‘কে তোমরা, কোথা থেকে আসছ…?’ হঠাৎ এগিয়ে এলেন পুলিশ অফিসার! পরমুহূর্তেই যা বেরিয়ে এল, নিমেষে ছুটল ঘাম!
Last Updated:
East Medinipur News: হলদিয়া থানার পুলিশের তৎপরতায় উদ্ধার হওয়া দুই নাবালককে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে ৩১শে অক্টোবর পরিবারের হাতে নিরাপদে তুলে দেওয়া হয়। ৩০শে অক্টোবর রাতে ক্ষুদিরাম নগর এলাকা থেকে তাদের উদ্ধার করা হয়েছিল।
সৈকত শী: রাস্তা থেকে দুই নাবালককে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দিল পুলিশ। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশের এই ভূমিকায় খুশি সাধারণ মানুষ! ৮ বছর ও ১৩ বছর বয়সি দুই নাবালক উদ্দেশ্যহীনভাবেই ঘোরাফেরা করছিল। নজরে আসে রাস্তায় টহলদারি এক পুলিশ অফিসারের। সঙ্গে সঙ্গেই তাদের কাছে পৌঁছে যান ওই পুলিশ অফিসার। দুই নাবালকের পরিচয় জানতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। আর তখনই জানতে পারে দুই নাবালক পূর্ব মেদিনীপুর জেলার নয়, একজন ভিন জেলার এবং অন্যজন ভিন রাজ্যের। সেখান থেকেই তারা কোনভাবে চলে এসেছে হলদিয়ায়।
হলদিয়া থানা সূত্রে জানা যায়, ৩০ অক্টোবর হলদিয়া শহরের ক্ষুদিরাম নগর এলাকায় দুই নাবালককে উদ্দেশ্যহীনভাবেই ঘুরে বেড়াতে দেখে হলদিয়া থানার পুলিশ আধিকারিক। তাদের পরিচয় জানার পর নিয়ে আসা হয় হলদিয়া থানায়। ওই তুই নাবালকের কাছে পরিবারের ঠিকানা নিয়ে যোগাযোগ করে হলদিয়া থানার পুলিশ। ওই দুই নাবালকের নাম ঈশ্বর ধীবর। বয়স ৮ বছর বাড়ি পশ্চিমবঙ্গের বীরভূম জেলায়। অন্যজন ইন্দ্রনীল বর্মণ। ১৩ বছর বয়সী ইন্দ্রনীলের বাড়ি ঝাড়খণ্ডের দুমকা জেলায়। পুলিশের অনুমান এই দু’জন একই সঙ্গে বাড়ি থেকে কোনোভাবে বেরিয়ে হলদিয়া এসে পৌঁছে যায়।
হলদিয়া থানার পুলিশ ওই দুই নাবালকের পরিবারকে ডেকে পাঠায়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়ার পরে ৩১ অক্টোবর পরিবারের হাতে ওই দুই উদ্ধার করে তুলে দেওয়া হয়। নাবালকদের পরিবারের লোকজনেরা জানিয়েছেন, “দিঘা যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়ে দুই নাবালক বাড়ি থেকে লুকিয়ে বেরিয়ে এসেছিল। আমরা এলাকায় খোঁজাখুঁজি করি কিন্তু পাওয়া যায়নি। তারপর হলদিয়া থানা থেকে খবর যায়। ওই দুই নাবালকের খোঁজ পাই। সম্পূর্ণ সুস্থ অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে আমাদের হাতে তুলে দিয়েছে হলদিয়া থানার পুলিশ।”
পরিবারের পক্ষ থেকে আরও জানা যায়, দুই নাবালক দুই রাজ্যের বাসিন্দা হলেও। পরিবারের মধ্যে আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে। একে অপরকে চিনত। দিঘা যাওয়ার উদ্দেশ্য নিয়েই বাড়ি থেকে লুকিয়ে চলে আসে। রাস্তায় পথ ভুল করে হলদিয়ায় পৌঁছে যায়। পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ এই ঘটনায় শুধুমাত্র ওই নাবালক বাড়ি থেকে লুকিয়ে পালিয়ে এসেছিল কিনা বা অন্যকেউ তাদের প্রলোভন দেখিয়ে নিয়ে এসেছিল কিনা তদন্ত করে দেখছে।

Post Comment