দিকে দিকে বিজেপি-র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, ফাটল মাথাও, ‘ঋতব্রত তৃণমূল’ বলল, ‘এরা কি সেই সুযোগসন্ধানী…?

কলকাতা: রাজ্যে দল ক্ষমতায় এসেছে ১০০ দিনের কিছু বেশি। সেই আবহেই দিকে দিকে বিজেপি-র গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, সংঘর্ষ। এন্টালির পর এবার আনন্দপুরে বিজেপি-র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধল। প্রথমে এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়, পরে থানার সামনেও দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি, মারামারি শুরু হয়। মাথা পর্যন্ত ফাটে একজনের। বিজেপি-র মণ্ডল সভাপতির বিরুদ্ধে হামলা চালানোর অভিযোগ তুললেন অন্য গোষ্ঠী। তোলাবাজির টাকায় সেখানে প্রীতিভোজের আয়োজন হয়, মাটন খাওয়ানো হয় বলে অভিযোগ। তবে শুধু ওই ঘটনা নয়, এলাকার দখল নিয়েই দুই গোষ্ঠীর মধ্য়ে সংঘর্ষ বাধে বলে জানা যাচ্ছে। আর সেই নিয়ে এবার মুখ খুললেন ‘ঋতব্রত তৃণমূলে’র বিধায়ক সন্দীপন সাহা। (BJP Inner Clash)

খাস কলকাতার বুকে, আনন্দপুরে গতকাল গভীর রাতে বিজেপি-র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে সংঘর্ষ বাধে। রবিবার এবিপি আনন্দে সেই নিয়ে মুখ খোলেন সন্দীপন। তিনি বলেন, “সরকার চেষ্টা করছে। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বলছেন, পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি-র সভাপতিও বলছেন। তার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না। এরা কারা? এরা কি সেই সুযোগসন্ধানী, যারা সুযোগ কাজে লাগিয়ে আখের গোছাতে চাইছে। প্রশাসনকে ব্যবহার করে অবিলম্বে এগুলি যদি নিয়ন্ত্রণ না করা হয়, তাহলে বাংলার গরিমা নষ্ট হবে।” (Sandipan Saha on BJP Inner Clash)

আরও পড়ুন: মাস্ক পরার দিন ফিরল, সোয়াই ফ্লু অ্যালার্ট জারি দিল্লিতে, কাদের ঝুঁকি বেশি? অ্যান্টিবায়োটিক কি খাবেন?

তৃণমূল জমানাতে অহরহ ঘাসফুল শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের খবর সামনে আসত। ক্ষমতায় আসার পর পরই বিজেপি-তে এমন পরিস্থিতি তৈরি হল কেন, উঠছে প্রশ্ন। বিজেপি-র একাংশের দাবি, ৪ তারিখের পর বিজেপি হওয়া লোকজনের জন্যই যাবতীয় অশান্তি হচ্ছে। যদিও সেই দাবি খারিজ করে দিয়েছেন সন্দীপন। তাঁর বক্তব্য, “আমাদের সরকারের শেষের দিকে, আমাদের দল জর্জরিত হয়েছিল এই সব অভিযোগে। সেই অভিযোগগুলি যাতে খণ্ডন করা যেতে পারে, মানুষ যাতে নিষ্কৃতি পেতে পারেন, তাই তো নতুন সরকার, বিজেপি-র সরকার গঠন করেছে! এবার দায়িত্ব, দায়বদ্ধতা তার। এখন আর এটা বললে চলবে না যে তৃণমূলের লোকজন বিজেপি হয়ে এটা করছে। নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব বিজেপি দলের, সরকারের, প্রশাসনের। অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করা হোক চাই আমরা সকলেই।”

যদিও আনন্দপুরের ঘটনায় রাজ্যের মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, “প্রীতিভোজ! কার প্রীতিভোজ, কিসের প্রীতিভোজ! আমি কোনও প্রীতিভোজে যাই না। আইনশৃঙ্খলার সমস্যা হলে পুলিশ আছে, দেখবে।” অতি সম্প্রতি বিজেপি নেতৃত্বের তরফে বার বার করে এ নিয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু তার পরও বিজেপি-র অন্দরে কোন্দল থামছে না। খাস কলকাতার বুকেই পরস্পরের সঙ্গে ঝামেলা, সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ছে দলের বিভিন্ন গোষ্ঠী।

আরও পড়ুন: ‘মেয়েরা কারও অধীন নয়, পিতৃতন্ত্র নিপাত যাক’, স্পষ্ট বার্তা রাহুল গাঁধীর, ‘মনুস্মৃতি’ নিয়ে বললেন…

শুধু কোন্দলই নয়, শহরের দুর্গাপুজো দখল নিয়েও বিজেপি-তে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে। বিজেপি-র দুই গোষ্ঠীর মধ্য়ে দ্বন্দ্ব এমন আকার ঘারণ করে যে, সম্প্রতি এন্টালিতে পুরসভার পদ্মপুকুর পার্কে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। পুজোর নিয়ন্ত্রণ কার হাতে থাকবে, সেই নিয়ে বিজেপি-র দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিবাদ শুরু হয়। এক পক্ষ খুঁটি পুঁতলে, অন্য পক্ষ গিয়ে সেই খুঁটি উপড়ে দেয়। এবিপি আনন্দের খবরের জেরে শেষ পর্যন্ত তালা খোলা হয়।

Previous post

5 New Project in Bengal: আজ বাংলায় ৩৪০০ কোটির ৫ বড় প্রকল্পের উদ্বোধন, তৈরি হবে চাকরির সুযোগ—কী কী প্রকল্প?

Next post

Dilip Ghosh: ‘ডালভাত খাওয়ার আগে গুলি খাবে, পুলিশের হাত খোলা!’ খড়্গপুরকে ঠান্ডা করতে বারুইপুুর দাওয়াই দিলীপের

Post Comment

You May Have Missed