Bangla News: কালীপুজোয় চাহিদা তুঙ্গে তবুও স্বস্তি নেই কালনায়! যে কারণে সংকটে ঐতিহ্যবাহী বাতাসা-কদমা শিল্প, জানুন

Last Updated:

Bangla News: কালীপুজোয় চাহিদা থাকলেও সংকটে কালনার বাতাসা শিল্প! চিনির দাম বৃদ্ধি ও পুঁজির অভাবে অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে কারিগররা, সরকারি ঋণের দাবি।

+

বাতাসা-কদমা শিল্পে সংকট

কালনা, বনোয়ারীলাল চৌধুরী: গ্রামবাংলার নামসংকীর্তনে হরিলুঠের বাতাসা থেকে শুরু করে গরমের দিনে এক টুকরো জল-বাতাসা কিংবা বিভিন্ন পুজোর প্রসাদ, বাঙালির জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রয়েছে বাতাসা। বিশেষ করে কালীপুজোর আগে বাতাসা, নকুলদানা, মুরকি ও কদমার চাহিদা বাড়ে বেশ কয়েক গুণ। কালনার উঁচু জাপট এলাকার তৈরি এই সমস্ত সামগ্রী শুধু শহরেই নয়, পাড়ি দিচ্ছে ভিন জেলাতেও। কিন্তু বাজারে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ক্রমশ কমছে লাভের অঙ্ক। চিনির দাম লাগামছাড়া হওয়ায় বেড়েছে উৎপাদন খরচ, সেই সঙ্গে রয়েছে পুঁজি ও শ্রমিকের অভাব। ফলে ইচ্ছা থাকলেও চাহিদা অনুযায়ী বেশি পরিমাণে সামগ্রী তৈরি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। বছরের পর বছর ধরে এই ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে রীতিমতো লড়াই করতে হচ্ছে তাঁদের।

ব্যবসায়ী দিবেন্দ্যু পাল বলেন, “ব্যবসা করছি তবে আমাদের অবস্থা খুব একটা ভাল নয়।” শুধু মালিকপক্ষই নন, এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত কারিগরদের জীবনেও রয়েছে অনিশ্চয়তা। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত পরিশ্রম করে কোনওদিন ৩০০, কোনও দিন ৩৫০, আবার কোনও দিন ৪০০ টাকা পর্যন্ত রোজগার হয় তাঁদের। কিন্তু প্রতিদিন কাজ মেলে না। ফলে সংসার চালাতে ভরসা করতে হয় কাজের অনিশ্চিত আয়ের উপর। কারিগরদের কথায়, নিয়মিত কাজ পেলে তাঁদেরও সংসারে কিছুটা স্বস্তি ফিরত। শিল্পের প্রসার ঘটলে বাড়ত কাজের সুযোগও।

আরও পড়ুন: ঘন জঙ্গল, দুর্ধর্ষ ডাকাতদের ডেরা! স্বপ্নাদেশে কীভাবে বদলে গেল এই প্রাচীন পুজো? ময়ূরেশ্বরের ‘ডাকাত কালী’র অলৌকিক ইতিহাস

কারিগর মন্টু সেন বলেন, “সরকারিভাবে লোনের সুবিধা পেলে আমাদের খুব সুবিধা হবে।” সব মিলিয়ে কালীপুজোর মুখে বাজারে চাহিদা থাকলেও কালনার এই প্রাচীন মিষ্টি তৈরির শিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা কাটছে না মালিক থেকে শ্রমিক কারও। তাঁদের দাবি, সরকার যদি সহজ শর্তে ভর্তুকিযুক্ত ঋণের ব্যবস্থা করে, তাহলে নতুন করে পুঁজি বিনিয়োগ করে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি এই শিল্পকে কেন্দ্র করে স্থানীয় যুবক-যুবতীদের কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হতে পারে। তাই শুধু উৎসবের মরশুমে বাড়তি বিক্রির আশায় নয়, বছরের পর বছর ধরে নিজেদের পেশা ও ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রাখার স্বপ্ন নিয়ে এখন নতুন সরকারের সহযোগিতার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন কালনার বাতাসা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত মানুষজন।

Previous post

হরমুজ প্রণালী ব্যবহারে ভারত-সহ ৪ দেশের বাণিজ্যিক জাহাজ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত ইরানের

Next post

Tourist Attraction: পর্যটকদের জন্য তৈরি হচ্ছে মনোরম রিভার বিচ, গার্লফ্রেন্ড ছাড়া ভাল হয়ে যাবে মন! কোথায় যেতে হবে? ঠিকানা জানুন

Post Comment

You May Have Missed