Murshidabad News: ৪ বছরের মেয়ের মৃত্যুতেও নির্বিকার, মুর্শিদাবাদে শিশুকন্যাকে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার সৎ মা

সৎ কন্যাকে খুনের দায়ে ইতিমধ্যেই সাগরপাড়া থানার পুলিশ অভিযুক্ত ওই মহিলাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই মহিলার নাম মৌসুমী খাতুন। তার বিরুদ্ধে নিজের সৎ কন্যা ফারজানা খাতুনকে (৪) শ্বাসরোধ করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রায় তিন বছর আগে ফারজানার মা শিল্পী খাতুন অন্য এক যুবককে বিয়ে করে বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়। এরপর ফারজানার বাবা আখতার হোসেন, মৌসুমী খাতুন নামে এক মহিলাকে বিয়ে করেন। অন্যদিকে আখতার এবং শিল্পীর এক কন্যা এবং পুত্র সন্তান রয়েছে।

আখতারের পরিবারের দাবি, বাড়িতে দুই নাবালক সন্তান থাকায় তার কাজে যেতে অসুবিধা হতো বলেই সকলের মত নিয়ে সে দ্বিতীয়বার বিয়ে করেছিল। পরিবারের আর্থিক হাল ফেরানোর জন্য প্রায় তিন মাস আগে আখতার কেরলে একটি কাপড় তৈরির কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করার জন্য যান।

শনিবার সকালে হঠাৎই অচৈতন্য অবস্থায় ঘরের মধ্যে থেকে ছোট্ট ফারজানাকে উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। ঘটনার খবর পেয়ে সাগরপাড়া থানার পুলিশ বাহিনী এলাকায় পৌঁছে মৌসুমী খাতুনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে নিয়ে আসে। বহরমপুরে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ফারজানার দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, কোনও আক্রোশ অথবা রাগ থেকে চার বছরের ফারজানাকে তার সৎ মা মৌসুমী খাতুন শ্বাসরোধ করে খুন করেছে।

সাব্বির শেখ নামে গ্রামের এক বাসিন্দা জানান,” ফারজানা খাতুন স্থানীয় একটি আইসিডিএস কেন্দ্রে পড়াশোনা করত। আজ মৃত্যুর কিছুক্ষণ আগেও ওই আইসিডিএস কেন্দ্রের শিক্ষিকা ফারজানার বাড়িতে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে এসেছিলো সে স্কুলে যাবে কিনা। সেই সময় মৌসুমী জানিয়েছিল আজ ফারজানা স্কুলে যাবে না, আগামিকাল থেকে তাকে সে স্কুলে পাঠাবে।”

তিনি বলেন,” এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ফারজানার এক জেঠু তাকে কোলে করে নিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে যান। কিন্তু কিছুদূর যাওয়ার পরই সে আবার ফিরে আসেন এবং বলেন ফারজানা মারা গিয়েছে। গ্রামের বাসিন্দাদেরকে বলা হয়েছিল ফারজানা ঘুমের ওষুধ খেয়ে নিয়েছে।”

কয়েকজন গ্রামবাসী জানান, ফারজানার নাবালক দাদাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁরা জানতে পারেন, মাঝে মধ্যেই তাদের সৎ মা, মৌসুমী, দু’জনকেই প্রচণ্ড মারধর করত। বিশেষ করে ফারজানার উপর বেশি অত্যাচার হত। মৃত্যুর পর ফারজানার শরীরে মারধরের একাধিক চিহ্ন  নজরে এসেছে বলে অভিযোগ।

গ্রামবাসীরা আরও জানান, ফারজানার দেহ যখন বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় তখন সবাই কান্নায় ভেঙে পড়লেও মৌসুমীর মধ্যে কোনওরকম বিকার ছিল না। সে স্বাভাবিকই ছিল। সেই কারণে সকলের সন্দেহ হওয়ায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হয়।

গ্রামবাসীরা আরও জানিয়েছেন, কন্যা ফারজানার মৃত্যুর খবর এখনও আখতার পায়নি। তাঁর সঙ্গে ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্টা হলেও পরিবারের লোকেরা কথা বলতে পারেননি। কয়েকজন গ্রামবাসী জানিয়েছেন , আখতার কেরলে চলে যাওয়ার পর রাতের বেলায় দীর্ঘক্ষন মৌসুমী কোনও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির সঙ্গে ফোনে দীর্ঘক্ষণ কথা বলত। ফারজানার মৃত্যুর সঙ্গে এই ঘটনার কোনও যোগসূত্র রয়েছে কিনা গ্রামবাসীরা তা তদন্ত করে দেখার জন্য পুলিশকে অনুরোধ করেছেন।

Previous post

Firecrackers Fair: স্কাইশট থেকে কালার কটি…! বাঁকুড়ায় এক ছাদের তলায় বাজির মেলা, নাম শুনলেই কিনতে ইচ্ছে করবে

Next post

অভিষেকের বাড়ির সামনের রাস্তায় ফুটপাথ ‘দখল’! কালীপুজোর আগে মাথায় হাত কালীঘাটের পটুয়া পাড়ার

Post Comment

You May Have Missed