UPI-এর ১০ বছর পূর্তি ! রিয়েল টাইম পেমেন্টে বিস্ময় সৃষ্টিকারী, ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিতে দারুণ গতি দিয়েছে

UPI-এর ১০ বছর পূর্তি ! রিয়েল টাইম পেমেন্টে বিস্ময় সৃষ্টিকারী, ভারতের ডিজিটাল অর্থনীতিতে দারুণ গতি দিয়েছে

Last Updated:

দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে UPI পেমেন্ট সিস্টেম অসাধারণ গতিতে এগিয়ে চলেছে। বার্ষিক লেনদেনের সংখ্যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাত্র ২ কোটি থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৪,১৬২ কোটিরও বেশি হয়েছে ৷ অর্থাৎ লেনদেনের সংখ্যায় প্রায় ১২,০০০ গুণ বৃদ্ধি।

UPI-এর ১০ বছর পূর্তি
UPI-এর ১০ বছর পূর্তি

কলকাতা: ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI), যেটা ২০১৬ সালের ১১ এপ্রিল ন্যাশনাল পেমেন্টস কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া (NPCI) রিজার্ভ ব্যাঙ্কের (RBI) নিয়ন্ত্রণে চালু করেছিল, সেটা এখন ভারতের ডিজিটাল পেমেন্টস ইকোসিস্টেমের মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছে।

দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে UPI পেমেন্ট সিস্টেম অসাধারণ গতিতে এগিয়ে চলেছে। বার্ষিক লেনদেনের সংখ্যা ২০১৬-১৭ অর্থবছরে মাত্র ২ কোটি থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ২৪,১৬২ কোটিরও বেশি হয়েছে ৷ অর্থাৎ লেনদেনের সংখ্যায় প্রায় ১২,০০০ গুণ বৃদ্ধি। পাশাপাশি, লেনদেনের মূল্যও অনেকাংশে বেড়েছে—২০১৬-১৭ অর্থবছরে ০.০৭ লাখ কোটি টাকা থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৩১৪ লাখ কোটি টাকা, অর্থাৎ লেনদেনের মূল্যে ৪,০০০ গুণেরও বেশি বৃদ্ধি ৷ এমনটাই কেন্দ্রের অর্থ দফতরের পক্ষ থেকে এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

একসঙ্গে এই সংখ্যা আর মূল্যের বৃদ্ধি দেখায়, UPI কিভাবে বেশি ফ্রিকোয়েন্সির খুচরো লেনদেনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিচ্ছে। UPI-র এই নজিরবিহীন স্কেল, নির্ভরযোগ্যতা আর ইন্টারঅপারেবিলিটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পেয়েছে, International Monetary Fund (IMF) এটাকে লেনদেনের সংখ্যার দিক থেকে বিশ্বের সবচেয়ে বড় রিয়েল-টাইম পেমেন্ট সিস্টেম হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে ৷

২০২৫ সাল ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস (UPI)-এর বৃদ্ধির পথে একটা গুরুত্বপূর্ণ মাইলস্টোন হিসেবে চিহ্নিত হয়। অগাস্ট ২০২৫-এ মাসিক লেনদেনের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ২,০০০ কোটি ছাড়িয়ে যায়, যেখানে ২,০০১ কোটি লেনদেন হয়, যা নতুন মাত্রার গ্রহণযোগ্যতার ইঙ্গিত দেয়। এই গতি বছরজুড়ে অব্যাহত ছিল, আর ডিসেম্বর ২০২৫-এ ২,১৬৩ কোটি লেনদেন হয়, যা UPI-এর দশ বছরের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি মাসিক লেনদেন।

চা খেয়ে ১০ টাকা ইউপিআই পেমেন্ট করেছেন। NPCI সেই লেনদেন প্রক্রিয়া শুরু করল। আপনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেটে নিল। যাঁকে টাকা পাঠালেন তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে গেল। ২০২০ সালের আগে ডিজিটাল পেমেন্টে মার্চেন্ট ডিসকাউন্ট রেট বসানো হত। আপনি অনলাইনে কোনও টাকা কোনও ব্যবসায়ীকে পাঠালে ১.৫ থেকে ৩ শতাংশ পর্যন্ত এমডিআর দিতে হত ব্যবসায়ীদের। কিন্তু পাড়ার ছোট দোকান চলে ৫ শতাংশ লাভে। সেই সব দোকান যদি এই এমডিআর দেয় তাহলে লাভ হবে কীভাবে? এই কথা ভেবে কেন্দ্র ২০২০ সালের জানুয়ারি মাসে ইউপিআই এবং রুপে-র উপর থেকে এমডিআর তুলে নেয়। ফল, দেশের ৮৪ শতাংশ খুচরো ডিজিটাল পেমেন্ট হয় ইউপিআইয়ের মাধ্যমে। ‘বিনামূল্যে’ ডিজিটাল পেমেন্টের আসল খরচ যতটা সহজ মনে হয়, তার চেয়ে অনেক বেশি জটিল। ইউপিআই ব্যবহারকারীর কাছ থেকে কোনও চার্জ না নিয়ে বছরে ৩০০ লক্ষ কোটির টাকার বেশি লেনদেন করে। এই পরিকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণে খরচ হয়েচে গত চার বছরে ৮,২৭৬ কোটি টাকা। পুরোটাই হয় সরকারি ভর্তুকি এবং করদাতাদের তহবিলের মাধ্যমে।

Post Comment

You May Have Missed