ধ্বনি ভোটে নির্বাচিত ইমপার অস্থায়ী সভাপতি! চেয়ার ছাড়তে নারাজ পিয়া বললেন, ‘আইন অনুযায়ী কাজ করব’
- পিয়া সেনগুপ্ত ইমপার সভাপতি পদকে অবৈধ দাবি করেছেন।
- ধ্বনিতোটে রতন সাহা নির্বাচিত, পিয়া সেনগুপ্তের বৈধতা প্রশ্ন।
- প্রযোজক শতদীপ সাহা রতন সাহার অস্থায়ী সভাপতি হওয়া সমর্থন।
- পিয়া সেনগুপ্ত ফাইল চুরির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
কলকাতা: বাদানুবাদ থামছে না। সভাপতির পদ ঘিরে দ্বন্দ্বের মেঘও কাটছে না। ইমপার অস্থায়ী সভাপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়াকেই অবৈধ বলে দাবি করলেন পিয়া সেনগুপ্ত। পাল্টা জবাব দিলেন ধ্বনি ভোটে নির্বচিত অস্থায়ী সভাপতি রতন সাহা। ২২ মে ইমপার অফিসে সাধারণ বৈঠক ভেস্তে গিয়ে ধুন্ধুমার কাণ্ডের পর সোমবার কলকাতা প্রেস ক্লাবে সাংবাদিক বৈঠক করলেন পিয়া সেনগুপ্ত। তাঁর কথায়, তিনি গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে নির্বাচিত এবং ২০২৭ পর্যন্ত ইমপার সভাপতি পদে বহাল থাকবেন। এদিকে ইতিমধ্যেই ইমপার বিক্ষুব্ধ সদস্যরা ধ্বনি ভোটের মাধ্যমে রতন সাহাকে ইমপার অস্থায়ী সভাপতি হিসেবে নির্বাচিত করেছেন। পিয়া সেনগুপ্তর দাবি, ধ্বনি ভোটে যে ভাবে রতন সাহাকে ইমপার অস্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ অনৈতিক। আইনি পথে হেঁটেই তিনি এগোবেন।
অভিযোগ পিয়ার, পাল্টা রতন সাহা
এদিন পিয়া সেনগুপ্ত বলেন, ‘ধ্বনি ভোটটা কারা করবেন? মেম্বাররা করবেন। কিন্তু যাঁরা মেম্বার নন, তাঁরাও করবেন! এটা বেআইনি। আমরা যা করব, সবটাই আইন অনুযায়ী করব।’ পিয়া সেনগুপ্তর বক্তব্যের প্রবল বিরোধিতা করেছেন ইম্পা অস্থায়ী সভাপতি পদে নির্বাচিত রতন সাহা। তাঁর কথায়, সভাপতি নির্বাচন সম্পর্কে পিয়া সেনগুপ্ত উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে ভুল ব্যখ্যা করছেন। এদিন রতন সাহা বলেন, ‘আমি প্রথমদিন থেকে বলেছি, এই কমিটিটাও অবৈধ। এদের মতলব হচ্ছে, গদি আঁকড়ে থেকে যতদিন চালানো যায়। ২০২৭-এর পরে আমরা দেখে নেব। কিন্তু ২০২৭ অবধি তো নয়… আমি কালকেই কোর্টে যাব।’
কী অভিযোগ শতদীপ সাহার?
ইমপার অন্যতম সদস্য, প্রযোজক-পরিবেশক শতদীপ সাহাও এদিন পিয়া সেনগুপ্তর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, যে ভাবে ধ্বনি ভোটে রতন সাহাকে অস্থায়ী সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে, তা অবৈধ নয়। এদিন শতদীপ সাহা বলেন, ‘ওঁরা তো নিজেদের চেম্বারটা তালা দিয়ে চলে গিয়েছেন। যদি উনি মনে করেন যে উনি বৈধ, তাহলে তালা দেওয়ারই বা কি দরকার ছিল? কনফিডেন্স মোশন এগেন্সট দ্য প্রেসিডেন্ট আনা হয়েছে। আনার পরে, হাউস থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, রতন সাহা মহোদয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যতদিন না আরেকটা নির্বাচন হচ্ছেন, ততদিন উনিই চালাবেন।
ফাইল চুরির অভিযোগ, কী বলছেন পিয়া?
২২ মে ইমপার অফিস থেকে পিয়া সেনগুপ্ত ফাইল নিয়ে চলে গিয়েছেন বলে অভিযোগ ওঠে। ওঠে চোর চোর স্লোগানও। ফাইল প্রসঙ্গে মুখ খোলেন পিয়া। এই বিষয়ে তিনি বলেন, ‘মিটিং করার জন্য সেক্রেটারি যে ফাইলগুলো নিয়ে গিয়েছিল, মিটিং শেষ হওয়ার পরে সেক্রেটারি যেই ফাইল ধরেছে, তাঁর হাত থেকে টেনে নেওয়া হচ্ছে। উনি ফাইলটা আমায় দিয়েছেন। আমি ফাইলটা নিয়ে নিজেকে আটকে রেখেছিলাম। বেরোচ্ছিলাম। ওই ফাইলগুলো আমার হাত থেকে নিয়ে অন্য কাউকে দিয়ে দেওয়া হয়।’ দু’তরফের বাদানুবাদ মিটিয়ে ইমপার সভাপতির পদ নিয়ে দ্বন্দ্বের মেঘ কবে কাটবে? কবে সুস্থ-স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরবে ইমপায়? সেই উত্তরের অপেক্ষাতেই রয়েছে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি।
আরও পড়ুন: Don 3 Controversy: রণবীর সিংহের বিরুদ্ধে এবার ফেডারেশনে অভিযোগ ফারহান আখতারের! বিশ বাঁও জলে ‘ডন ৩’



Post Comment