাচন হওয়ার পরে ৬টা মাস এমন দিন পার করেছি, আমার মনে হচ্ছিল যে আমি ইস্তফা দিয়ে দিই। অন্তত আমার ছেলেগুলো ওপর অত্যাচার যদি বন্ধ হয়। এতে কিন্তু বিজেপিকে দরাজ সার্টিফিকেট দিচ্ছি না। কিন্তু, ২০২১ সালে যে সমস্যার সম্মুখীন আমরা হয়েছিলাম, আমাদের কর্মী খুন হয়েছিল। একাধিক বাড়িঘর লুঠপাট হয়েছিল। ভাঙচুর হয়েছিল। সেঅর্থে…। তবে, হ্যাঁ একটা জিনিস ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে বেশকিছু ধর্মীয় স্থান আক্রান্ত হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীকে এবং বিজেপির যারা আছে তাঁদের বলব, সেইগুলো আপনার লক্ষ্য রাখবেন। আমি বসে বসে ফিল করছিলাম, আমাদের বক্তব্য…বিরোধীদের বক্তব্য শাসকের পছন্দ হয়নি। চিৎকার করে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এই হাউসে ২০২১ থেকে ২০২৬ আমরা দেখেছি। আশা করব, ওইদিনটা আসবে না।”



Post Comment