Thunder Lightning Death: সংসারের একমাত্র রোজগেরে মানুষকে কেড়ে নিল নিয়তি, নিমেষে শেষ মহিলার জীবন! বজ্রাঘাতে মর্মান্তিক পরিণতি

Thunder Lightning Death: সংসারের একমাত্র রোজগেরে মানুষকে কেড়ে নিল নিয়তি, নিমেষে শেষ মহিলার জীবন! বজ্রাঘাতে মর্মান্তিক পরিণতি

Last Updated:

Thunder Lightning Death: ধানক্ষেতে কাজ করার সময় বজ্রাঘাতে এক মহিলা শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যু। রামগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা ছায়া বর্মন বুধবার সকালে অন্যান্য দিনমজুরদের সঙ্গে ধান রোপণের কাজ করছিলেন। আচমকা আবহাওয়ার পরিবর্তন হয়ে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তিনি পরিবারের একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তি ছিলেন, যার ফলে পরিবারটি চরম আর্থিক সংকটের মুখেও পড়ল।

ঘটনার পরে স্থানীয়রা ওই মহিলার দেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসছেন
ঘটনার পরে স্থানীয়রা ওই মহিলার দেহ উদ্ধার করে নিয়ে আসছেন

উত্তর দিনাজপুর, ঋত্বিক ভট্টাচার্য: সকাল থেকেই আকাশ ছিল মেঘলা। তবুও জীবিকার তাগিদে অন্য দিনের মতোই ধান রোপণের কাজে মাঠে নেমেছিলেন ছায়া বর্মন। কে জানত, সেই কর্মব্যস্ত সকালই হয়ে উঠবে তাঁর জীবনের শেষ দিন! উত্তর দিনাজপুর জেলার ইসলামপুর ব্লকের রামগঞ্জ-২ গ্রাম পঞ্চায়েতের পশ্চিম ধুররা গ্রামে বজ্রাঘাতে এক মহিলা শ্রমিকের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মৃতার নাম ছায়া বর্মন। তিনি রামগঞ্জ আদালগছ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার অন্যান্য শ্রমিকদের সঙ্গে একটি ধানখেতে ধান রোপণের কাজ করছিলেন তিনি।

কৃষিকাজে ব্যস্ত থাকার মাঝেই আচমকা আবহাওয়ার পরিবর্তন হয় এবং মুহূর্তের মধ্যে বিকট শব্দে বজ্রপাত ঘটে। সেই বজ্রাঘাতেই গুরুতর আহত হন ছায়া বর্মন। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক হয়ে পড়েন মাঠে উপস্থিত অন্য শ্রমিকরা। তাঁরা দ্রুত ছুটে গিয়ে ছায়া বর্মনকে উদ্ধার করার চেষ্টা করেন। তবে স্থানীয়দের দাবি, বজ্রপাতের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে শোকের আবহ তৈরি হয় এবং বহু মানুষ ঘটনাস্থলে ভিড় জমান। পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীদের বক্তব্য, ছায়া বর্মন ছিলেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে ব্যক্তি।

আরও পড়ুন: যেন সরস্বতীর বরপুত্র, তালিম ছাড়াই এই শিল্পী ক্যানভাসকে করে তোলেন জীবন্ত

দিনমজুর হিসেবে বিভিন্ন কৃষিকাজ করে তিনি সংসারের সমস্ত দায়িত্ব বহন করতেন। তাঁর উপার্জনের ওপরই নির্ভরশীল ছিল গোটা পরিবার। ফলে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুতে শুধু মানসিক নয়, চরম আর্থিক সংকটের মুখেও পড়েছে পরিবারটি। গ্রামবাসীদের দাবি, অবিলম্বে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ এবং সরকারি সাহায্যের ব্যবস্থা করা হোক। তাঁদের বক্তব্য, প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রাণ হারানো এই শ্রমজীবী পরিবারের পাশে দাঁড়ানো সরকারের নৈতিক দায়িত্ব। পাশাপাশি ভবিষ্যতে বজ্রপাতের সময় কৃষকদের সতর্ক করতে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি উঠেছে।

আপনার শহরের হাসপাতাল এবং চিকিৎসকদের নামের তালিকা পেতে এখানে Click করুন

ঘটনার খবর পেয়ে রামগঞ্জ ফাঁড়ির পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। প্রাথমিকভাবে এটিকে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনাই বলে মনে করা হলেও সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে। উল্লেখ্য, বর্ষাকালে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতের ঘটনা বাড়তে দেখা যায়। বিশেষজ্ঞরা বারবার খোলা মাঠে কাজ করার সময় আবহাওয়ার পূর্বাভাসের দিকে নজর রাখার পরামর্শ দিলেও জীবিকার তাগিদে বহু কৃষিশ্রমিক সেই ঝুঁকি নিয়েই কাজ করতে বাধ্য হন। আর সেই বাস্তবতারই এক মর্মান্তিক উদাহরণ হয়ে রইল ছায়া বর্মনের মৃত্যু, যা নতুন করে গ্রামীণ নিরাপত্তা ও ক্ষতিপূরণ ব্যবস্থাকে নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিল।

Post Comment

You May Have Missed