যাত্রী নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে হাওড়া ডিভিশনের ব্যাপক বর্ষা প্রস্তুতি শুরু

যাত্রী নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে হাওড়া ডিভিশনের ব্যাপক বর্ষা প্রস্তুতি শুরু

Last Updated:

পূর্ব রেলওয়ের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শিবরাম মাঝির বক্তব্য, ‘‘যাত্রী নিরাপত্তা এবং সুবিধাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। এই কারণেই আমরা ২৪ ঘণ্টা জিপিএস-সংবলিত টহলদারি এবং ব্যাপক পরিকাঠামোগত জোরদারকরণের ব্যবস্থা করেছি। পূর্ব রেল আবহাওয়াজনিত বিঘ্ন কমাতে এবং এই বর্ষায় আপনাদের যাত্রা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও মসৃণ রাখতে পুরোপুরি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’

হাওড়া ডিভিশনের ব্যাপক বর্ষা প্রস্তুতি শুরু (Representative/File Image)
হাওড়া ডিভিশনের ব্যাপক বর্ষা প্রস্তুতি শুরু (Representative/File Image)

আবীর ঘোষাল, কলকাতা: ২০২৬ সালের মূল বর্ষা মরশুম শুরুর আগেই পূর্ব রেলওয়ে তার পরিকাঠামো সুরক্ষিত রাখতে এবং নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। পূর্ব রেলের জেনারেল ম্যানেজার মিলিন্দ দেওস্করের নির্দেশনায় ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন শুরু করেছে এবং ২৪ ঘণ্টা টহলদারির ব্যবস্থা করেছে। এই আগাম পদক্ষেপগুলি জল জমার ঝুঁকি দূর করবে, ট্র্যাক বা রেললাইনের ক্ষতি রোধ করবে এবং ভারী বৃষ্টির সময় এই অঞ্চলে যাতায়াতকারী যাত্রীদের পরম নিরাপত্তা ও সুবিধা নিশ্চিত করবে।

হাওড়া ডিভিশনের ডিভিশনাল রেলওয়ে ম্যানেজার (ডিআরএম) বিশাল কাপুর নিজে কাজ তদারকি করে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল নিরাপত্তা এলাকাগুলিতে নিয়মতান্ত্রিক পরিদর্শন অভিযানের উপর জোর দিয়েছেন। রেললাইন থেকে জল দূরে রাখার জন্য চিহ্নিত সমস্ত ১৬,৭৬১.৮ মিটার ড্রেন পরিষ্কার করে এই ডিভিশন ড্রেন সাফাইয়ের কাজে ১০০% সাফল্য অর্জন করেছে। এ ছাড়া, ট্র্যাক এবং ওভারহেড ইকুইপমেন্টের (ওএইচই) জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ৭,৬৪৭টি গাছের মধ্যে ৭,৬২৩টি ছাঁটাই করা হয়েছে এবং বাকি ২৪টি গাছ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে ছাঁটাই করার লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে।

১৯৫টি স্টেশন জুড়ে ১,৪৯৩টি প্ল্যাটফর্ম শেড ইউনিটে নিরাপত্তা পরিদর্শন চালানো হয়েছে এবং যাত্রীদের বৃষ্টি থেকে সুরক্ষিত রাখতে ৩৯৭টি ত্রুটি সফলভাবে সংশোধন করা হয়েছে (৮২% অগ্রগতি), বাকি কাজ ২০২৬ সালের ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। পাশাপাশি, ৫১টি ঝুঁকিপূর্ণ কম উচ্চতার কাঠামো (এলএইচএস), রেল আন্ডার ব্রিজ (আরইউবি) এবং সাবওয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে; ১০টি স্থানে ইতিপূর্বেই কাজ শেষ হয়েছে এবং বাকিগুলিতে কাজ চলছে, যেখানে জল জমার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য চব্বিশ ঘণ্টা নিরবিচ্ছিন্নভাবে পেট্রলম্যানরা নিয়োজিত রয়েছেন।

