ভারতীয় রেলে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্যের ভয়াবহ ছবি, ৫১২-এর মধ্যে ডাহা ফেল ৪৫৮ স্টেশন

কলকাতা: ভারতীয় রেলে যাতায়াত করেন যাঁরা, সেই যাত্রীদের জন্য কতটা স্বাচ্ছন্দ্য রয়েছে, সেই রিপোর্ট এবার প্রকাশ্যে নিয়ে এল ভারতের কম্পট্রলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (Comptroller and Auditor General) বা ক্যাগ (CAG)। ৫১২ টি স্টেশন নিয়ে এই রিপোর্ট তৈরি করেছিল তারা। যদিও এর মধ্যে ৪৫৮ টি স্টেশনই ডাহা ফেল করেছে। যে ৫৪টি স্টেশন পাস করেছে, তার মধ্যে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মাত্র ২টি স্টেশন। কাঁথি ও সোনামুখী।

আরও পড়ুন: ‘মাইলেজ কমছে’, স্বীকার করেছে কেন্দ্র, ই২০-তে তবে কি নষ্ট হচ্ছে গাড়ির ইঞ্জিন?

দেশে নিত্য় নতুন বন্দে ভারত চালু হচ্ছে, বুলেট ট্রেনের স্বপ্ন দেখানো হচ্ছে, ছুটছে অমৃত ভারত এক্সপ্রেস। অথচ নূন্যতম পরিষেবাই কার্যত তথৈবচ। পানীয় জল, ফ্য়ান, টয়লেট, বসার ব্যবস্থা, প্ল্যাটফর্ম শেল্টার, ঘড়ি থেকে অ্যানাউন্সমেন্ট বোর্ডের পরিস্থিতি যাচাই করে যে রিপোর্ট সামনে এসেছে, তা চোখ কপালে তোলার মতো।

CAG-রিপোর্টে ফেল করেছে দেশের ৮৯ শতাংশ স্টেশনই। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য যাচাইয়ের জন্য নমুনা হিসেবে দেশের ৫১২টি স্টেশনকে নেওয়া হয়। ভিড় ও রোজগারের ভিত্তিতে স্টেশনগুলিকে ৬টি ভাগে ভাগ করা হয়। রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, ৫১২টি স্টেশনের মধ্যে ৪৫৮টি স্টেশনই পরীক্ষায় পাস করতে পারেনি। এর মধ্যে আবার ১৮৭টি অমৃত ভারত স্টেশন।

আরও পড়ুন: এবার দানবীয় যুদ্ধজাহাজ তৈরি করতে পারবে গার্ডেন রিচ, মাঝারি আকারের জাহাজ তৈরি হবে হাওড়াতেও, ঘোষণা প্রতিরক্ষামন্ত্রীর

এই রিপোর্টে বলা হয়েছে, পর্যাপ্ত পাখার সংখ্য়ায় ফেল করেছে ৪২ শতাংশ স্টেশন। পানীয় জলের কারণে ফেল করেছে ২৭ শতাংশ স্টেশন। ২২ শতাংশ স্টেশন ফেল করেছে টয়লেট পরিষেবায়। ১৫ শতাংশ স্টেশন ফেল করেছে বসার ব্যবস্থায়। প্ল্য়াটফর্ম শেল্টারে ১৩ শতাংশ স্টেশন ফেল করেছে। 

কখন কোন ট্রেন আসবে, কোন প্ল্য়াটফর্মে আসবে, সেই ঘোষণা অর্থাৎ পাবলিক অ্যাড্রেস সিস্টেমেও ধাক্কা খেয়েছে বহু স্টেশন। হাওড়া, শিয়ালদা, নৈহাটি, বর্ধমান, ব্য়ান্ডেল, আসানসোল, কলকাতা টার্মিনাল-সহ একাধিক স্টেশনকে নিয়ে এই পরীক্ষা-নিরীক্ষার চলে। তবে তাতে পাস করতে পেরেছে মাত্র দু’টি স্টেশন, কাঁথি ও সোনামুখী।

‘কালীঘাট-তৃণমূল’-এর বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষ বলেন, “রেল সবদিক থেকে বিপর্যস্ত। রেল ভয়ঙ্কর পরিস্থিতিতে রয়েছে। যাত্রী নিরাপত্তা, যাত্রী পরিষেবা, যাত্রী সুরক্ষা, সময়ানুবর্তিতা গোটা জিনিসটার ১২টা বেজে গেছে। কীভাবে বেসরকারির হাতে দেওয়া যায়, শুধু তার বিজ্ঞান চলছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্য়ায় যত দিন ছিলেন রেলমন্ত্রী, ততদিন বাংলাও সুবিধা পেয়েছে। রেলের ক্য়াগ রিপোর্ট ওটা বিস্তারিত আরও ভিতরে গেলে দেখা যাবে, শুধুমাত্র যাত্রী পরিষেবারয় অবনতি ঘটেছে তা নয়, সর্বাঙ্গীন অবনতির একটা প্রতিফলন আছে।”

কখনও করমণ্ডল এক্সপ্রেস, কখনও দিল্লি-কামাখ্যা এক্সপ্রেস, আবার কখনও হাওড়া-মুম্বই মেল; একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনায় বারবার বেআব্রু হয়েছে রেলের যাত্রী সুরক্ষা। আর এবার ক্যাগের রিপোর্টে সেই যাত্রী স্বাচ্ছন্দ্য নিয়েও উঠে এসেছে ভয়াবহ ছবি।

Post Comment

You May Have Missed