‘মনে অফুরন্ত প্রেম, শুধু একজনকে কেন দেব?’ ‘ওপেন রিলেশনশিপে’ই স্বচ্ছন্দ, জানালেন জনপ্রিয় নায়িকা

‘মনে অফুরন্ত প্রেম, শুধু একজনকে কেন দেব?’ ‘ওপেন রিলেশনশিপে’ই স্বচ্ছন্দ, জানালেন জনপ্রিয় নায়িকা

মুম্বই: মায়ানগরীর বাসিন্দা হয়েও স্রোতে গা ভাসাননি। বরাবর ব্যতিক্রমী অভিনেত্রী সাহানা গোস্বামী। চরিত্রবাছাইয়ের ক্ষেত্রেও, ব্যক্তিগত জীবনেও। সেই নিয়ে কোনও রাখঢাকও নেই তাঁর। বরং অকপটে জানালেন, কোনও একজন পার্টনার নেই তাঁর। বরং এই মুহূর্তে ‘ওপেন রিলেশনশিপে’ আছেন। (Shahana Goswami)

একটি পডকাস্টে নিজের ব্যক্তিগত জীবনের খুঁটিনাটি তুলে ধরেছেন সাহানা। জানিয়েছেন, সম্পর্ক যার সঙ্গেই হোক না কেন, মুক্ত থাকা জরুরি, খোলা মনে কথাবার্তার পরিসর থাকা জরুরি। সামনের জনকে বোঝা জরুরি, সেই মতো কাটাছেঁড়া করা দরকার নিজেকেও নিয়েও। এমন অনেকের সঙ্গেই দীর্ঘ সময়ের বোঝাপড়া তাঁর। তবে কোনও সম্পর্ককেই ‘ক্যাজুয়াল’ বলতে নারাজ তিনি। (Bollywood News)

‘ওপেন রিলেশনশিপ’ বা উন্মুক্ত সম্পর্ক নিয়ে এখনও তেমন সাবলীল নন অধিকাংশ ভারতীয়। কিন্তু সাহানার মনে কোনও ধন্দ নেই। তাঁর বক্তব্য, “বর্তমানে আমার কাছে উন্মুক্ত কথাটির অর্থ হল কারও সঙ্গে বাঁধাধরা কোনও সম্পর্ক নয়, বরং দীর্ঘসময়ের অনুভূতি, বোঝাপড়া এবং সংযোগ, যে কোনও পরিস্থিতিতেই যা থেকে যায়। কখনও হয়ত শুধু বন্ধুত্ব, কখনও শারীরিক ঘনিষ্ঠতাও। জোরপূর্ব নির্দিষ্ট পথে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রাথমিক বোঝাপড়া স্পষ্ট, ভালবাসা এবং বন্ধুত্ব। আমার মনে অফুরন্ত প্রেম। তাহলে শুধু একজনকেই কেন দেব?”

আরও পড়ুন: চাঁদের বুকে মানুষের পাড়া, এবছরই শুরু হচ্ছে কাজ, কেমন হবে দেখতে? ছবি প্রকাশ করল NASA

সাহানা জানিয়েছেন, তাঁর সঙ্গীদের কাছে কোনও কিছুই গোপন নেই। কারও সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা হলে, অন্যজনও সেব্যাপারে ওয়াকিবহাল থাকেন।

তবে উন্মুক্ত সম্পর্কের কিছু অসহজ দিকও রয়েছে, যার মধ্যে অন্যতম হল ‘গোস্টিং’। অর্থাৎ কোনও কৈফেয়ত ছাড়াই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে যাওয়া, কোনও রকম যোগাযোগ না রাখা। তবে তাঁর সঙ্গে কখনও এমনটা ঘটেনি, তিনিও এমন আচরণ করেননি বলে জানিয়েছেন সাহানা। তাঁর বক্তব্য, “এমনটা হয় না। আমি কারও থেকে নিজেকে আড়াল করি না। কারণ আমিও জানি, যদি আপনি এতটা মুক্ত হন, আপনিও সেই মুক্ত থাকার ব্যাপারে ওয়াকিবহাল।”

আরও পড়ুন: শৃঙ্গ জয় করে নামার পথে মৃত্যু পর্বতারোহীর, এভারেস্টেই দেহ রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত পরিবারের

তবে উন্মুক্ত সম্পর্ক সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে বলে মেনে নিয়েছেন সাহানা। তাঁর মতে, সবেতেই কিছু নেপথ্যকারণ থাকে। এই মানসিকতা তৈরি হতেও সময় লাগে। মোটেই সহজ ব্যাপার নয়। বাইরে থেকে সহজ মনে হলেও, ঈর্ষা তৈরি হলে মনের সঙ্গে লড়াই করতে হয় নিজেকে।

তবে মোটামুটি ভাবে ভালবাসাকে মুক্ত, বাঁধনছাড়া রাখারই পক্ষপাতী সাহানা। তাঁর কথায়, “আমার বরাবর মনে হয়, ভালবাসা মুক্ত থাকুক। ভালবাসায় কাইকে বেঁধে ফেলা উচিত নয়।”

ওই পডকাস্টেই মিলিন্দ সোমনের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা প্রকাশ করেন সাহানা। জানান, মিলিন্দের বয়স তখন ৪৩। তিনি ছিলেন ২০-র কোঠায়। ১৬-১৭ বছর বয়সে একটি ছবি দেখেই মিলিন্দের প্রতি আকর্ষণ জন্মায় তাঁর। ইন্টারনেট ঘেঁটে মিলিন্দের নম্বর জোগাড় করে ফেলেন। মিলিন্দকে নিয়ে একরকম ঘোরে ছিলেন তিনি। জন্মদিনে ফোন করে শুভেচ্ছা জানাতেন। পরে কথা হয় মেসেজেও। কিন্তু তার পর দীর্ঘ ছ’বছর কথাই হয়নি তাঁদের মধ্যে। মুম্বইয়ের কলেজে যখন ভর্তি হন সাহানা, সেই সময় তিন বার দেখা হয়েছিল মিলিন্দের সঙ্গে। মিলিন্দ যখন জীবনে একাকী ছিলেন, সেই সময় সম্পর্ক গাঢ় হয় তাঁদের।

সাহানা জানিয়েছেন, ২০১৩ সালে তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যায়। তবে শেষ মুহূর্তেও পরস্পরকে ভালবাসতেন তাঁরা। কিন্তু পরস্পরের সঙ্গে বোঝাপড়ায় ছেদ পড়লে, সেই সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসাই শ্রেয় বলে মনে করেন তিনি। কাউকে বেঁধে রাখার পক্ষপাতী নন সাহানা। দু’জনের চাওয়া পাওয়া যখন আলাদা, সেক্ষেত্রে জোর করে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার পক্ষপাতী নন তিনি।

Previous post

পশ্চিমবঙ্গে ‘ডাবল ইঞ্জিন’ সরকার, এই কাজ করলেই দিতে হবে জরিমানা…হুঁশিয়ারি দিলেন অগ্নিমিত্রা

Next post

TMC Municipality Chairman: মহিলা সংক্রান্ত অপরাধ-সহ দিলীপ মণ্ডলের বিরুদ্ধে ১১ মামলার নথি আদালতে, ‘নটোরিয়াস ক্রিমিনাল’ বলল সরকারি পক্ষ

Post Comment

You May Have Missed