বিজেপি-র ৩০ বছরের দুর্গে ধস, প্রথমবার ভোটে নেমেই বাজিমাত প্রশান্ত কিশোরের, মধ্যপ্রদেশেও ধাক্কা

পটনা: সোমবার কার্যত জোড়া ধাক্কা খেল বিজেপি। বিহার উপনির্বাচনে একদিকে বিজেপি-র গড়ে এগিয়ে ‘জন সুরাজ পার্টি’র প্রশান্ত কিশোর। অন্য দিকে, মধ্যপ্রদেশের দতিয়া আসনটিতে এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস। তবে গুজরাতের মঞ্জলপুর আসনটি বিজেপি-র হাতেই থাকছে। (Prashant Kishor Bankipur Results)

বিহারের বাঁকীপুরের ফলাফলের দিকে এই মুহূর্তে নজর সকলের। ভোটকুশলীর ভূমিকা থেকে সরে এসে নিজের দল গড়লেও, রাজনৈতিক লড়াই থেকে দূরেই ছিলেন। এমনকি বিধানসভা নির্বাচনে সকলের হয়ে প্রচারে গেলেও, নিজে প্রার্থী হননি। সেই সময় দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠেছিল, নেতা নিজে মাঠে না নামলে, বাকিরা উৎসাহ পাবেন কী করে? (Bypoll Results)

সেই নিয়ে কাটাছেঁড়ার মধ্যেই উপনির্বাচনে বাঁকীপুর থেকে প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করেন প্রশান্ত। বাঁকিপুর বিজেপি-র দুর্গ হিসেবেই পরিচিত। গত বিধানসভা নির্বাচনে বাঁকীপুর আসনে জয়ী হন বিজেপি-র বর্তমান সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন। দলের সর্বভারতীয় সভাপতির দায়িত্ব পাওয়ার পর রাজ্যসভায় চলে গিয়েছেন তিনি। সেই আসনেই এবার বাজিমাত প্রশান্তর। দবিকেল ৪টে পর্ন্ত সেখানে ১৫৮৬৪ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন তিনি।

আরও পড়ুন: আরও একা হয়ে যাচ্ছেন মমতা? ‘কালীঘাট তৃণমূল’ থেকে দূরত্ব বাড়াচ্ছেন আরও একজন, কাকলির মন্তব্যে বাড়ল জল্পনা

এখনও পর্যন্ত প্রাপ্ত হিসেব অনুযায়ী, বাঁকীপুরে প্রায় ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছেন প্রশান্ত। বাঁকীপুরে মূলত বিত্তশালী, শিক্ষিত মানুষের বাস। তাঁদের আস্থা অর্জন করাই লক্ষ্য় বলে জানিয়েছিলেন প্রশান্ত। তাঁর এগিয়ে থাকা বাঁকীপুরে হাওয়াবদলের ইঙ্গিতই দিচ্ছে। ‘জন সুরাজ পার্টি’র জন্যও এই ফলাফল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশান্ত বিধানসভায় প্রবেশ করলে বিহারের রাজনীতিতে তাদের খুঁটি আরও মজবুত হবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। 

প্রশান্তর এই জয় বিজেপি-র অস্বস্তির কারণ হতে পারে। কারণ ১৯৯৫ সাল থেকে গত ৩০ বছর ধরে ওই আসনটি বিজেপি-র দখলে ছিল। নবীন কিশোর প্রসাদ সিনহার পর তাঁর ছেলে নিতিন নবীন আসনটি ধরে রেখেছিলেন। ২০২৫ সালে নিতিন নবীন সেখানে ৬২.৬৬ শতাংশ ভোট পান। সেই আসন হাতছাড়া হল কেন, প্রশ্নের মুখে পড়তে হতে পারে স্থানীয় নেতৃত্বকে। 

আরও পড়ুন: ক্যান্সারের চিকিৎসায় যুগান্তকারী পদক্ষেপ, নিজের জীবন বাজি রাখলেন মহীয়সী নারী, শুরু হল ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল

বাঁকীপুরে ইতিমধ্যেই উৎসবের আমেজ চোখে পড়ছে। ‘জন সুরাজ পার্টি’র কর্মীরা উচ্ছ্বাসে মেতেছেন। আবির খেলছেন, জয়ধ্বনি দিচ্ছেন প্রশান্তর নামে।

অন্য দিকে, মধ্যপ্রদেশের দতিয়ায় এগিয়ে রয়েছে কংগ্রেস।  ১০ রাউন্ড গণনার পর দলের নেতা ঘনশ্যাম সিংহ সেখানে ১০০০০ ভোটে এগিয়ে রয়েছেন। এখনও ৫ রাউন্ড গণনা হবে। NEET প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিরুদ্ধে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র আন্দোলনে শামিল হয়েছিলেন মধ্যপ্রদেশের তরুণ-তরুণীরাও। উপনির্বাচনেও তার প্রভাব পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। 

গুজরাতের মঞ্জলাপুর আসনে আর এক রাউন্ড গণনা বাকি। এখনও পর্যন্ত সেখানে এগিয়ে বিজেপি-র সতীশ পটেল। 



Post Comment

You May Have Missed