বাবা-মা অনুপ্রেরণা, তবে আমার গল্প বলা আলাদা হবে, সেটাই স্বাভাবিক: উজান গঙ্গোপাধ্যায়

বাবা-মা অনুপ্রেরণা, তবে আমার গল্প বলা আলাদা হবে, সেটাই স্বাভাবিক: উজান গঙ্গোপাধ্যায়

তোর্ষা ভট্টাচার্য্য, কলকাতা: ‘লক্ষ্মীছেলে’ ছবিটা দেখার পরে অনেকেই বলেছিলেন, বাংলায় নতুন নায়কের উত্থান হল। তবে তিনি নিজেকে শুধুমাত্র নায়কের গন্ডির মধ্যে বাঁধা রাখতে চাননি। তাই কিছুটা সময় নিয়ে তিনি ফিরলেন, তবে শুধু অভিনয় নয়, পরিচালনাতেও। ২০২২-এর পরে ২০২৬, ফের টলিউডে চমক দিতে তৈরি উজান গঙ্গোপাধ্যায় (Ujaan Ganguly)। কৌশিক-চূর্ণী পুত্রের তুরুপের তাস এবার, ‘কাতুকুতু বুড়ো’! আর হাতে গোনা কয়েকটা দিন পরেই মুক্তি পাবে, তাঁর নতুন ছবি। কিন্তু ‘কাতুকুতু বুড়ো’-কে উজানের প্রথম পরিচালনার কাজ বললে, ভুল হবে। ইতিমধ্যেই ‘কুরুক্ষেত্র: দ্য গ্রেট ওয়র অফ মহাভারত’-এর পরিচালনা করে ফেলেছেন তিনি। তবে এবার বাংলায় কাজ, তাঁর নিজের মাতৃভাষায়। আবেগ, সিনেমা মুক্তির আগের উত্তেজনা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা.. মনের কথা বললেন উজান। 

‘লক্ষ্মীছেলে’-র পরেই কেন পরিচালনায় পা?

‘লক্ষ্মীছেলে’-র পরেই পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি পরিচালনার দায়িত্ব, সঙ্গে অভিনয় ও! এই সাহসের উৎপত্তি কী করে? উজান বলছেন, ‘আসলে ‘লক্ষ্মীছেলে’-র পরেই কোভিড আসে, সেই সময়টা কেরিয়ারের গতি সবার মতো বদলে যায় আমার ও। সিদ্ধান্ত নিই, বিদেশে গিয়ে পড়াশোনা করব। সেই সময় থেকেই থিয়েটার করা, সঙ্গে আরও বেশি করে লেখালেখি। ‘কুরুক্ষেত্র: দ্য গ্রেট ওয়র অফ মহাভারত’-এর পরিচালনার অভিজ্ঞতা আমায় অনেকটাই সাহায্য করেছে। সেই সময়ে বয়সে অনেক বড়দের সঙ্গেই কাজ করেছি। তবে পরিচালনা করব এটা ভেবে ‘কাতুকুতু বুড়ো’ আমি লিখিনি। চিত্রনাট্য হিসেবেই শ্রীকান্ত মোহতাকে শুনিয়েছিলাম প্রথমে। উনিই প্রথম বলেন, ‘যেভাবে তুমি চিত্রনাট্য়টা শোনালে, আমার মনে হয়, তুমিই পরিচালনা করো।’ ব্যাস এভাবেই কাজের শুরু।

কৌশিক-চূর্ণী অনুপ্রেরণা, কিন্তু নিজ ধারায় গল্প বলতে চান উজান

বাবা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, মা চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায়.. পরিচালনা তো উজানের রক্তে। ছেলে বাংলা ছবি পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শুনে, কী বলেছিলেন বাবা-মা? কোনও টিপস দিয়েছিলেন? উজান বলছেন, ‘বাবা-মা অবশ্যই ভীষণ খুশি হয়েছিলেন। সম্ভবত গর্বিত ও। তবে মা-বাবার থেকে কোনও টিপস আমি চাইনি কখনও। আমার নিজের গল্প বলার একটা ধারা রয়েছে, ভাবনা রয়েছে। ‘লক্ষ্মীছেলে’-র সময় ও অভিনয় নিয়ে টিপস নেওয়ার কথা মাথায় আসেনি। এটা যে সচেতন সিদ্ধান্ত তা নয়, কিন্তু আমি সব জায়গাতেই একটা নিজস্বতার স্বাক্ষর রাখতে চাই। তবে বাবা-মায়ের কাজের ধারা আমায় ভীষণ অনুপ্রাণিত করে। এত চাপের মধ্যে, এত দায়িত্ব নিয়ে কাজ করা সত্ত্বেও কীভাবে সবার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করা যায়, ঠাণ্ডা-শান্তভাবে একটা একটা করে দৃশ্যের শ্যুটিং শেষ করতে হয়, কীভাবে গল্প করতে করতে কাজ করে নেওয়া যায়… বিশেষ করে বাবার থেকে এগুলো আমি ভীষণভাবে শিখেছি। তবে আমি তো জেন জ়ি, ফলে আমার গল্প বলা বা অভিনয়ের ভাবনা বাবা-মায়ের থেকে আলাদা হবে, এটাই তো স্বাভাবিক।’

