Money Making Tips: পুরনো জামাকাপড় ফেলে না দিয়ে শুরু হয়েছে দেদার ইনকাম, কোন কাজে লাগছে? জানুন ভাগ্য বদলের ‘গোপন’ ব্যবসা
Last Updated:
Money Making Tips: বাড়ি বাড়ি থেকে বাতিল শাড়ি ও পোশাক সংগ্রহ করে চলছে রমরমা ব্যবসা! কলকারখানা থেকে পান বরজ, নদীয়ার বীরনগর, তাহেরপুরের হকার ও ব্যবসায়ীদের হাত ধরে পুরনো কাপড় কীভাবে লাভজনক সম্পদে পরিণত হচ্ছে, জানুন।
বীরনগর, নদিয়া, মৈনাক দেবনাথ: উৎসব কিংবা পুজোর মরশুমে নতুন পোশাক কেনার আনন্দের পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারেই জমা হতে থাকে পুরোনো শাড়ি ও জামাকাপড়। এক সময় বাতিল এই বস্ত্র বিনা মূল্যে অন্যকে দান করার চল থাকলেও, বর্তমানে তা গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক সুসংগঠিত ও লাভজনক ব্যবসার রূপ নিয়েছে। বাড়ি বাড়ি ঘুরে পুরোনো কাপড় সংগ্রহ থেকে শুরু করে পাইকারি বাজারে বিক্রি, এই বৃত্তকে কেন্দ্র করে আজ বহু মানুষের জীবিকা নির্বাহ হচ্ছে।
পাড়া-গাঁয়ে ঘুরে ঘুরে হকার বা ফেরিওয়ালারা গৃহস্থের বাড়ি থেকে বাতিল শাড়ি ও জামাকাপড় সংগ্রহ করেন। গৃহবধূরা অনেক সময় নগদ টাকার বিনিময়ে তা বিক্রি করেন, আবার কখনও পুরনো কাপড়ের বদলে সংসারের প্রয়োজনীয় নানা বাসনপত্র ও সামগ্রী নিয়ে নেন। সংগ্রহ করা এই কাপড় ফেরিওয়ালারা স্থানীয় আড়তে এনে বিক্রি করেন। ক্ষেত্রবিশেষে মান ও ধরন অনুযায়ী প্রতিটি কাপড় ১০ থেকে ১৫ টাকা কিংবা ২০ থেকে ২২ টাকা দরে হাতবদল হয়। স্থানীয় স্তরে সামান্য লাভে এই ব্যবসা চলার পর বড় মহাজনদের হাত ধরে তা পৌঁছে যায় বৃহত্তর বাজারে।
১৫ বছর ধরে এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত নদিয়ার ব্যবসায়ী ব্রজ গোপাল বসাক জানান, পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে হকারদের এনে দেওয়া কাপড় জমা হওয়ার পর বড় মহাজনরা গাড়ি নিয়ে এসে মাল তুলে নিয়ে যান। কেবল কোনও একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলে নয়, তাহেরপুর, বীরনগর, বাদকুল্লার মতো একাধিক এলাকায় এখন এই ব্যবসার জাল ছড়িয়ে পড়েছে। তাঁর কথায়, পুরনো সুতির কাপড় মণ্ডপ তৈরির মূল কাজে না লাগলেও বিভিন্ন কলকারখানা এবং কাপড়ের মিলে যন্ত্রাংশ মোছার কাজে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। ছোট গাড়ি বা বড় লরি বোঝাই হয়ে এই সমস্ত কাপড় কারখানাগুলিতে সরবরাহ করা হয়।
অন্যদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীদের বক্তব্য অনুযায়ী কৃষিক্ষেত্রেও পুরনো কাপড়ের বিপুল চাহিদা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে পানের আড়তে পান বরজের পাতা বাঁধাই এবং ফসলের খেত ঘিরে সুরক্ষার জন্য এই বস্ত্র ব্যবহার করা হয়। এছাড়া বিভিন্ন কাজে শক্ত দড়ি তৈরিতেও বাতিল কাপড়ের ব্যবহার বাড়ছে। ফেলে দেওয়া কাপড়কে কেবল বর্জ্য হিসেবে না দেখে পুনর্ব্যবহারযোগ্য সম্পদে পরিণত করার এই প্রক্রিয়া যেমন পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করছে, তেমনই প্রান্তিক মানুষের আয়ের এক নতুন দিশা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
Post Comment