বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণের বার্তা, মাহেশে বিশাল গীতা পাঠের আসরে সাধু-সন্ত ও ভক্তদের ঢল
Last Updated:
Hooghly News: নবদ্বীপ ধাম থেকে আশীর্বাদ নিয়ে সনাতন সংস্কৃতির সংসদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর, কলকাতার ব্রিগেড ও শিলিগুড়িতে লক্ষাধিক কণ্ঠে গীতা পাঠ হয়েছে।
সোমনাথ ঘোষ, শ্রীরামপুর: বিশ্বশান্তি ও মানবকল্যাণের বার্তা সর্বত্র ছড়িয়ে দিতে রবিবার হুগলির শ্রীরামপুরের ঐতিহাসিক মাহেশের স্নান পীরির মাঠে এক বিশাল গীতা পাঠের অনুষ্ঠান আয়োজিত হলো। এদিনের এই আধ্যাত্মিক অনুষ্ঠানে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে বহু সাধু-সন্তু এবং সাধারণ ভক্তবৃন্দ উপস্থিত হন। মাহেশের এই প্রাঙ্গণকে কেন্দ্র করে পুরো শ্রীরামপুর এলাকা এক ভক্তিময় ও পবিত্র পরিবেশে সেজে উঠেছিল।
অনুষ্ঠানের শুরুতে এদিন সকালে লক্ষ্মীঘাট থেকে ভক্তদের মাথায় পবিত্র গঙ্গাজল নিয়ে একটি বর্ণাঢ্য কলসযাত্রা বের হয়, যা মাহেশ মাঠে এসে পৌঁছায়। এই পবিত্র যাত্রায় ভারত সেবাশ্রম সংঘের মহারাজ কার্তিক মহারাজ সহ একাধিক সাধু-সন্ত পা মেলান। পরে মাহেশ মাঠে প্রদীপ প্রজ্বলন করে মূল অনুষ্ঠানের সূচনা করেন কার্তিক মহারাজ। পাশাপাশি উপস্থিত সাধু-সন্তদের হাতে সসম্মানে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা তুলে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে কার্তিক মহারাজ জানান, পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে বর্তমানে গীতা পাঠের জাগরণ শুরু হয়েছে। নবদ্বীপ ধাম থেকে আশীর্বাদ নিয়ে সনাতন সংস্কৃতির সংসদের উদ্যোগে এই কর্মসূচি শুরু হওয়ার পর, কলকাতার ব্রিগেড ও শিলিগুড়িতে লক্ষাধিক কণ্ঠে গীতা পাঠ হয়েছে। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখেই এখন রাজ্যের নানা জেলায় কোথাও ৫০ হাজার, কোথাও ১০ বা ১৫ হাজার কণ্ঠে এই গীতা পাঠের আয়োজন করা হচ্ছে।
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতাকে কেবল ভারতের নয়, বরং সমগ্র বিশ্ববাসীর কাছে গ্রহণযোগ্য এক মহামূল্যবান ধর্মগ্রন্থ হিসেবে উল্লেখ করে কার্তিক মহারাজ বলেন, মানুষের জীবনের প্রতিটি সমস্যার সমাধান গীতার মাঝেই নিহিত রয়েছে। সমাজের যাবতীয় হানাহানি, ভেদাভেদ ও অশান্তি দূর করতে গীতার বাণী অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। মানুষের অন্তহীন চাওয়া-পাওয়ার মাঝেও গীতার আদর্শকে জীবনে অনুসরণ করলেই সমাজে প্রকৃত শান্তি ও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা সম্ভব।

Post Comment