একসময়ে বিশ্বের সেরা অলরাউন্ডার মানা হত, আচমকাই ম্যাচের মাঝেই ক্রিকেটকে বিদায় স্টোকসের
লন্ডন: সাম্প্রতিক সময়ে বিতর্কে জর্জরিত হয়েছিলেন। নাইটক্লাবে হাতাহাতিতে জড়িয়ে নিজের দেশের ক্রিকেট বোর্ডের বিরাগভাজনও হয়েছিলেন। এবার টেস্ট ম্যাচের মাঝেই পাকাপাকি ক্রিকেট ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলেন বেন স্টোকস (Ben Stokes)। একসময়ে বিশ্ব ক্রিকেটের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার মানা হত স্টোকসকে। তিন ফর্ম্যাটেই দাপটের সঙ্গে খেলেছেন ২০১৯ বিশ্বকাপজয়ী ইংল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। ২০২২ সালে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতছিল জশ বাটলারের নেতৃত্বাধীন ইংল্যান্ড দল। সেই দলেরও সদস্য ছিলেন স্টোকস।
বাকি দুটো ফর্ম্য়াট থেকে সরে দাঁড়িয়েছিলেন আগেই। টেস্ট ফর্ম্য়াটে দেশের নেতৃত্বভার সামলাচ্ছিলেন। কিন্তু নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে টেন্টব্রিজের ম্য়াচের মাঝেই লাল বলের ক্রিকেট থেকেও সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিলেন। ২০১১ সালে ইংল্যান্ড সিনিয়র দলে প্রথমবার সুযোগ পাওয়া স্টোকসের টেস্ট অভিষেক হয় ২০১৩ সালে অ্য়াশেজে। টেস্ট ফর্ম্য়াটে ২০২২ সাল থেকে দেশকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। কিন্তু দলকে টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ জেতাতে ব্যর্থ হয়েছেন। নিজের ফর্মও খুঁজছিলেন। এরমধ্য়েই আবার রাগবি খেলোয়াড়ের সঙ্গে হাতাহাতিতে জড়িয়েছেন। যার জন্য একাদশ থেকেও বাদ পড়েছিলেন। সব মিলিয়েই কি চাপ অনুভব করে আগে থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে নিলেন স্টোকস?
ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের চেয়ারম্যান রিচার্ড থম্পসন বেন স্টোকসের অবসর ঘোষণা প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, ‘বেন স্টোকস ইংল্যান্ডের সর্বকালের অন্যতম সেরা ক্রিকেটার ও এই প্রজন্মের সেরা ব্যক্তি হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ছেড়ে চলে যাচ্ছে। চাপের মুখে বেন যে পারফরম্যান্স, নিরন্তর প্রতিদ্বন্দ্বিতা চালিয়ে যাওয়া ও প্রয়োজনের মুহূর্তে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখানোর ক্ষমতা আমার মত লক্ষ লক্ষ অনুরাগীদের যে স্মৃতি উপহার দিয়েছে তা চিরকাল রয়ে যাবে।’
নিজের ১৫ বছরের বর্ণাঢ্য আন্তর্জাতিক কেরিয়ারে স্টোকস খেলেছেন ১২২টি টেস্ট, ১১৪টি ওয়ানডে ও ৪৩টি টি-টোয়েন্টি। তারকা অলরাউন্ডার অবসরের প্রসঙ্গে বলছেন, ‘শুনতে হয়তো কিছুটা স্বার্থপরের মতো মনে হতে পারে, কিন্তু এই মুহূর্তে এই সিদ্ধান্তই সত্যিকার অর্থে আমার জন্য সবচেয়ে ভালো। আমি আর ইংল্যান্ডের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করব না। আমি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে অবসর নিতে চলেছি। আশা করি, দলের জন্যও এটি ইতিবাচক হবে। একই সঙ্গে এই সিদ্ধান্ত আমাকে খেলাটিকে ভালোবাসতে সাহায্য করবে, যে খেলাটি আমাকে জীবনে এত কিছু দিয়েছে।’
FIFA World Cup 2026: মহাকাশে বিশ্বকাপের ফুটবল! ‘Trionda’ নিয়ে গবেষণা করছে NASA?



Post Comment