তীব্র ভূমিকম্পে ভেঙে পড়ছিল বিল্ডিং, একরত্তি মেয়েকে বাঁচাতে নিজের প্রাণ উৎসর্গ প্রখ্যাত ফুটবলার

তীব্র ভূমিকম্পে ভেঙে পড়ছিল বিল্ডিং, একরত্তি মেয়েকে বাঁচাতে নিজের প্রাণ উৎসর্গ প্রখ্যাত ফুটবলার

দুই শতাধিক প্রাণ চলে গেছে। নিহতের সংখ্যাটা অন্তত ২৩৫ বলে জানিয়েছে ভেনেজুয়েলার স্বাস্থ্য মন্ত্রক। ভয়ঙ্কর ভূমিকম্পে কার্যত লাশের সারি। এহেন তীব্র ভূমিকম্পে মর্মান্তিক পরিণতির একাধিক ঘটনা সামনে আসছে। তারমধ্যে রয়েছে ভেনেজুয়েলার নামী ফুটবলার হেক্টর বেলোর স্ত্রী আন্দ্রের মৃত্যুর ঘটনা। ভেঙে পড়া বিল্ডিং থেকে নিজেদের এক বছরের কন্যাকে রক্ষা করতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন তিনি। এমনই খবর। যে ঘটনার কথা শুনে বাকরুদ্ধ ফুটবল জগৎ। শোকপ্রকাশ করেছেন বেলোর পরিচিতজনরা।

রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে ভেনেজুয়েলা। লা গুয়াইরায় তাঁদের রেসিডেন্সিয়াল বিল্ডিং ধসে পড়লে আন্দ্রেয়া ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকা পড়েন। ব্যাপক তল্লাশি অভিযানের পর উদ্ধারকারী দল তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে। এই বিপর্যয়ে তাঁদের মেয়ে আলানা বেঁচে যায় এবং তাকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিল্ডিং ধসে পড়ার সময় সন্তানকে রক্ষা করতে গিয়ে আন্দ্রেয়া নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন।  

ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেগঘন বার্তার মাধ্যমে বেলো তাঁর শোক প্রকাশ করেছেন। হৃদয়বিদারক এক পোস্টে তাঁর প্রশ্ন, কীভাবে তিনি তাঁর ছোট্ট মেয়েকে বোঝাবেন যে তার জীবন বাঁচাতে গিয়েই তার মা নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন। জীবনের সবথেকে যন্ত্রণাদায়ক সময়ের মধ্যে দিয়ে তিনি যাচ্ছেন বলেও জানিয়েছেন। বন্ধু, ভক্ত ও সহ-ক্রীড়াবিদদের কাছ থেকে ব্যাপক সমর্থন পাওয়া সত্ত্বেও শূন্যতা ও চরম বিপর্যয়ের অনুভূতির কথা তুলে ধরেন বেলো। প্রসঙ্গত, এই মর্মান্তিক ঘটনাটি সেইসব অসংখ্য দুঃখজনক ঘটনারই একটি যা ভয়াবহ ভূমিকম্পের প্রেক্ষাপটে উঠে এসেছে। ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে শত শত মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ আহত বা বাস্তুচ্যুত হয়ে পড়েছেন এবং অসংখ্য পরিবার তাঁদের নিখোঁজ স্বজনদের খুঁজে বেড়াচ্ছে।

জিনহুয়া নিউজ এজেন্সির রিপোর্ট অনুযায়ী, বুধবার মাত্র ৪০ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানা ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্প দু’টি ছিল গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে দক্ষিণ আমেরিকার এই দেশটিতে আঘাত হানা সবচেয়ে শক্তিশালী এবং কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে প্রাণঘাতী ভূমিকম্প। ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার মধ্যাঞ্চলীয় উপকূল ও রাজধানী কারাকাসের কিছু অংশ বিধ্বস্ত হয়ে যায়। যার ফলে প্রচুর সংখ্যক বাড়ি ধসে পড়ে এবং বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। আফটারশকের কারণে আরও ধ্বংসযজ্ঞের আশঙ্কাও দেখা দেয়।

Previous post

তারাতলার বিপর্যয় থেকে শিক্ষা, রাজ্যের সিভিল ডিফেন্সের ভলান্টিয়ারদের আরও প্রশিক্ষিত করতে চলেছে রাজ্য

Next post

East Bardhaman News: গাড়ি গেলেই কাঁপছে পুরো কাঠামো, বর্ষার আগেই বসে গেল নিগন ব্রিজের একাংশ! ঘুরপথে যাতায়াতে পকেটে বাড়তি চাপ

Post Comment

You May Have Missed