কেন সুপারহিরো সিনেমার নাম ‘কাতুকুতু বুড়ো’?

জেন-জ়ি-র পরিচালকের সিনেমার নাম, ‘কাতুকুতু বুড়ো’! অভিযোগ করা হয়, ‘জেন জ়ি’ নাকি বই পড়তেই ভুলে গিয়েছে! উজান বলছেন, ‘যখন বিশ্বসাহিত্য পড়ছি, বিভিন্ন লেখা, কবিতা পড়ছি.. তখন আমার কাছে ফিরে আসে, ছোটবেলার এই কবিতাটা। ‘কাতুকুতু বুড়ো’। আমি অনুভব করি, ছোটদের জন্য লেখা কবিতার আড়ালে, একটা গভীর বার্তা রয়েছে। একটা ‘গুড টাচ ব্যাড টাচ’-এর কথা রয়েছে। শুধু কবিতা নয়, আমায় খুব ভাবিয়েছিল কবিতার সঙ্গে আঁকা ছবিটাও। আমাদের বহু মানুষের ছোটবেলায় বিভিন্ন তীক্ত অভিজ্ঞতা থাকে। কিন্তু ছোটবেলার সঙ্গে সঙ্গে, সেগুলো ও হারিয়ে যায়, কবিতার মতোই। তবে যেটা থেকে যায়, সেটা হল একটা জমাট বাঁধা যন্ত্রণা, যার কথা বলা হয়ে ওঠে না কখনোই! সেই কথাগুলোই যদি একটা ভাষা পায়, বলার সুযোগ পায়… সেই ভাবনা থেকেই এই সিনেমা। ‘কাতুকুতু বুড়ো’-কে একটা সুপারহিরোকে নিয়ে সিনেমা বললে ভুল হবে। এর অন্দরে একটা গভীর বার্তা দর্শকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।’

সামাজিক সচেতনতা, সিনেমা ও উজানের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

যৌন হেনস্থা নিয়ে গোটা দেশে এমনকি গোটা পৃথিবীতে তো অগুনতি কাজ হয়েছে। তারপরেও মানুষের মধ্যে সচেতনা আসেনি বলে মনে হয়? উজান বলছেন, ‘কোনও সিনেমা বা শিল্পই সমাজ বদলে দিতে পারে না। যেটা পারে, সেটা হল একটা আলোচনার পরিস্থিতি তৈরি করে দিতে পারে। সেই সিনেমা বা কাজটা নিয়ে যখনই আলোচনা হবে, তখনই মানুষ এইরকম সংবেদনশীল বিষয়গুলিকে আরও একবার গুরুত্ব দিয়ে ভাববেন। আমার ও সেটাই চেষ্টা। আমাদের ছোটবেলার না বলা কষ্টগুলো একটা স্বর পাক।’

২০২২-এর পরে, ২০২৬.. উজানকে বাংলা ছবিতে ফিরে পেতে আগামীতেও কী দর্শকদের এতটা দীর্ঘ অপেক্ষাই করতে হবে? একটু হেসে উজান বললেন, ‘বাংলা আমার মাতৃভাষা। এই ভাষায় কাজ করার আনন্দের তুলনা, কোনো কিছুর সঙ্গেই করা যায় না। আমি চাই আরও কাজ করতে.. সেটা পরিচালক হিসেবে হোক বা অভিনেতা হিসেবে। আরও কাজের সঙ্গে যুক্ত হতে চাই। দেখা যাক..’

 

আরও পড়ুন: Mahua Roy Choudhury: মহুয়া রায়চৌধুরীর মৃত্যুদিনে, প্রকাশ্যে নায়িকার জীবন নিয়ে সিনেমার প্রথম ঝলক! কেমন হল অঙ্কিতার লুক?

Post Comment

You May Have Missed