West Medinipur News : শরীরে যেন নেই হাড়! পুলিশ সুপারের বিজয়া মঞ্চে ‘ম্যাজিক’ দেখাল দাঁতনের মেয়েরা
Last Updated:
জেলা পুলিশের বিজয়া সম্মেলনীর মঞ্চ। সেখানেই দাঁতন মানব কল্যাণ কেন্দ্রের বিশেষভাবে সক্ষম মেয়েরা যোগাসন ও নৃত্যের যুগলবন্দি প্রদর্শন করে তাক লাগিয়ে দিয়েছে।
দাঁতন, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ : সুরের ছন্দে শরীরটা যেন অবলীলায় কখনও ধনুকের মতো বেঁকে যাচ্ছে, আবার কখনও শূন্যে ভেসে তৈরি করছে অবিশ্বাস্য সব ভঙ্গি। মঞ্চে বাজনা বাজলেও তাদের কারও কানে সেই শব্দ পৌঁছয় না।
কেউ আবার মুখে মনের ভাবটুকু প্রকাশ করতে পারে না, কারও বা একটানা কথা বলতে গেলে জড়িয়ে যায় জিভ। কিন্তু শরীরের সমস্ত জড়তা আর খামতিকে এক নিমেষে উড়িয়ে দিয়ে পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা পুলিশের বিজয়া সম্মেলনীর মঞ্চে তাক লাগিয়ে দিল একদল বিশেষভাবে সক্ষম মেয়ে।
দাঁতন মানব কল্যাণ কেন্দ্রের আবাসিক এই কন্যারা টানা বেশ কয়েক মিনিট ধরে যে যোগাসন আর নৃত্যের যুগলবন্দি উপহার দিল, তা দেখে উপস্থিত দর্শকদের চোখ ছানাবড়া। দেখে মনে হচ্ছিল, ওদের শরীরে যেন কোনো হাড়ই নেই, শুধু মিশে রয়েছে নিখাদ আত্মবিশ্বাস।
কেন্দ্রের ভেতরে নাচ, গান আর হাতের কাজের পাশাপাশি গত প্রায় দু’বছর ধরে একটানা যোগার কড়া অনুশীলন চালিয়ে যাচ্ছে তারা। মুখের ভাষা স্পষ্ট না হলেও ওদের চোখেমুখে ছিল উপচে পড়া আনন্দ। তাদের কথায়, এই যোগাসন করতে তাদের সবচেয়ে ভালো লাগে। সেই ভালোবাসা আর প্রতিদিনের ঘাম ঝরানো পরিশ্রমে ভর করেই আর পাঁচটা সাধারণ ছেলেমেয়ের মতোই অনায়াসে কঠিন সব শারীরিক কসরত করে দেখাল তারা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা যে প্রতিভার পথে কখনও বাধা হতে পারে না, মঞ্চে দাঁড়িয়ে যেন সেটাই প্রমাণ করে দিল এই মেয়েরা।
বিশেষভাবে সক্ষম এই মেয়েদের অদম্য লড়াই আর অভাবনীয় পারফরম্যান্স দেখে আবেগ চেপে রাখতে পারেননি পশ্চিম মেদিনীপুরের জেলা পুলিশ সুপার পাপিয়া সুলতানা। মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি স্পষ্ট জানান, এই কন্যারা শুধু সমাজের নয়, তাঁর নিজেরও অন্যতম সেরা অনুপ্রেরণা। তাদের এই লড়াইয়ের উদাহরণ টেনে গোটা পুলিশ বাহিনীকে আরও বেশি করে উদ্দীপিত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পুলিশ সুপারের মতে, যারা সামান্য সমস্যাতেই ভেঙে পড়ে বা পিছিয়ে আসে, তাদের কাছে এই মেয়েরাই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় শিক্ষক। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও এমন আত্মবিশ্বাস নিয়ে কীভাবে এগিয়ে যেতে হয়, তা এদের দেখেই শেখা উচিত।
Post Comment