গণনার আগে ধুন্ধুমার, মুখ্যমন্ত্রীর কনভয় দাঁড় করিয়ে জয় শ্রীরাম ধ্বনি! পাল্টা জয় বাংলা স্লোগান
কলকাতা: স্ট্রংরুমে কারচুপির বিভিন্ন ঘটনার অভিযোগ পেয়েছেন তিনি। তারপরই বৃহস্পতিবার রাত সোয়া আটটা নাগাদ, ভবানীপুর বিধানসভা কেন্দ্রের স্ট্রংরুম শাখাওয়াত মেমোরিয়ালে পৌঁছে যান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। ঘণ্টাখানেক পর সেখানে গিয়ে পৌঁছন ফিরহাদ হাকিমও। যদিও তিনি ভিতরে ঢুকতে পারেননি।
রাত ১২টার পর, প্রায় চার ঘণ্টা শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রং রুম চত্বরে কাটিয়ে বেরোলেন মমতা। তারপরই তিনি সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য রাখেন। এরপর যখন তিনি কনভয় নিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছেন, আচমকা দেখা যায় দাঁড়িয়ে পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর কনভয়। প্রথমে বোঝা যায়নি যে, কেন মমতার কনভয় দাঁড়িয়ে পড়ল।
পরে বোঝা যায় আসল ছবি। দেখা যায়, ব্যারিকেডের একদিক থেকে জয় শ্রীরাম ধ্বনি তুলছেন বিজেপির সমর্থকেরা। পাল্টা জয় বাংলা স্লোগান তুলছেন তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মী-সমর্থকেরা। সব মিলিয়ে স্লোগান যুদ্ধে গভীর রাতে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠল পরিস্থিতি। খানিকক্ষণ দাঁড়ানোর পর মমতার কনভয় এলাকা ছাড়ে।
এদিন শাখাওয়াত মেমোরিয়ালের স্ট্রংরুম থেকে বেরিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যাঁরা স্ট্রংরুম পাহারা দিচ্ছেন, তাঁদের একটু বসার ব্যবস্থা করতে বলেছি। সেই সঙ্গে বলেছি একটু শৌচাগারের যাতে ব্যবস্থা থাকে, সবাই যেন সিসিটিভি ক্যামেরা দেখতে পান, সেটাও বলেছি। সংবাদমাধ্যমও যাতে স্ট্রংরুমের ভিতরের সিসিটিভি ক্যামেরা দেখতে পায়, সেই ব্যবস্থা করা গেলে খুব ভাল হয়। তার জন্য বাইরে একটা সিসিটিভির প্রয়োজন রয়েছে। বাইরে সবার বসার জায়গা করা গেলে ভাল হয়। কে কোন পার্টির এজেন্ট, আমার কাছে সেটা কোনও ব্যাপার নয়। বাইরে প্রবল ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে, এজেন্টরা ভিজছেন। কারেন্টের সমস্যাও হতে পার যখন তখন।’
আরও পড়ুন: সত্যিই কি স্ট্রং-রুমে ঢুকেছিল বহিরাগতরা? তৃণমূলের অভিযোগ শুনে কী জানিয়ে দিল নির্বাচন কমিশন?
গতকালই শেষ হয়েছে রাজ্যের ভোটপর্ব। ফলাফল বেরোবে ৪ মে। তবে তার আগে বৃহস্পতিবার স্ট্রংরুিম নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হল। দফায় দফায় সামনে চলে আসছে বিভিন্ন বিক্ষোভের খবর। এবং সেটা খাস কলকাতার বুকে! নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামেও উত্তেজনা দেখা দেয়। তৃণমূল বিজেপির মধ্যে স্লোগান যুদ্ধে উত্তপ্ত হয় পরিস্থিতি। তৃণমূলের নেতানেত্রী থেকে শুরু করে, বিজেপি নেতা, কর্মী সমর্থকেরাও হাজির হয়ে গিয়েছিলেন। তৃণমূলের অভিযোগ ছিল, স্ট্রংরুমে ঢুকেছে বহিরাগতরা! এ নিয়ে একটি ভিডিও-ও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে প্রকাশ্যে আনা হয়। যদিও নির্বাচন কমিশন থেকে অভিযোগ উড়িয়ে দেওয়া হয়।
সাংবাদিক সম্মেলন করে সব অভিযোগ নস্যাৎ করে দেন নির্বাচন কমিশনের (Election Commission) ডিস্ট্রিক্ট অবজার্ভার নর্থ স্মিতা পাণ্ডে। তিনি বলেন, ‘যা হচ্ছে সেটা পদ্ধতি মেনেই হচ্ছে। আমরা পোল ব্যালটটাকে বাইরে না নিয়ে এসে ওখানে যে করিডরটা ছিল, সেখানে আমাদের অ্যাসিস্ট্যান্ট রিটার্নিং অফিসারেরা, তাঁরা ওই করিডরের মধ্যে বসেই ওই সেগ্রিগেশনের কাজটা করছিলেন। যেহেতু ওখানে স্ট্রং রুম আছে, তাই আমরা পাওয়ার রাখতে পারি না আইন অনুযায়ী। সে জন্য ওঁরা যে লাইটটা ছিল, প্লাস কিছু টর্চলাইট নিয়ে বসে সেগ্রিগেশন করছিলেন। এখনও করছেন, কারণ সেগ্রিগেশন করতে টাইম লাগে।’



Post Comment