ট্রেন চলাচলের নিরাপত্তা বজায় রাখতে, প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও সামনের সারির পেট্রলম্যানদের কাজের কার্যকারিতা ধরে রাখতে তাদের জন্য স্থায়ী শেল্টার হাট (আশ্রয় কুটির) তৈরি করা হচ্ছে। নিরাপত্তা বিধি এবং আইআরপিডব্লিউএম (IRPWM) নির্দেশিকা মেনে কম ঝুঁকিপূর্ণ অংশ, সতর্কতামূলক এলাকা (কশন লোকেশন), ধসপ্রবণ বা দুর্বল বাঁধ (ব্যাড ব্যাংক) এবং দুর্বল ফর্মেশনগুলিতে ২৪×৭ নিবিড় টহলদারি চালানো হচ্ছে। ২৫ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, টহলদারির বিন্যাস নিম্নরূপ: বর্ষার অভিজ্ঞতা না থাকা ১১টি নতুন এলএইচএস সেকশন (১০টি চব্বিশ ঘণ্টার টহল, ৯টি জিপিএস-সংবলিত), গত বর্ষা দেখা ২টি এলএইচএস সেকশন (২টি চব্বিশ ঘণ্টার টহল, ২টি জিপিএস-সংবলিত), এবং জল জমার প্রবণতা থাকা ৪টি এলএইচএস এলাকা (৩টি ২৪ ঘণ্টার টহল, ৩টি জিপিএস-সংবলিত)। তা ছাড়া, ৩০ কিমি প্রতি ঘণ্টা গতিসীমা থাকা ৫৪টি সতর্কতামূলক এলাকা (৫৩টি চব্বিশ ঘণ্টার টহল, ৫৩টি জিপিএস-সংবলিত), ৪৮টি ধসপ্রবণ বাঁধ/দুর্বল ফর্মেশন (২৮টি চব্বিশ ঘণ্টার টহল, ২৭টি জিপিএস-সংবলিত), এবং অন্য ২৪টি সতর্কতামূলক এলাকা (১৪টি চব্বিশ ঘণ্টার টহল, ১৩টি জিপিএস-সংবলিত) পর্যবেক্ষণ করছে এই ডিভিশন। নতুন চিহ্নিত এলএইচএস, জলমগ্ন এলাকা এবং দুর্বল ফর্মেশনগুলির ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে, যেখানে জিপিএস-সংবলিত পেট্রলম্যানরা রিয়েল-টাইম (তাত্ক্ষণিক) পর্যবেক্ষণ এবং দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ নিশ্চিত করছেন। পাশাপাশি, সমস্ত পিকিউআরএস (PQRS) ব্রিজ এবং ব্লক মেইনটেন্যান্স (বিসিএম) সাইটগুলিতে অবিচ্ছিন্ন ২৪ ঘণ্টা টহলদারি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে, যা সংবেদনশীল পয়েন্টগুলিতে কঠোর নজরদারি নিশ্চিত করছে।

এই সব পরিকাঠামোগত ব্যবস্থার পাশাপাশি, যাত্রীদের সর্বোচ্চ সুবিধার জন্য একটি শক্তিশালী জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা ব্যবস্থা (এমার্জেন্সি রেসপন্স ফ্রেমওয়ার্ক) গড়ে তোলা হয়েছে। জল জমার প্রবণতা রয়েছে এমন নির্দিষ্ট রেললাইন এলাকাগুলিতে আগে থেকেই জরুরি পাম্প মজুত রাখা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ এলএইচএস এবং সতর্কতামূলক এলাকাগুলিতে বিশেষ নজরদারি স্কোয়াড সক্রিয় রয়েছে, যারা তাৎক্ষণিক পরিস্থিতির খবর পেতে জিপিএস-ভিত্তিক রিপোর্টিং ব্যবহার করছে। আবহাওয়াজনিত বিঘ্ন মোকাবিলায় একযোগে কাজ করার জন্য ইঞ্জিনিয়ারিং, সিগন্যাল অ্যান্ড টেলিকম, ইলেকট্রিক্যাল (ওএইচই) এবং অপারেশনস বিভাগের মধ্যে পারস্পরিক সমন্বয় ব্যবস্থা সম্পূর্ণ সক্রিয় করা হয়েছে। নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে সমস্ত এইএন (AEN) এবং এসএসই/পিডব্লিউআই (SSE/PWI) অফিসগুলিকে হাই অ্যালার্ট বা উচ্চ সতর্কতায় রাখা হয়েছে, যাতে ট্র্যাকের ত্রুটি, জল জমা এবং ব্রিজের সমস্যাগুলি তাৎক্ষণিকভাবে সমাধান করা যায়।

বাংলা খবর/ খবর/কলকাতা/

যাত্রী নিরাপত্তা এবং নিরবচ্ছিন্ন ট্রেন চলাচল নিশ্চিত করতে হাওড়া ডিভিশনের ব্যাপক বর্ষা প্রস্তুতি শুরু

Post Comment

You May Have Missed