ইজরায়েলে রাজনৈতিক অস্থিরতা, ভারতের চিন্তা কোথায়? প্রতিরক্ষা থেকে তেল, প্রভাব পড়তে পারে কোথায়?
তেল আভিভ: ইজরায়েলের নির্বাচনে কোনও দলই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়নি। ১২০ আসনের ইজরায়েলের পার্লামেন্ট অর্থাৎ নেসেটে (Israel) বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) -এর লিকুদ-নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৫৩টি আসন। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকটের (Gadi Eisenkot) নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের ঝুলিতে ৪৮টি আসন। আরব-নেতৃত্বাধীন দলগুলি পেয়েছে ১৯টি আসন। ফলে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এই রাজনৈতিক অচলাবস্থার প্রভাব শুধু ইজরায়েলেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, নজর থাকবে ভারতেরও।
ভারত ও ইজরায়েলের সম্পর্ক এখন আর শুধু অস্ত্র কেনাবেচায় সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিরক্ষা, ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, সাইবার নিরাপত্তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, কৃষি, জলপ্রযুক্তি এবং মহাকাশ গবেষণার মতো একাধিক ক্ষেত্রে সহযোগিতা বাড়ছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর (PM Narendra Modi) ইজরায়েল সফরে দুই দেশের সম্পর্ক ‘স্পেশ্যাল স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ’ (Special Strategic Partnership) বা ‘বিশেষ কৌশলগত অংশীদারিত্ব’-এর পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। ফলে ইজরায়েলে সরকার বদল হলেও দীর্ঘদিনের প্রতিরক্ষা ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা হঠাৎ থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা কম।
তবে নতুন সরকার এলে কূটনৈতিক অবস্থান ও গাজার পরিস্থিতি নিয়ে ইজরায়েলের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সুর বদলাতে পারে। বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু (Benjamin Netanyahu) ক্ষমতায় থাকুন বা আইজেনকট সরকার গড়ুন, ইরান ও হামাসের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান বজায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
আরও পড়ুন: একাধিক ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করেন? এতে কী প্রভাব পড়বে ক্রেডিট স্কোরে; বাড়বে আপনার আর্থিক ঝুঁকি?
ভারতের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ পশ্চিম এশিয়ার স্থিতিশীলতা। ইজরায়েল-ইরান সংঘাত নতুন করে বাড়লে উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ, তেলের দাম এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যপথ প্রভাবিত হতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে ভারতের অর্থনীতি ও জ্বালানি আমদানিতে। তাই ইজরায়েলের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক মজবুত রাখার পাশাপাশি ইরান ও আরব দেশগুলির সঙ্গেও ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখা নয়াদিল্লির কাছে বড় কূটনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
RG Kar News | আরজি কর হাসপাতালে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় সুমন হাজরার জামিন
Post Comment