আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তির জাদু! অবিশ্বাস্য গতিতে ঊর্ধ্বমুখী শেয়ার বাজার, হু হু করে বাড়ল সেনসেক্স-নিফটি!
Business
-Ritesh Ghosh
সপ্তাহের প্রথম দিনেই ভারতীয় শেয়ার বাজারে ব্যাপক উত্থান। দালাল স্ট্রিটে ক্রেতাদের প্রবল দাপটে সেনসেক্স এবং নিফটি উভয় সূচকই ১.৫ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। আমেরিকা-ইরান শান্তি চুক্তি ও তেলের দাম কমায় এই উর্ধ্বগতি এসেছে। এদিন সেনসেক্স ১,১০০ পয়েন্ট লাফিয়ে ৭৬,৮০০-র উপরে যায়। নিফটিও ৩০০ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,০০০ স্পর্শ করেছে। বিএসই-র মূলধন ৮ লক্ষ কোটি টাকা বেড়ে ৪৭০ লক্ষ কোটি ছুঁয়েছে। এনএসইতে ২,৪৯১টি শেয়ার লাভজনক আর ২৪১টি লোকসানে ছিল।
আজকের লেনদেনে সেনসেক্সে নেতৃত্ব দেওয়া ইন্ডিগো, বাজাজ ফাইন্যান্স, ইটারনাল, আল্ট্রাটেক সিমেন্ট, এলঅ্যান্ডটি, ট্রেন্ট, এশিয়ান পেইন্টস, এইচডিএফসি ব্যাঙ্ক, এমঅ্যান্ডএম, ইনফোসিস, টাইটান, আদানি পোর্টস, হিন্দুস্তান ইউনিলিভার, টাটা স্টিল, এসবিআই ও টেক মহিন্দ্রার শেয়ার দর ১-৪% বেড়েছে। বিপরীতে ভারতী এয়ারটেল ও সান ফার্মা সামান্য লোকসানে লাল তালিকায় ছিল। নিফটি রিয়েলটি ও ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস ৩% বেড়ে শীর্ষে থাকলেও ফার্মা ক্ষয়ের মুখে পড়ে। মিডক্যাপ বাড়লেও অস্থিরতার সূচক ভিআইএক্স ৪% কমে ১৪.১৩-এ থিতু হয়েছে।

আমেরিকার বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে ঘোষণা করেন যে ইরানের সঙ্গে বহুল প্রতীক্ষিত শান্তি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি লিখেছেন, “ইরানের সাথে চুক্তি এখন সম্পূর্ণ।” তিনি জানান, কয়েক মাস বন্ধ থাকার পর শুক্রবার কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া হচ্ছে এবং মার্কিন অবরোধ প্রত্যাহার করা হচ্ছে। ট্রাম্প লিখেছেন, “বিশ্বের জাহাজগুলি ইঞ্জিন চালু করুক, তেলকে বইতে দিন!” ইরানের উপ-বিদেশমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদিও সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করেছেন।
এই শান্তি চুক্তির জোরালো খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে হু হু করে হ্রাস পাচ্ছে অপরিশোধিত তেলের দাম। কিছুদিন আগে হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল পিছু রেকর্ড ১২০ ডলার ছুঁয়েছিল। ৩৩ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সরু জলপথটি দিয়ে বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস সরবরাহের ২০ শতাংশেরও বেশি পরিবাহিত হয়। এই চুক্তি স্বাক্ষরের পর সোমবার সকালে ব্রেন্ট ক্রুড ৫% কমে ব্যারেল প্রতি ৮৩ ডলার এবং ডব্লিউটিআই ক্রুড ৬% কমে ৮০ ডলারে নেমে আসে।
বিশ্ববাজারে বড় অস্থিরতা কেটে যাওয়ার ফলে মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইল্ড বা উপার্জনের হার আশাব্যঞ্জকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন বন্ডের সুদের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে ৪.৪২৬% হয়েছে এবং ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের ক্ষেত্রে তা হ্রাস পেয়ে ৪.৯২৪% হয়েছে। অন্যদিকে, ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হারের পূর্বাভাসের সাথে গভীরভাবে সম্পর্কযুক্ত ২ বছরের বন্ডের ইল্ড নেমে এসেছে ৪.০২৪%-এ। বন্ডের সুদের হার কমার কারণে লগ্নিকারীরা এখন তুলনামূলকভাবে বন্ড ছেড়ে পুনরায় শেয়ার বাজারমুখী হচ্ছেন।
এই বৈশ্বিক ইতিবাচক পদক্ষেপের প্রভাবে সারা বিশ্ব জুড়েই শেয়ার বাজারগুলিতে চাঙ্গাভাব দেখা গেছে। জাপানের প্রধান সূচক নিক্কেই ৫ শতাংশের বেশি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি সূচক প্রায় ৬ শতাংশ বৃদ্ধি পায়। হংকংয়ের হ্যাং সেং এবং চিনের সাংহাই কম্পোজিট সূচকও ১% লাভ করেছে, যেখানে তাইওয়ানের ওয়েটেড ইনডেক্স ৩% বৃদ্ধি পেয়েছে। এছাড়া গত শুক্রবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাসডাক এবং ইউরোপের এফটিএসই, সিএসি ও ডিএএক্স সূচকগুলি প্রত্যেকেই শক্তিশালী ২% উত্থানের মুখ দেখেছিল।
অনুকূল বিশ্ব পরিস্থিতির সদ্ব্যবহার করে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় টাকা একধাক্কায় ৫৩ পয়সা শক্তিশালী হয়ে ৯৩.৬৫-এ জায়গা করে নিয়েছে।



Post Comment